নিজস্ব প্রতিবেদক : বিশাল গাড়িবহর। যাত্রাপথ- সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ্য থেকে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর। একাত্তরের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো শেষে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে ছুটছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আধঘন্টার মধ্যে পৌঁছে গেলেন সেই ঐতিহাসিক বাড়িতে। যেখানে বাস করতেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ‘বাঙালি হৃদয়বাড়ি’- যেখান থেকে একাত্তরের ২৫ মার্চ গ্রেফতারের পূর্ব মুহুর্তে ভরাট ও তেজদ্বীপ্ত কণ্ঠে বঙ্গবন্ধু জানিয়ে দিয়েছিলেন- বাংলাদেশ স্বাধীন। যে বাড়িতে পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট বিপথগামী সেনাসদস্যদের ঘাতক বুলেটে নিহত হয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু; স্তব্ধ হয়েছিল বাংলাদেশের গতি, অবরুদ্ধ হয়েছিল স্বাধীনতা।
বেলা ১২টা ১০ মিনিটে বাংলাদেশ ও ভারত- দুই দেশের পতাকাবাহী গাড়িটি ৩২ নম্বরে এসে পৌঁছায়। সাদা পাঞ্জাবির উপর রুপালি রঙের নেহেরু কোটে কেতাদুরস্ত মোদি প্রবেশ করলেন ৩২ নম্বরের বাড়িতে। যেখানে রয়েছে উৎসবের নানা মুহুর্তের স্থিরচিত্র আর আড়ালে দীর্ঘশ্বাস। ধীরে ধীরে এগিয়ে গেলেন কালো মার্বেলের মাঝে নানা রঙের টাইলসে অঙ্কিত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতির কাছে। সহযোগিরা এগিয়ে দিলেন পুষ্পস্তবক। রজনীগন্ধার আবরণে লাল গোলাপ আর সাদা ফুলের স্তবকটি মোদি নিজেই এগিয়ে দিলেন বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতির দিকে। নতমস্তকে কড়জোড়ে প্রণাম করলেন বাংলাদেশর স্বাধীনতার রূপকারকে। এরপর মাথাউঁচু করে চোখ বন্ধ করে কিছুটা সময় নিরবে শ্রদ্ধা জানান সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালিকে।
এরপর তিনি বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর ঘুরে দেখেন। এ সময় বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানার ছেলে রেদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি, তার স্ত্রী পেপ্পি সিদ্দিক, বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সদস্যসচিব শেখ হাফিজুর রহমানসহ মোদির সফরসঙ্গীরা উপস্থিত ছিলেন। ববি তাকে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের বিভিন্ন সময়ের স্থিরচিত্রের বিবরণ দেন। মোদিও আগ্রহভরে আলোকচিত্র ও বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিচিহ্নগুলো দেখেন।
রেওয়াজ অনুযায়ী ফেরার পথে তিনি স্বাক্ষর করেন পরিদর্শন বইয়ে। প্রায় ২৫ মিনিট অবস্থান করে বেলা ১২টা ৩৫ মিনিটে তিনি সেখান থেকে বের হয়ে তার আবাসস্থল কাওরানবাজারের প্যান প্যাসিফিক হোটেল সোনাগাঁওয়ে যান।
এর আগে ঢাকায় রওনা হওয়ার আগে এক ফেসবুক বার্তায় নরেন্দ্র মোদি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে শক্তি ও গণতন্ত্রের স্তম্ভ’ হিসেবে অভিহিত করেন। বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গবন্ধু জাদুঘর পরিদর্শন বিষয়ে তিনি ফেসবুক বার্তায় লেখেন, ‘আমি বঙ্গবন্ধু জাতীয় জাদুঘর পরিদর্শন এবং দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে শক্তি ও গণতন্ত্রের স্তম্ভ ভারতের বন্ধু মহান নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।’

