ঢাকাSunday , 31 May 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রানা প্লাজা ট্রাজেডি
রানার বাবা-মাসহ ৪২ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

Link Copied!

Rana-plaza-pic02-finalনিজস্ব প্রতিবেদক : রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির প্রায় ২৫ মাস পর রানার বাবা-মাসহ ৪২ জনকে অভিযুক্ত করে বহুল প্রত্যাশিত চার্জশিট দাখিল করছেন তদন্ত কর্মকর্তা।
রোববার বিকালে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ওই চার্জশিট দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার বিজয় কৃষ্ণ কর।
তিনি বলেন, ‘অবহেলার দ্বারা মৃত্যু ঘটানোর অভিযোগে দণ্ডবিধিতে এবং ইমারত নির্মাণ আইন ১৯৫২ এর অধীনে দায়ের করা পৃথক দুটি মামলায় এই চার্জশিট দাখিল করা হচ্ছে।’
দণ্ডবিধিতে দায়ের করা মামলায় ৪১ জনকে এবং ইমারত নির্মান আইনের মামলায় ১৮ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
ইমারত নির্মাণ আইনের ১৮ জন আসামির মধ্যে ১৭ জনের নাম রয়েছে দণ্ডবিধি আইনে দায়ের করা মামলার চার্জশিটে।
চার্জশিটে অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছে রানা, রানার বাবা-মা, গার্মেন্টস মালিক, ম্যানেজার, রানাকে পালাতে সহায়তাকারী, সাভার পৌরসভার মেয়র এবং ১২ জন সরকারি কর্মকর্তা। মামলাটিতে প্রায় ৭৫০ জনকে সাক্ষি করা হয়েছে।
এর আগে বহুদিন ধরে সরকারী মঞ্জুরী আদেশের অভাবে চার্জশিট দিতে না পারায় ঝুলে ছিল বহুল প্রত্যাশিত বিচার কাজ।
মামলায় প্রায় ৬ মাস আগে তদন্ত শেষে হলেও শুধু সরকারি মঞ্জুরী আদেশের জন্য আদালতে চার্জশিট দাখিল করতে পারেনি মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার বিজয় কৃষ্ণ কর।
২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজা নামক ভবন ধসে ১ হাজার ১৩৬ জন নিহত এবং আহত হয় প্রায় ২ হাজার।
ওই ঘটনায় মোট ৩টি মামলা হয়। ৩টি মামলার মধ্যে একটি করে পুলিশ। পুলিশের মামলায় ত্রুটিপূর্ণ জেনে সরাসরি হত্যার অভিযোগে আরেকটি মামলা করেন নিহত শ্রমিক জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী শিউলী আক্তার এবং অপর মামলাটি বিল্ডিং কোড অনুসরণ না করার অভিযোগে দায়ের করে ইমারত আইনের রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)।
৩টি মামলার মধ্যে পুলিশের এবং নিহত শ্রমিক জাহাঙ্গীরে স্ত্রী শিউলী আক্তার মামলা ২টির একসঙ্গে তদন্ত হয়েছে। অপর মামলাটি আলাদা তদন্ত হয়েছে।
এ সম্পর্কে তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার বিজয় কৃষ্ণ কর বলেন, ‘পুলিশের এবং নিহত শ্রমিক জাহাঙ্গীরে স্ত্রী শিউলী আক্তারের মামলায় ৪২ ও রাজউকের ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট চূড়ান্ত হয়েছে।’
আসামিদের মধ্যে ১৩ জন সরকারি কর্মকর্তা থাকায় তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলের জন্য সরকারি মঞ্জুরী আদেশ প্রয়োজন। কয়েকজনের মঞ্জুরী আদেশ পাওয়া গেলেও অধিকাংশ এখানো বাকি রয়েছে। তাই মঞ্জুরী আদেশ না পাওয়ার কারণে তিনি আদালতে চার্জশিট দাখিল করতে পারছেন না।
মামলাগুলোতে গ্রেপ্তার ২১ আসামিদের মধ্যে রানা প্লাজার মালিক যুবলীগ নেতা সোহেল রানার বাবা আবদুল খালেক ওরফে খালেক কুলুসহ ৯ জন জামিনে আছেন।
জামিন পাওয়া অপর ৮ জন হলেন, পৌর মেয়র রেফাত উল্লাহ ও কমিশনার মোহাম্মাদ আলী, ইমতেমাম হোসেন, রাকিবুল হাসান, ইঞ্জিনিয়ার শাহ আলম, বজলুস সামাদ, মাহমুদুর রহমান তাপস ও আনিসুর রহমান। রানা প্লাজার মালিক যুবলীগ নেতা সোহেল রানাসহ বাকি ১২ জন জেলহাজতে রয়েছেন।
চার্জশিটে অভিযুক্ত হতে যাচ্ছেন এমন সরকারি কর্মকর্তারা হচ্ছেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধিভুক্ত সাভারের পৌর মেয়র রেফাত উল্লাহ, ৭ নম্বর ওয়ার্ডে পৌর কমিশনার মোহাম্মদ আলী, উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, উপ-সহকারী প্রকৌশলী রাশেদুল ইসলাম রাসেল, সহকারী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান, টাউন প্ল্যানার ফারজানা ইসলাম, শ্রম মন্ত্রণালয়ের অধিভুক্ত কল-কারখানা অধিদফতরের যুগ্ম মহাপরিদর্শক বেলায়েত হোসেন ও মাহমুদ জামশেদুর রহমান এবং উপ-মহাপরিদর্শক শহিদুল ইসলাম ও ইউসুফ আলী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধিভুক্ত সাভারের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কবির হোসেন সরকার, সাভার পৌরসভার সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায় ও রাজউকের সাভার উপজেলার ইমারত পরিদর্শক আওলাদ হোসেন।
ঢাকা জেলা প্রশাসক অফিসে রক্ষিত হিসাব অনুযায়ী রানা প্লাজার ধ্বংসস্তুপ থেকে ২ হাজার ৪৩৮ জনকে জীবিত এবং ১ হাজার ১১৭ জনকে মৃত উদ্ধার করা হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ১৯ জন মারা যায়।
মৃত উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ৮৪৪ জনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ডিএনএ পরীক্ষার নমুনা রেখে ২৯১ জনের অসনাক্তকৃত লাশ জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয়।
জীবিত উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ১ হাজার পাঁচশ ২৪ জন আহত হন। তদের মধ্যে গুরুতর আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেন ৭৮ জন।