পাবনা প্রতিনিধি
দুই কক্ষ বিশিষ্ট একটি স্কুল ঘর। দুই শিফটে পাঠদান করানো হয় স্কুলটিতে। একদিকে শ্রেণীকক্ষগুলো নোংরা আবর্জনায় ভরপুর। অন্যদিকে স্কুলের সামনে দাঁড়ালে মাঠটি যেন একটি নর্দমা বা আর্বজনার ভাগাড়।
যে স্কুলটির কথা বলছি, সেটি কোনো বিল বাঙর এলাকায় স্থাপিত নয়। এটি পাবনা শহর থেকে মাত্র ৭ কিলোমিটার পেরুলেই পাবনা-ঢাকা মহাসড়কের সদরের গয়েশপুর ইউনিয়নের জালালপুর নতুনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রধান শিক্ষকসহ চারজন শিক্ষকের পদ থাকলেও শূন্য রয়েছে দুইটি। একজন পুরুষ সহকারী শিক্ষকের সঙ্গে রয়েছে প্রধান শিক্ষক। অথচ অভিযোগ উঠেছে অধিকাংশ সময় প্রধান শিক্ষিকা থাকেন না স্কুলে। শিশু শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত বেত্রাঘাতের অভিযোগও কম নয়। এছাড়াও নানা অনিয়ম ও অভিযোগের কমতি নেই প্রধান শিক্ষিকা সিতারা সুলতানার বিরুদ্ধে।
প্রধান শিক্ষক সিতারা সুলতানা জানান, ৫টি শ্রেণীর জন্য পর্যাপ্ত শিক্ষক, আসবাবপত্র নেই। দুই শিফটে ৫টি শ্রেণীর পাঠদান করা হয়। স্কুল সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে বারবার ধর্ণা দিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না। সাংবাদিকদের উপস্থিতি কালেই একজন অভিভাবক তার শিশু সন্তান নিয়ে আসেন স্কুলে। আসার কিছুক্ষণ আগেই ওই শিশুকে পর্যাপ্ত বেত্রাঘাত করেছেন প্রধান শিক্ষিক সিতারা সুলতানা। অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করে সাংবাদিকের সামনে তিনি দাবি করেন পড়ালেখায় মনোযোগী করতে একটু শাসন তো করতেই হয়।
স্থানীয় একাধিক নারী-পুরুষ অভিভাবক অভিযোগ করেন, ঠিকমতো তিনি স্কুলে থাকেন না। একজন সহকারী পুরুষ শিক্ষক একাই ক্লাস নেন। তারা আরও বলেন, তিনি অধিকাংশ সময় স্কুলের পেছনে বাড়ি হওয়ায় তাঁতের কাজ ও হোমিও চিকিৎসার জন্যে সেখানে অবস্থান করেন। দীর্ঘদিনেও স্কুলে কোনো ধরনের পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা করানো হয়নি এমনটি বেশ চোখে পড়ার মতো।
স্কুলটির সহকারী শিক্ষক শামসুল ইসলাম বলেন, ‘বিন্দু পরিমাণ ইচ্ছে নেই এই স্কুলে থাকবার। একাই ক্লাস নিতে হয় প্রতিদিন ৩টি করে। দীর্ঘদিন ধরে রেজিস্ট্রার স্কুল হলেও বর্তমান সরকার এটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে উন্নীত করেছেন। কিন্তু সে তুলনায় এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও শ্রেণীকক্ষ নেই। দুইটি ক্লাস রুম বিশিষ্ট ভবনটি ছাড়াও একটি টিনের শ্রেণীকক্ষ ছিল। কিন্তু সেটি ভেঙে গেছে।
সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জানতে চাইলে সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাহিদা আক্তার মুঠোফোনে জানান, গত মাসে তিনি স্কুলটি পরিদর্শন করেছেন। শিক্ষকদের বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দিয়ে এসেছেন।
প্রধান শিক্ষিকা ঠিকমতো ক্লাস করেন না এবং শিক্ষার্থীদের বেত্রাঘাত করে থাকেন এমন বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।

