কক্সবাজার প্রতিনিধি : ১৮ দিন পর কক্সবাজারে ফেরত আসা অভিবাসীদের আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার পুলিশ প্রশাসন।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ জানান, ফিরিয়ে আনা বাংলাদেশিদের ফিঙ্গার প্রিন্ট নেয়া থেকে অন্যান্য আইনগত কাজ চলছে। এ কাজ শেষে বলা যাবে তাদের ব্যাপারে কী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। প্রত্যেকের ঠিকানা সঠিকভাবে তদারকি চলছে। তাদের কেউ অপরাধে জড়িত ছিল কি না খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ১৫০ জনের মধ্যে কেউ অপরাধী থাকলে তাকে ছাড় দেয়া হবে না। কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ডরমেটরিতে তাদের রাখা হয়েছে।
তবে এদের ব্যাপারে কোনো মামলা হচ্ছে না কি না জানতে চাইলে তিনি জানান, এ ব্যাপারে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
উল্লেখ্য, ৮ জুন সোমবার বেলা ১১টায় বান্দরবানের ঘুমধুম সীমান্ত দিয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবির) ১০ সদস্যের প্রতিনিধিদল মিয়ানমার যান। ঢেকিবনিয়া সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও মিয়ানমারের ইমিগ্রেশন বিভাগের সঙ্গে পতাকা বৈঠক হয়। এ বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বিজিবি ১৭ ব্যাটালিয়ান কমান্ডার লে. কর্নেল সাইফুল আলাম। মিয়ানমারের পক্ষে নেতৃত্ব দেন মংডু ইমিগ্রেশন বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর সাউ নাইং।
এছাড়া বিজিবির কক্সবাজার সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো. খালেকুজ্জামান ও মিয়ানমারের ত্রাণ ও পুনর্বাসন অধিদপ্তরের উপ-মহা পরিচালক নাই পে টৌ পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
পতাকা বৈঠকের মধ্য দিয়ে সোমবার তাদের নিজ দেশের মাঠিতে ফিরিয়ে আনে বিজিবি। ওই দিন সন্ধ্যায় ১৫০ বাংলাদেশিকে জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তারা বর্তমানে কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে রয়েছে।
মিয়ানমার থেকে ফিরিয়ে আনা ১৫০ বাংলাদেশির মধ্যে কক্সবাজার জেলার ২৯, নরসিংদীর ৫৬, ঝিনাইদহের ১২, টাঙ্গাইলের ৩, চট্টগ্রামের ৮, চুয়াডাঙ্গার ৪, নারায়ণগঞ্জের ৪, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৬, বান্দরবানের ৯, কুমিল্লার ১, চাঁদপুরের ১, রাজবাড়ীর ২, যশোরের ২, পাবনার ৫, বাগেরহাটের ৪, হবিগঞ্জের ১ ও নাটোরের ১ জন বাসিন্দা রয়েছে।
গত ২১ মে সাগরে ভাসমান অবস্থায় থাকা ২৮৪ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করে মায়ানমারের নৌবাহিনী। পরে তারা দাবি করে এদের ২০০ জন বাংলাদেশি। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১১ সদস্যের বিজিবির একটি প্রতিনিধি দলের গত ২৪ মে মায়ানমার যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু উদ্ধারকৃতদের বাংলাদেশে ফেরত নিতে হবে বলে মায়ানমার দাবি করলে বিজিবির মায়ানমার সফর স্থগিত করা হয়।
এরপর বিজিবি উদ্ধারকৃতদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা চেয়ে পাঠালে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ যে তালিকা পাঠায় তা ছিল বিভ্রান্তিকর ও অপূর্ণাঙ্গ। তালিকাটি ওইদিনই বিজিবির সদর দপ্তর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয় এবং পূর্ণাঙ্গ তালিকা চেয়ে মায়ানমারের কাছে আরেকটি চিঠি পাঠায় বিজিবি। পরে তাদের পাঠানো ২০০ জনের তালিকা থেকে যাচাই-বাছাই করে ১৫০ জনকে বাংলাদেশি হিসেবে সনাক্ত করা হয়।

