ঢাকাMonday , 8 June 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিবিআইএন মোটরযান চুক্তির খসড়া উঠছে মন্ত্রিসভায়

Link Copied!

cavinetনিজস্ব প্রতিবেদক : দক্ষিণ এশিয়ার সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সড়ক নেটওয়ার্ক বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটানের (বিবিআইএন) মধ্যে সড়ক পথে পণ্য ও যাত্রীবাহী মোটরযানের পাশাপাশি ব্যক্তিগত যানবাহন নিয়েও চলাচল করা যাবে।
এ লক্ষ্যে বিবিআইএন এমভিএর ( মোটর ভেহিক্যাল অ্যাগ্রিমেন্ট) খসড়া চূড়ান্ত করা করেছে। খসড়াটি অনুমোদনের জন্য আজ সোমবার এটি মন্ত্রিসভায় ওঠার কথা রয়েছে বলে সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
খসড়া অনুমোদনের পর আগামী ১৫ জুন ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে চার দেশের সড়ক পরিবহনমন্ত্রীদের সম্মেলনে ‘বিবিআইএন মোটর ভেহিক্যাল অ্যাগ্রিমেন্ট (এমভিএ)’ স্বাক্ষরিত হবে।
এই চুক্তির আওতায় কোনো বাঁধা ছাড়াই এক দেশ থেকে আরেক দেশে পণ্যবাহী গাড়ি (ট্রাক, টেইলার), যাত্রীবাহী বাস বা ব্যক্তিগত মোটরযান প্রবেশ করতে পারবে।
এক্ষেত্রে প্রতিটি গাড়ির জন্য পৃথক ট্রানজিট ফি দিতে হবে। পাশাপাশি পণ্যবাহী গাড়ির জন্য পৃথক কর ও শুল্ক দিতে হবে। এছাড়া প্রতিটি পণ্যবাহীর গাড়ির ট্রানজিটের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশকে আর্থিক গ্যারান্টিও দিতে হবে। প্রতিটি দেশে গাড়ি প্রবেশের ক্ষেত্রে নিজ নিজ কাস্টমস নীতিমালা অনুসরণ করবে। এসব শর্ত রেখে বিবিআইএন এমভিএর খসড়া চূড়ান্ত করেছে।
জানা গেছে, গত বছর নভেম্বরে সার্ক সম্মেলনে আট দেশের মধ্যে সইয়ের জন্য সার্ক এমভিএ উত্থাপন করা হয়। তবে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার প্রস্তুতির অভাবে তা অনুমোদন হয়নি। সেই চুক্তির ভিত্তিতে বিবিআইএম এমভিএর খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে।
এজন্য গত ২-৩ ফেব্রুয়ারি ভারতের কলকাতায় এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মোটরযান চলাচলে অন্য দেশকে সুযোগ দিতে চার দেশ একমত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৯ এপ্রিল ভারতের চেন্নাইয়ে দ্বিতীয় দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটান ছাড়াও মালদ্বীপ বা শ্রীলঙ্কায় পণ্য রপ্তানি-আমদানিতে সমুদ্রবন্দর ব্যবহারের বিধানও রাখা হয়েছে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশকে নির্ধারিত চার্জ পরিশোধ সাপেক্ষে বন্দরে পণ্য খালাস বা লোডের অনুমতি দিতে হবে। নিয়মিত যাত্রী ও অনিয়মিত যাত্রীদের জন্য পৃথক ছাড়পত্র অনুমোদন করবে সদস্য দেশগুলো। এজন্য চুক্তির সঙ্গে ফর্মের ছকও নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে বলে সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়।
এছাড়া বিবিআইএন মোটরযান চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে গাড়ি প্রবেশ ও প্রস্থানের সম্ভাব্য রুটগুলো এরই মধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রথম রুটটি হলো কলকাতা থেকে পেট্রাপোল, বেনাপোল, ঢাকা হয়ে আখাউড়া দিয়ে আগরতলা। দ্বিতীয় রুট হিসেবে রয়েছে আগরতলা, আখাউড়া হয়ে চট্টগ্রাম বন্দর। তৃতীয় রুটটি ভারতের শিলচর থেকে সিলেটের সুতারকান্দি, পাটুরিয়া ফেরি পার হয়ে বেনাপোল দিয়ে কলকাতা।
রুটগুলোতে ভারত-বাংলাদেশ-ভারত যুক্ত হবে। ভুটান-ভারত-বাংলাদেশ রুটে হবে দুটি। প্রথমটি ভুটানের সামদ্রুপ জংখার থেকে ভারতের গৌহাটি, শিলং, সিলেটের তামাবিল হয়ে চট্টগ্রাম এবং দ্বিতীয়টি থিম্পু থেকে ফুয়েন্টশোলিং, ভারতের জাইগাও হয়ে বুড়িমারি স্থলবন্দর দিয়ে চট্টগ্রাম বা মংলা বন্দর যাবে। কাঠমান্ডু থেকে কাকারভিটা হয়ে ফুলবাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে চট্টগ্রাম বা মংলা বন্দর পথে যুক্ত হবে নেপাল।
