কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় গত এক সপ্তাহে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে ৮ গ্রামের প্রায় ১ হাজার পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে এখন পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধের দু’পাশে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। হুমকিতে রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ হাজার হাজার একর ফসলী জমি। গত কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় তীব্র নদীভাঙন দেখা দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন। এতে ভুক্তভোগীরা ভাঙনরোধে দ্রুত ব্যবস্থা ও তাদের ত্রাণ সহায়তা দেয়ার দাবি জানিয়েছেন।
বুধবার ভাঙনকবলিত বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদী পাড়ের বাসিন্দারা ভাঙনের হাত থেকে নিজেদের সবশেষ সম্বল ঘরবাড়ি, খাদ্য সামগ্রি আর গবাদি পশু, হাঁস-মুরগি সরাতে ব্যাস্ত। নিরাপদ দূরত্বে গিয়ে জিনিসপত্র রেখে আসছে তারা। আর অবস্থান নিচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তীর রক্ষা বাঁধে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভাঙনের কবলে পড়ে ইতোমধ্যে উপজেলার রমনা ইউনিয়নের টোনগ্রামের ২৫ পরিবার, ব্যাপারী পাড়ার ৫শ পরিবার, হিন্দু পাড়ার ২৫ পরিবার, মাস্টার পাড়ার ১০ পরিবার, মুদাফৎ থানার ৩শ পরিবার, বাসন্তী গ্রামের ১শ পরিবার, জোড়গাছ বাজার এলাকার ৭০ পরিবারসহ ঝালোপাড়ার ৫০ পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে।
এদিকে হিন্দু পাড়া ও ব্যাপারী পাড়া এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডে তীর রক্ষা বাঁধ থেকে প্রায় ১২০ ফিট দূরে ব্রহ্মপুত্র নদ অবস্থান করছে এবং প্রতিনিয়ত ভাঙন অব্যাহত থাকায় বাঁধের দিকে এগিয়ে আসছে।
হিন্দু পাড়া এলাকার ভূষণ চন্দ্র বর্মণ (৬৫), উজ্জল চন্দ্র বর্মণ, সুভাসচন্দ্র বর্মণ, শান্তনা রাণী জানান, এ বাঁধটি ভাঙলে তারা কোথায় গিয়ে আশ্রয় নেবেন তা তারা জানেন না। এদিকে জোড়গাছ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে নদী প্রায় ৭৫ ফুট দূরে অবস্থান করছে। ফলে ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে স্কুলটি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. নাছরিন আরা জানান, স্কুলভবন দু’টি নদী ভাঙনের হুমকির মুখে থাকার বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। কিন্তু এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।
বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. হবিবুর রহমান জানান, চিলমারী উপজেলায় বিদ্যালয়টি সুনামের সঙ্গে এগিয়ে চলছিল। প্রতি বছর পিএসসির ফলাফল ভাল করছিল। বর্তমানে স্কুলটিতে প্রায় ৩৫০ জন ছাত্র-ছাত্রী লেখা পড়া করছে। এমতাবস্থায় স্কুলভবনটি ভেঙে গেলে স্কুলকে কোথায় স্থানান্তরিত করবেন সে জায়গা খুঁজে পাচ্ছেন না। তিনি হিন্দু পাড়া থেকে বিদ্যালয় পর্যন্ত বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন ঠেকানোর জন্য স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
অপরদিকে গত এক সপ্তাহের নদীভাঙনে প্রায় ১২০ একর ফসলী জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে টোন গ্রাম থেকে জোড়গাছ বাজার পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার জায়গা জুড়ে নদীভাঙন অব্যাহত থাকায় হুমকির মুখে রয়েছে হাজার হাজার একর ফসলী জমি ও শতাধিক বসত ভিটা।
ভাঙন কবলিতরা জানায়, এ পর্যন্ত তাদের পূনর্বাসনে সরকারি কিংবা বেসরকারি কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ফলে তারা তাদের জীবনযাপন নিয়ে হতাশায় রয়েছেন।
এ ব্যাপারে চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা বলেন, ‘নদীভাঙা পরিবারগুলোকে ত্রাণ সহায়তা দেয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজার রহমান বলেন, ‘আমরা ভাঙনকবলিত এলাকা রিপোর্ট করতেছি। দুই একদিনের মধ্যে ভাঙন ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

