পাঞ্জেরী ডেস্ক
এমডিজির সাফল্যের কারণে ‘২০১৫ উত্তর উন্নয়ন এজেন্ডা কার্যকর ও বাস্তবায়ন’ থিমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য বিশেষ দিক নির্দেশনা হিসাবে গুরুত্ব পাবে।
জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে আব্দুল মোমেন মিশনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।
আগামী ২২ সেপ্টেম্বর থেকে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৬৯তম অধিবেশন শুরু হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন।
অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছাবেন। নিউইয়র্কে তিনি ২৩ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জাতিসংঘের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।
এ বছর জাতিসংঘে বাংলাদেশের সদস্যপদ লাভের ৪০ বছর পূর্তি হচ্ছে। এ উপলক্ষ্যে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ মিশন।
সংবাদ সম্মেলনে ড. একে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘এ বছর ৬৯তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কের জন্য প্রতিপাদ্য বিষয় ‘২০১৫ সাল উত্তর উন্নয়ন এজেন্ডা কার্যকরন ও বাস্তবায়ন’।
এছাড়া আইনের শাসন, শান্তির সংস্কৃতি ছড়িয়ে দেয়া, শান্তি উন্নয়ন, শিক্ষার প্রসার, মানুষের পুষ্টির নিশ্চয়তা, প্রতিবন্ধীদের মানসিক বিকাশসহ মানব সম্পদ উন্নয়ন অগ্রযাত্রার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।
আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বক্তব্য রাখবেন। প্রধানমন্ত্রী বাংলায় বক্তৃতা দেবেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা, গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা, নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের অগ্রণী ভূমিকা, অভিবাসী শ্রমিকের অধিকার আদায়, দারিদ্র্য দূরীকরণে বর্তমান সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় গৃহীত কার্যক্রমসমূহ, স্বল্পোন্নত দেশগুলোর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়, সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার অগ্রগতি এবং অধিবেশনের প্রতিপাদ্য বিষয় ২০১৫-পরবর্তী টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় বাংলাদেশের অবস্থান ও অবদানের কথা তুলে ধরবেন।
এবার জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ৯৫ জন প্রেসিডেন্ট, ৪৫ জন প্রধানমন্ত্রী, ২ জন ভাইস প্রেসিডেন্ট, ১ জন ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী এবং ৫০ জন মিনিস্টার অংশ নিচ্ছেন। একই সঙ্গে ১শ ৯৩টি সদস্য দেশের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা যোগ দেবেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও ফার্স্টলেডি মিশেল ওবামার আমন্ত্রিত পার্টিতে যোগ দেবেন। তিনি তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশের কণ্ঠস্বর হিসেবে উন্নত বিশ্বের নজর কেড়েছেন বিশেষভাবে। তার বক্তব্য আগামীতে টেকসই উন্নয়ন (এসডিজি) প্রণয়নসহ বিভিন্নক্ষেত্রে দিকদর্শন হিসেবে গ্রহণ করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর বিস্তারিত কর্মসূচি তুলে ধরে তিনি বলেন, ২২ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিউইয়র্কে পৌঁছাবেন। ২৩ সেপ্টেম্বর সকালে তিনি জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সেমিনারে অংশ নেবেন। বিকেলে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি এসএএম খামবা ফুটেসার সঙ্গে বৈঠক করবেন। সন্ধ্যায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও মিশেল ওবামার নৈশভোজে অংশ নেবেন তিনি।
২৪ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী চারটি কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। সকালে জাতিসংঘ মহাসচিবের রিসিপশনে যোগদান করবেন প্রধানমন্ত্রী। সাধারণ পরিষদের বিতর্কের উদ্বোধনী সেশনে উপস্থিত থাকবেন তিনি। বেলারুশের প্রধানমন্ত্রী মিখাইল ভি মায়াসিনকোভিচের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে তার। দুপুরে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন তিনি। বিকেলে ‘এডুকেশন ফার্স্ট ইনিশিয়েটিভ’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সাবেক ব্রিটিশ প্রধানন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন এতে মডারেটরের দায়িত্ব পালন করবেন।
২৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে আমেরিকান চেম্বার ও আমেরিকান বিজনেস কাউন্সিলের সঙ্গে বৈঠক করবে শেখ হাসিনা। বিকেলে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামিদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে তার। সন্ধ্যায় নেপালের প্রধানমন্ত্রী সুশীল কৈরালার সঙ্গে বৈঠকে বসবেন তিনি।
২৬ সেপ্টেম্বর সকালে শান্তিরক্ষী সম্মেলনে কো-চেয়ার করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিকেলে জাতিসংঘে বাংলাদেশের সদস্যপদ লাভের ৪০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে মিশন কর্তৃক প্রকাশিত বইয়ের মোড়ক উম্মোচন করবেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনসহ ব্রিটেন, রাশিয়া ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা উপস্থিত থাকবেন। বিকেল ৫টায় জাতিসংঘ মিশনে প্রেস ব্রিফিংয়ে যোগ দেবেন তিনি।
২৭ সেপ্টেম্বর সকালে জাতিসংঘ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী ভাষণ দেবেন। দুপুরে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। সন্ধ্যায় ম্যানহাটনের সেন্ট্রাল পার্কে গ্লোবাল পোভার্টি প্রোজেক্ট আয়োজিত ‘গ্লোবাল সিটিজেন কনফারেন্সে দক্ষিণ এশিয়ার হেলথ, স্যানিটেশন এবং উইম্যান ইমপাওয়ারমেন্টের ওপর বক্তব্য রাখবেন। রাতে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উদ্যোগে সার্বজনীন নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেবেন তিনি।

