নিজস্ব প্রতিবেদক : ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্য ১২ হাজার ৪০৩ কোটি ৮৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। তবে জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা খাতে মোট বাজেটের মধ্যে অনুন্নয়ন ও উন্নয়ন বাজেটের বরাদ্দ করা অর্থের পরিমাণ ৪ দশমিক ২ শতাংশ।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এ প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করেন। বাজেটে অনুন্নয়ন খাতে ১১ হাজার ২১৫ কোটি ১৮ লাখ ৭৬ হাজার টাকা এবং উন্নয়ন খাতে এক হাজার ১৮৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়। গত অর্থ বছরের সংশোধিত বাজেটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ ছিল ১২ হাজার ৭৪২ কোটি ৬৩ লাখ ৩৮ হাজার টাকা।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে নানামুখী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ, সিকিউরিটি ও প্রটেকশন ব্যাটালিয়ন এবং জঙ্গি দমনে পুলিশ ব্যুরো অব কাউন্টার টেরোরিজম প্রতিষ্ঠা, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পদসৃজন ও পদ উন্নীতকরণ, প্রযুক্তি সক্ষমতার উন্নয়ন, দুর্গম পার্বত্য এলাকায় বিজিবি’র ব্যাটালিয়নগুলোতে ডাটা সুবিধা সম্প্রসারণ ইত্যাদি। বিশেষ করে পুলিশ বাহিনীকে শক্তিশালী করার জন্য এ পর্যন্ত ৩১ হাজার ২৪১টি পদ সৃষ্টি করা হয়েছে এবং আরো ৫০ হাজার পদসৃজনের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া ১৫৬টি উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণ এবং ঢাকার কেরানীগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারাগার নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলেছে। একইসঙ্গে কারারক্ষীসহ কারাবিভাগের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের দক্ষতা বাড়াতে রাজশাহীতে ‘কারা প্রশিক্ষণ একাডেমি’ নির্মাণ এবং ‘কারা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট’ স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘উন্নত প্রশিক্ষণ, আধুনিক অস্ত্র-শস্ত্র ও প্রযুক্তিনির্ভর সমরসম্ভার সংগ্রহ এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর মাধ্যমে সেনা-নৌ-বিমান ও সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর সামর্থ্য ও কার্যক্ষমতা বাড়ানো অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতির একটা খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে যা অচিরেই চূড়ান্ত করা হবে। সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে সরকারের সাফল্যের ফলে জাতিসংঘ শান্তি মিশনে সৈন্য প্রেরণকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে।’

