মূল নায়করা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে
তেঁতুলিয়া (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি : তেঁতুলিয়া উপজেলায় দেশের সর্ববৃহৎ বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে কোটি কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে পণ্য আমদানি করার অভিযোগে কাস্টমসের সহকারী কমিশনার, রাজস্ব কর্মকর্তাসহ শুল্ক বিভাগের চার কর্মকর্তাকে গত বৃহস্পতিবার স্টেনরিলিজ করা হয়েছে। এর আগে ২০ মে বুধবার এ ঘটনায় আমদানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ-এর এজেন্ট, স্থলবন্দর ম্যানেজার, ট্রাকচালকসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে ট্রাকচালক ও হেলপারসহ আটজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। পরে তেঁতুলিয়া-বাংলাবান্ধার সকল মহাসড়ক এবং আদালত পাড়া পকেট রোডসহ অবরোধ করে রাখে পরিবহন শ্রমিকরা। তাদের অবরোধ করার কারণে কোর্টের বিচারকার্যসহ সকল প্রকার কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে শ্রমিকরা অবরোধ তুলে নেয়। এদিকে বদলি হওয়া কর্মকর্তারা হলেন বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ জাকারিয়া, রাজস্ব কর্মকর্তা সরদার মো. জাকির হোসেন, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ আজাদ ও মো. নুরুজ্জামান।
পুলিশ, শুল্ক বিভাগ ও স্থলবন্দর সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ মে ৪৮০ পিস ভারতীয় বাইসাইকেলের যন্ত্রাংশ শুল্ক দিয়ে পাঁচটি ট্রাকে ২ হাজার ৪০০ পিস ভারতীয় বাইসাইকেল আনা হয়। খবর পেয়ে জেলা টাস্কফোর্স পঞ্চগড় ১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সামনে থেকে ট্রাকগুলো আটক করে। এ ঘটনায় পরদিন বুধবার বিজিবির পক্ষ থেকে সুবেদার মো. আবুল কালাম বাদী হয়ে ১৪ জনের বিরুদ্ধে পঞ্চগড় থানায় একটি মামলা করেন।
পঞ্চগড় থানার ওসি মমিনুল ইসলাম মমিন জানান, এ ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে পাঁচজন অজ্ঞাতনামাসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ট্রাকের চালক ও হেলপারসহ আটজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের ম্যানেজার কাজী আল তারিক, সিঅ্যান্ডএফ-এর এজেন্ট বিনয় কুমার মজুমদারসহ অন্য আসামিরা পলাতক রয়েছে। বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের ম্যানেজার কাজী আল তারিকসহ মামলার অপর আসামি সিএন্ডএফ এজেন্ট এবি ব্রাদার্স এর স্বত্ত্বাধিকারী বিনয় মজুমদার, আমদানিকারক রাজু সাইকেল স্টোরের স্বত্ত্বাধিকারী, বন্দরের ট্রাফিক কর্মকর্তা ও কাস্টমস কর্মকর্তা প্রভাবশালী হওয়ায় এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষ, শুল্ক বিভাগ, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এবং কতিপয় অসাধু আমদানিকারক দীর্ঘদিন থেকে মোটা অঙ্কের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে বিভিন্ন পণ্যের কোটি কোটি টাকার সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হচ্ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ৪০ মেট্রিক টন ফলের গাড়ির ওজন দেখানো হত ১৪ মেট্রিক টন। এভাবে শুল্ক কর ফাঁকি দেওয়া হত অন্যান্য আমদানিকৃত পণ্যেও ক্ষেত্রেও। এভাবে দীর্ঘদিন ধরে ঐ চক্রটি সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হাতিয়ে নিয়ে নিজেরা লাভবান হয়েছেন।
সূত্র আরও জানায়, এই স্থলবন্দর দিয়ে পূর্বেও বাইসাইকেলসহ, মদ, গাঁজা, ফেনসিডিল, মোটরসাইকেল, ইয়াবা, মসল্লাসহ ভারতীয় অনেক পণ্য বিনা শুল্কে আমদানি করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এনে তা এইসব সিন্ডিকেট বহিরাগতদের নিকট বিক্রয় করতো। এভাবে সরকারের প্রায় হাজার কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি দেয়া হয়েছে বলে সূত্র জানায়। এসব কাজে জড়িত ছিল সম্প্রতি ওই স্থল বন্দরে দায়িত্বে থাকা কাস্টমস কর্মকর্তা, স্থলবন্দরের ম্যানেজার, কতিপয় সিএন্ডএফ এজেন্ট ও তাদের নামধারী নেতা, দলীয় কর্মী হিসেবে পরিচিতি কিছু মুখ এবং বিভিন্ন পেশার কতিপয় অসাধু ব্যক্তিরা।

