কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : ‘মোর ছওয়াক তোমরা আনি দ্যাও’ এভাবেই প্রায় দেড় মাস ধরে ভারতের আসাম প্রদেশের ধুপড়ি কারাগারে বন্দি শিশু রনির মা বুকফাটা আকুতি জানায়।
অবশেষে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ তাকে ধরে নিয়ে গিয়ে ঠাঁই দিল ভারতীয় পুনর্বাসন কেন্দ্রে।
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার কুরুসা ফেরুসা গ্রামের জয়নাল আবেদীন ও রুনা খাতুন দম্পতির ছেলে রনি ইসলাম (৬)। এতোদিন নানা জায়গায় ঘুরে চেষ্টা তদবির করে ছেলেকে মুক্ত করতে না পেরে অবশেষে প্রসাশনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
পরিবার সুত্রে জানা গেছে, প্রায় ৫ বছর আগে জীবন-জীবিকার তাগিদে তিন মাস বয়সী শিশু ছেলে রনিকে নিয়ে মা-বাবা কাজের সন্ধানে দিল্লিতে যান। দিল্লির ইটভাটায় কাজ নেন ওই দম্পতি। সেখানে তাদের আরও দুটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। কেটে যায় ৬ বছর। রনির বয়স ৬ বছর পেরিয়ে গেলে তাকে বাংলাদেশে স্কুলে ভর্তি করার তাগিদ অনুভব করেন তারা। সে অনুযায়ী আসাম প্রদেশের টাকিমারী সীমান্ত এলাকার দালাল মইনুদ্দিনের মাধ্যমে রনিকে বাংলাদেশে তার দাদা-দাদির কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। কিন্তু গত ১৪ এপ্রিল সীমান্ত পার হওয়ার সময় টাকিমারী ক্যাম্পের বিএসএফের হাতে আটক হয় রনি। এ সময় দালাল মইনুদ্দিন কৌশলে পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে রনির দাদা হজরত আলী কুড়িগ্রাম ৪৫ বিজিবির অধীন চৌদ্দকুড়ি বিজিবি ক্যাম্পে শিশু আটকের ঘটনা জানালে আটক রনিকে ফেরত চেয়ে টাকিমারী বিএসএফ ক্যাম্পে চিঠি পাঠায় বিজিবি। চিঠির প্রেক্ষিতে তিন দফা পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও শিশু রনিকে ফেরত দেয়নি বিএসএফ।
বিজিবির লাইনম্যান রশিদ জানান, রনিকে সনাক্ত করতে প্রায় একমাস আগে তার বাবা-মায়ের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে টাকিমারী ক্যাম্পের বিএসএফ প্রতিনিধিরা। তাদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, বিষয়টি উপর মহলে চলে গেছে আমাদের কিছু করার নেই। অনেক চেষ্ঠা করেও আমরা আনতে পারছি না।
কুড়িগ্রাম ৪৫ বিজিবির পরিচালক জাকির হোসেন ঘটনা স্বীকার করে জানান, বর্তমানে শিশু রনি ভারতের একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে রয়েছে বলে বিএসএফ এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। সেখানে সে ভালোই আছে। বিএসএফ আমাদের কাছ থেকে রনির বাবা-মায়ের নাগরিকত্বের পরিচয়পত্র এবং রক্তের নমুনা নিয়েছে নিশ্চিত হবার জন্য। আমরা শিশু রনিকে বাংলাদেশে ফেরত আনার জন্য চেষ্টা করেছি এখনো তা অব্যাহত রয়েছে।

