অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : প্রস্তাবিত ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেট সাহসী, আশাব্যঞ্জক হলেও চ্যালেঞ্জিং বলে মনে করছে ইন্টারন্যাশানাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশ (আইবিএফবি)।
সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে প্রস্তাবিত বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে আইবিএফবির প্রেসিডেন্ট হাফিজুর রহমান খান একথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘বাজেটের আকার পর্যায়ক্রমে বাড়ছে বলে প্রস্তাবিত বাজেটকে সাহসী বলা যায়। তবে এ বাজেট বাস্তাবায়ন চ্যালিঞ্জিং বলে মনে করে আইবিএফবি।’
হাফিজুর রহমান বলেন, ‘এ ধরনের বিশালাকার বাজেট বাস্তবায়নের জন্য সরকারের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অতীতের ভুল ভ্রান্তি সংশোধন পূর্বক একটি সুষ্ঠু প্রতিযোগিতাপূর্ণ ও অর্থনীতিবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা একান্ত জরুরি। এছাড়া আইবিএফবি মনে করে, প্রস্তাবিত বাজেটের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং দিকটি হলো প্রাক্কলিত অর্থের আহরণ ও তার যথার্থ ব্যবহার, যার মধ্যে বিশেষত: রাজস্ব আদায় ও যথাযথভাবে সরকারি ব্যয় নির্বাহের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের সক্ষমতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এফবিএফবিয়ের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘এবারের বাজেটে উন্নয়ন খাতে বেশি বরাদ্দ দেয়া প্রয়োজন ছিল। কাঙ্ক্ষিত জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য বেসরকারি খাতের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া আইবিএফবি মনে করে, একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় দেশীয় উদ্যোক্তাদের বিদেশে বিনিয়োগের সুযোগ দেয়াও এখন সময়ের দাবি।’
তিনি বলেন, ‘আইবিএফবি মনে করে, শিক্ষা ও চিকিৎসা খাতে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো উচিৎ। একই সঙ্গে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল ও প্রকৌশল কলেজগুলোতে প্রস্তাবিত ১০ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর কমানো উচিৎ। যাতে এ খাতে আরও বেশি বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করা যায়।’
পোশাক খাতের করের বিষয়টি উল্লেখ করে হাফিজুর রহমান বলেন, ‘তৈরি পোশাক রপ্তানি বাবদ মোট রপ্তানি মূল্যের উপর বিদ্যমান ০ দশমিক ৩ শতাংশের পরিবর্তে এক লাফে ১ শতাংশ হারে উৎস কর নির্ধারণ না করে তা ধাপে ধাপে বৃদ্ধি করা উচিৎ। এছাড়া করপোরেট কর আরও কমিয়ে ২০ শতাংশ নির্ধারণ করলে ভালো হতো।’
এদিকে পুঁজিবাজারসহ দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য আইবিএফবি শিগগিরি ফাইনান্সিয়াল রিপোটিং অ্যাক্ট প্রণয়ন ও তা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য জোর দাবি জানায় আইবিএফবি। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

