গাজীপুর প্রতিনিধি : কালীগঞ্জে এক নারী শ্রমিককে গণধর্ষণে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রাণ আরএফএল কোম্পানির নৌকার দুই মাঝিকে আটক করেছে পুলিশ।
তবে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে না পাঠিয়ে ধর্ষিতাকে বৃহস্পতিবার ভোর রাত থেকে বিকেল পর্যন্ত থানায় বসিয়ে রাখে।
মোক্তারপুর গ্রামের হেলালের লম্পট ছেলে আল-আমিন (২৫) ও খোরশেদ আলমের ছেলে ফাহিম
স্থানীয়রা জানায়, অদৃশ্য কারণে গণধর্ষণের শিকার ওই নারী শ্রমিককে বৃহস্পতিবার ভোর থেকে বিকেল পর্যন্ত থানায় বসিয়ে রাখলেও ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠায়নি পুলিশ। শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় ধর্ষিতা মেয়েটির ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করতে শনিবার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। ফলে একদিকে যেমন ধর্ষণের আলামত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং অন্যদিকে দুই রাত দুই দিন ধর্ষিতাকে থানায় অবস্থান করতে হবে, যা অত্যন্ত অমানবিক।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ধর্ষণের ঘটনায় কালীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় মোক্তারপুর গ্রামের রিপনের ছেলে ফারুক ও রতন শেখের ছেলে শরীফকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধর্ষিতা পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।
উল্লেখ্য, বুধবার রাত ৮টায় নরসিংদীর পলাশের প্রাণ আরএফএল কোম্পানির অষ্টদশী নারী শ্রমিক কাজ শেষে নিজ বাড়ি কালীগঞ্জের নারগানায় ফেরার জন্য সহকর্মীদের সঙ্গে কোম্পানির একটি নৌকায় ওঠেন। নৌকাটি শীতলক্ষ্যা নদীর নারগানা ঘাটে ভিড়লে সব শ্রমিক নেমে যাওয়ার পর নৌকার মাঝি আল-আমিন ও ফাহিম মেয়েটির মুখে গামছা বেঁধে নির্জন স্থানে নিয়ে পালাক্রমে মধ্যরাত পর্যন্ত ধর্ষণ করে। পরে লম্পটরা কোম্পানির অপর নৌকার দুই মাঝি একই গ্রামের ফারুক ও শরীফকে ডেকে আনে। এরপর ওই নারী শ্রমিককে তাদের হাতে তুলে দিয়ে চলে যায়। পরে ফারুক ও শরীফ রাতভর ওই নারী শ্রমিককে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে পুলিশে খবর দিলে লম্পট ফারুক ও শরীফকে আটক করে ধর্ষিতাসহ থানায় নিয়ে আসে।

