লালমনিরহাট প্রতিনিধি : কালবৈশাখী ঝড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনের তার ছিড়ে চার দিনের বেশি সময় ধরে অন্ধকারে রয়েছে লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের ১৪টি উপজেলা। তবে স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ফিরে আসতে আরও সাত দিন অন্ধকারে থাকতে হবে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
এদিকে, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের ১৪টি উপজেলার বিদ্যুৎহীন লাখো মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ফ্রিজে রাখ খাদ্য ও জরুরী ওষুধ।
লালমনিরহাট গ্রিড উপ-কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী আবদুল মান্নান জানান, গত শনিবার রাত ৯টার দিকে ঝড়ের কারণে তিস্তা নদীর ওপর দিয়ে যাওয়া বিদ্যুৎ সরবরাহের তার ছিড়ে যায়। এতে দুই জেলার ১৪টি উপজেলার মানুষ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
ঘটনার পর স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা মেরামতের কাজ শুরু করেছেন। তবে এখনও পুনঃসংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পরে ঢাকা ও বগুড়া থেকে প্রকৌশলীরা এসে মেরামতের কাজ শুরু করেন। তবে পুরোপুরি বিদ্যুৎ স্বাভাবিক হতে আরও এক সপ্তাহ সময় লাগবে বলে জানান তিনি।
পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের প্রধান প্রকৌশলী কামরুল আহসান জানান, ইতোমধ্যে মেরামত কাজে ৪০ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে। তবে ঠিক কখন থেকে বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এ কাজের জন্য কোনো সময় নির্ধারণ করা যায় না।
কুড়িগ্রাম জেলা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম জানান, কুড়িগ্রামে ১৯ হাজার ৮৫ জন নিয়মিত বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছেন।
লালমনিরহাট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাসনাত জামানের তথ্যমতে, লালমনিরহাটে ১৮ হাজার ৪৯৩ বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছেন।
এদিকে, বিদ্যুতের অভাবে সংরক্ষণে রাখা অনেক ওষুধ ও পঁচনশীল বস্তু নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। লালমনিরহাট জেলা সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) সংরক্ষণশালার তত্ত্বাবধায়ক রফিকুল ইসলাম জানান, ২৪ মে বেলা ২টায় ১৯ হাজার ভায়াল ইপিআই ভ্যাকসিন কোল্ড বক্সে রাখা হয়েছে। এগুলো পরবর্তী ৯৬ ঘণ্টা পর্যন্ত সুরক্ষিত থাকবে, অর্থাৎ ২৮ মে ২টা পর্যন্ত ব্যবহার উপযোগী থাকবে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ পুরোপুরি চালু না হলে, এগুলো আর ব্যবহার করা যাবে না।
বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির লালমনিরহাট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হাফিজ উদ্দিন জানান, প্রায় দুই হাজার ৮শ’ ওষুধের দোকানে ফ্রিজে ভ্যাকসিন-সাপোজিটর রাখা হয়। বিদ্যুৎ না থাকায় সেগুলোর অধিকাংশ নষ্ট হয়ে গেছে।
বিদ্যুৎ না থাকায় গবাদিপশুর বিভিন্ন ভ্যাকসিনও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। লালমনিরহাট পোল্ট্রি ভ্যাকসিন বিক্রেতা আয়নাল হক জানান, ৩৫টি দোকানে পোল্ট্রি ভ্যাকসিন বিক্রি হয়। এসব দোকানে ফ্রিজে রক্ষিত ওষুধের বেশিরভাগই নষ্ট হয়ে গেছে।
বিদ্যুৎ না থাকায় অনেকে আবার নতুন ব্যবসা খুলেছেন। জেনারেটরের মাধ্যমে মোবাইল ও ইজিবাইকের ব্যাটারি চার্জের ব্যবস্থা করছেন। প্রতিটি মোবাইল চার্জের জন্য ১৫ থেকে ২০ টাকা করে নেয়া হচ্ছে। ইজিবাইকের ব্যাটারি চার্জের জন্য গুণতে হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, যা আগে ছিল ১৫০-২০০ টাকা।
এ ব্যাপারে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান জানান, সামান্য তার ছিড়লে যদি বিদ্যুতের এ অবস্থা হয়, তাহলে বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে মানুষের কী হবে, ভাবলে শিউরে উঠতে হয়। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে তিনি ঊর্ধ্বতন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।