চুক্তি অনুযায়ী, এক দেশের গাড়ি আরেক দেশে চলাচলে কারিগরি বিষয়গুলো চুক্তির আওতায় নির্ধারিত হবে। এক্ষেত্রে গাড়ির ধরন, সর্বোচ্চ ওজন ও এঙ্গেল লোড, নির্গত গ্যাসে বায়ু দূষণের গ্রহণযোগ্য মাত্রা ও সংশ্লিষ্ট অন্য বিষয় থাকবে। অতিরিক্ত নিরাপত্তার জন্য দুই দরজা বিশিষ্ট মোটরযান, অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র ইত্যাদি নিশ্চিত করতে হবে।
এক দেশ থেকে অন্য দেশে প্রবেশের আগে প্রয়োজনীয় কারিগরি বিষয় নিশ্চিত ও তা যাচাই করতে হবে। সদস্য দেশগুলো অতিক্রমের ক্ষেত্রে প্রতিটি পণ্যবাহী গাড়িকে ট্রানজিট কনসাইনমেন্টের জন্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত ছাড়পত্র নিতে হবে। এছাড়া এক দেশে থেকে অন্য দেশে প্রবেশ ও বের হওয়ার ক্ষেত্রে রিলিজ অর্ডার ইস্যু করতে হবে।
এর পাশাপাশি প্রতিটি দেশের জন্য প্রযোজ্য অন্য কোন কাগজপত্রও প্রয়োজন অনুযায়ী সংগ্রহ করতে হবে। পাশাপাশি কাস্টমস ও অন্য নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিধান পালন করতে হবে। পণ্যবাহী গাড়ি চলাচলের ক্ষেত্রে পথিমধ্যে মালামাল চুরি বা নষ্ট হওয়ার নিরাপত্তা দেবে সংশ্লিষ্ট দেশ। এজন্য সংশ্লিষ্ট দেশকে আর্থিক গ্যারান্টি দিতে হবে। চুক্তির আওতায় প্রতিটি বিষয় দেখাশোনা ও যাচাই-বাছাইয়ে প্রতিটি দেশ জাতীয় স্থল পরিবহন সহায়তা কমিটি গঠন করবে।
এছাড়া চুক্তির আওতায় মোটরনযানকে প্রতিটি দেশে চলাচল ও অবস্থানের ক্ষেত্রে ওই দেশের পরিবহন আইন মানতে হবে। দেশগুলোতে গাড়ি চালানোর জন্য চালকের বিশেষ ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকতে হবে, যা সমন্বয় কর্তৃপক্ষ অনুমোদন করবে। এছাড়া দুর্ঘটনার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে গাড়ির আঞ্চলিক বীমার বাধ্যতামূলক শর্ত রাখা হয়েছে।
সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বিবিআইএন এমভিএর খসড়া চূড়ান্ত করতে গত ৭ মে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে গাড়ির নিরাপত্তা, ট্রানজিট ফি ও আর্থিক গ্যারান্টি বিষয়ক কিছু ধারা আংশিক সংশোধন ও নতুন দুইটি উপ-ধারা সংযোজনের সুপারিশ করা হয়। এর আগে সংশ্লিষ্ট ১২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামতও নেয়া হয়। চুক্তির খসড়ার আইনগত দিক যাচাইয়ে সংসদ ও লেজিসলেটিভ বিভাগে ভেটিংয়ে পাঠানো হয়েছে। তাদের মতামতের পর চূড়ান্ত অনুমোদনে বিবিআইএন এমভিএ খসড়া মন্ত্রিসভা পাঠানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এমএএন ছিদ্দিক বলেন, বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটানের মধ্যে সড়কপথে মোটরযান চলাচলের বিবিআইএন এমভিএর খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। এটি মন্ত্রী পরিষদের অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রী সভায় অনুমোদনের পর আগামী ১৫ জুন ভুটানের রাজধানীতে চারদেশের সড়ক পরিবহনের মন্ত্রীদের সম্মেলনে এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হবে বলে তিনি জানান।
সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগ সূত্র জানায়, চুক্তিটি বাস্তবায়নে দ্বিপক্ষীয় বা ত্রিপাক্ষিক পৃথক প্রটোকল সই করতে হবে। এছাড়া চুক্তিতে ভিসা সংক্রান্ত কোনো ধারা চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত নেই। তাই এক দেশ থেকে আরেক দেশে যাত্রীদের প্রবেশে দ্বিপাক্ষিক না বহুপাক্ষিক ভিসা লাগবে তা পরবর্তীতে পৃথক প্রটোকল সইয়ের মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হবে।