ঢাকাThursday , 4 June 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

হুমকিতে ই-কমার্স

Link Copied!

e-commerceতথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক : দেশে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে অনলাইন ভিত্তিক বেচাকেনা বা ই-কর্মাস। এ খাতের উদ্যোক্তাদের মধ্যে বেশিরভাগই তরুণ। অর্থ আদান প্রদানে সমস্যাসহ নানা সমস্যা সত্ত্বেও সারাদেশেই ছড়িয়ে পড়ছে ই-কমার্স উদ্যোক্তা ও সেবাগ্রহিতা। ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ ভিশনের এ সরকার যদি একটু প্রণোদনা দেয় তাহলে শিল্পটি আরো সমৃদ্ধ হবে।
কিন্তু বৃহস্পতিবার সংসদে ২০১৫-১৬ অর্থ বছরের বাজেট প্রস্তাবে উল্টো কথা বললেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। প্রচলিত মূল্য সংযোজন করে (মূসক) খাতটি বিষয়ে কিছু উল্লেখ না থাকায় এর আওতায় সুনির্দিষ্ট করার লক্ষ্যে ৪ শতাংশ হারে মূসক আরোপের প্রস্তাব করেছেন। এ প্রস্তাবে ই-কর্মাস উদ্যোক্তারা হতাশ হয়েছেন। তারা বলছেন, এতে করে ই-কর্মাসের জনপ্রিয়তা হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি উঠতি শিল্পটি হুমকির মুখে পড়বে।
এ ব্যাপারে এসো ডটকমের স্বত্বাধিকারী দিদারুল আলম সানি বলেছেন, ‘সনাতনী ব্যবসায়ের চেয়ে ই-কর্মাসে পণ্য বেচাকেনার ধরন আলাদা। দেশের তরুণরা তাদের মেধা-মনন দিয়ে এ খাতকে জনপ্রিয় করার চেষ্টা করছেন। দু’একটি ই-কর্মাস সাইট ছাড়া বেশিরভাগ উদ্যোক্তাই এখনো লাভের মুখ দেখতে পারিনি। এসময় এ খাতে কর আরোপের সিদ্ধান্তের ফলে হুমকির মুখে পড়বে ই-কর্মাস। সরকারের বরং ‍উচিৎ ছিল এ খাতে প্রণোদনা দেয়া। এতে করে ই-কমার্সে বিনিয়োগ করতে অনেকেই এগিয়ে আসতো। এখন বরং উল্টোটা হবে।’
ওখানেই ডটকমের সিইও রাহিতুল ইসলাম রুয়েল বলেন, দেশের তরুণরাই মূলত ই-কমার্সের সম্প্রসারক। এখাতে সরকারের মনোযোগ দরকার। সরকারই এখন যদি ই-কমার্সের লেনদেনের ওপর কর আরোপ করে তবে এতে বিনিয়োগকারীর সংখ্যা হ্রাস পাবে। অন্যদিকে তরুণদের উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার বাসনাও থাকবে না। কর আরোপের ফলে লেনদেনেও এর প্রভাব পড়বে। বেড়ে যাবে পণ্যের দামও ও পরিবহণ খরচ।
এ খাতকে আরো কিছু দিন করের আওতার বাইরে রাখা উচিৎ ছিল বলে মনে করেন বাইমিব্র্যান্ড ডটকম ডটবিডির স্বত্বাধিকারী সৈয়দ মাকসুদ উজ্জামান। তিনি বলেন, ‘ভ্যাটের বোঝাটা ক্রেতাদের ওপর গিয়েও পড়বে। এতে করে তারা হয়তো অনলাইনে কেনাকাটা করতে নিরুসাৎহিত হবেন।’
এ ব্যাপারে তথ্য ও প্রযুক্তিবিদ মোস্তফা জব্বার বলেন, ‘২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার যতগুলো খারাপ দিক আছে তার মধ্যে একটা হলো ই-কমার্স ব্যাবসায়ীদের ওপর কর আরোপের সিদ্ধান্ত নেয়া। এতে করে এই শিল্প হুমকির মুখে পড়বে। ই-কর্মাসের মাধ্যমে পণ্য বেচাকেনা এখন গ্রামগঞ্জেও হচ্ছে। শিক্ষিত বেকার তরুণদের কর্মসংস্থান হচ্ছে। তরুণরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরিয়ে নিজেরাই কিছু একটা করবেন বলে অনলাইন পণ্য বেচাকেনা শুরু করেছেন। এতে কোনো অবকাঠামো লাগে না।’
মোস্তফা জব্বার আরও বলেন, ‘বিশ্বের অনেক দেশেই ই-কর্মাসকে উৎসাহিত করতে প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে। অথচ বাংলাদেশে এর উল্টোটা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এমন সিদ্ধান্ত থেকে আমি অর্থমন্ত্রীকে সরে আসতে অনুরোধ জানাবো।’
বাংলাদেশের ই-কমার্স ব্যবসায়ীদের সংগঠন ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব)। সংগঠনটির বর্তমানে ১৫৫টিরও বেশি সদস্য রয়েছে। তবে ধারণা করা হয়, দেশে প্রায় আড়াই হাজার ই-কমার্স সাইট সক্রিয় রয়েছে। এরা নিয়মিত বেচাকেনা করে। এছাড়াও কম তৎপর অনেক সাইট রয়েছে যেগুলো প্রণোদনা পেলে হয়তো আরো সক্রিয় হতে পারবে।
কর আরোপের বিষয়ে সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক ফেরদৌস হাসান সোহাগ বলেন, ‘দেশের ই-কর্মাসের সম্প্রসারণে ই-ক্যাব কাজ করে যাচ্ছে। ই-কমার্সের লেনদেনের ওপর কর আরোপের সিদ্ধান্ত হুট করে নেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে আমাদের কাছ থেকে কোনো পরামর্শ নেয়া হয়নি। অথচ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল এই ব্যবসায়ের সম্প্রসারণও জনপ্রিয় করার জন্য সব ধরনের সহযোগিতা দেয়া হবে। আমরা অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের আলোকে শিগগিরই জরুরি বৈঠক ডাকবো। বৈঠকে খতিয়ে দেখা হবে শতকরা ৪ ভাগ ভ্যাট আরোপের ফলে এই ব্যবসায় কী প্রভাব পড়ে। যদি দেখি এটা আমাদের জন্য হঠকারী তবে এজন্য সরকারের বরাবর এই সিদ্ধান্ত পরির্বতনের জন্য আহ্বান জানাবো। ’