নিজস্ব প্রতিবেদক : ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফর উপলক্ষ্যে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বাংলাদেশের স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) ও স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রটেকশন ব্যাটালিয়নসহ (এসপিবিএন) আটটি সংস্থা ও ইউনিটের সমন্বয়ে কাজ করছে বিশেষ নিরাপত্তা দল।
ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর চলাচল ও অবস্থানের জায়গায় তিনটি স্তরে নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। আর এই নিরাপত্তার প্রথম স্তরে মূল দায়িত্বে থাকছেন ভারতের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা স্পেশাল প্রটেকশন গ্রুপ (এসপিজি) ও জাতীয় নিরাপত্তা গার্ডের (এনএজি) কমান্ডো ফোর্স ব্ল্যাক ক্যাটের সদস্যরা। দুই সংস্থার শতাধিক সদস্য আসছেন ঢাকায়।
এরই মধ্যে একটি অগ্রবর্তী দল (অ্যাডভান্সড টিম) ঢাকায় পৌঁছেছেন। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর নিরাপদ নিরামিষ ভোজের জন্য নিজস্ব বাচুর্চিও এসেছেন ঢাকায়। শুক্রবার পর্যন্ত মোদির রাত্রিযাপনের সম্ভাব্য তিনটি স্থান এবং অনুষ্ঠানস্থলে অবস্থান নিয়েছেন দুই দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
আজ শনিবার ৬ জুন নির্ধারিত ৩৬ ঘণ্টার সফরে ঢাকায় আসছেন নরেন্দ্র মোদি। নিরাপত্তা বিষয়ে আইনশৃংখলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে চলছে দফা দফায় বৈঠক। বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া রাজধানীর সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেছেন। এরই মধ্যে বৈঠকে নিরাপত্তা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, রাস্তায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মীর রেজাউল আলম বলেন, ‘মোদির সফরকে কেন্দ্র করে বিমানবন্দর থেকে প্রতিটি স্থান বিশেষ নজরদারিতে নেয়া হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন এরই মধ্যে ছদ্মবেশে মাঠে নেমেছে। তিনি যে জায়গায় থাকবেন সেখানে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ, অপরাধ বিভাগ ও প্রটেকশন বিভাগ একত্রে কাজ করছে।’ জানতে চাইলে মীর রেজাউল আলম বলেন, ‘ভারতের নিরাপত্তা বাহিনীর কাজ কী হবে- তা বলতে পারব না। তবে তাদের একটি টিম আছে এবং আরো একটি টিম মোদির সঙ্গে আসবে।’
তবে পুলিশের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, নরেন্দ্র মোদির সফরের তারিখ ঘোষণার পরই গত মাসের শেষ দিকে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর একটি দল ঢাকা সফর করে গেছেন। গত ১ জুন ঢাকায় এসেছে ব্ল্যাক ক্যাট কমান্ডো এবং এসপিজির অগ্রবর্তী দল (অ্যাডভান্সড টিম)। তারা নরেন্দ্র মোদির বৈঠকস্থল এবং সম্ভাব্য রাত যাপনের স্থান পরিদর্শন করেছেন। অগ্রবর্তী দলের সঙ্গে ঢাকায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নিজস্ব বাবুর্চি। নিরামিষভোজী মোদির জন্য নির্ধারিত বাবুচিরই রান্না করে থাকেন। তার সফর সঙ্গীদের জন্য হোটেল সোনারগাঁওয়ে রান্না করা হবে। সৌজন্য ভোজের পাশাপাশি মোদির চাহিদা অনুযায়ী খাবার সেখান থেকেই সরবারাহ করা হবে।
সূত্রমতে, শুক্রবার রাত থেকে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর হয়ে যেখানে তিনি অবস্থান করবেন সেখানে, এবং যাতায়াতের স্থানে নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। ঢাকায় অবস্থানকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর রাত্রীযাপনের জন্য তিনটি স্থান ঠিক করে রাখা হয়েছে। এগুলো হলো- হোটেল সোনারগাঁও, রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা এবং ভারতীয় হাইকমিশনারের বাসভবন ইন্ডিয়া হাউজ। তিনি কোথায় উঠবেন তা ঠিক করবেন তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তায় নিয়োজিত ব্ল্যাক ক্যাট কমান্ডোরা। তবে সোনারগাওয়ে থাকার সম্ভাবনাই বেশি বলে জানিয়েছে সূত্র।
গত বুধবার থেকে দুই ধাপে সোনারগাঁও হোটেলসহ তিনটি স্থানের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিচ্ছে এসপিজি এবং ব্ল্যাক ক্যাট কমান্ডোর শতাধিক সদস্য। ৭ জুন রবিবার পর্যন্ত আর কোনো অতিথি গ্রহণ করবে না হোটেল সোনারগাঁও কর্তৃপক্ষ।
সূত্র জানায়, সফরের সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, সাভারে জাতীয় সৃতিসৌধ এবং ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধু জাদুঘরে যাওয়ার কথা রয়েছে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর। এ ছাড়া ঢাকেশ্বরী মন্দির এবং বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রেও যাওয়ার কর্মসূচী রয়েছে তার। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর চলাচলে ভারতের এসপিজি, ব্ল্যাক ক্যাট কমান্ডো বাহিনীর পরেই অবস্থান নেবে বাংলাদেশের এসএসএফ সদস্যরা। আর বহরকে নিরাপদ করতে দায়িত্ব পালন করবে সম্প্রতি গঠিত পুলিশের বিশেষ ইউনিট এসপিবিএন। সার্বিক নিরাপত্তায় পোশাকে ও সাদা পোশাকে দায়িত্ব পালন করবে স্থানীয় বিভাগের পুলিশ (ট্রাফিক ও ক্রাইম), গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), র্যাব, জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা-এনএসআই, পুলিশের কূটনৈতিক এবং প্রটোকল বিভাগ।

