স্বাস্থ্য ডেস্ক : দেখতে দেখতে পার হয়ে গেছে ছেলেবেলা, পার হয়েছে বড়বেলাও। বয়স গিয়ে ঠেকেছে বৃদ্ধের কোঠায়। সব স্মৃতির ভিড়ে এখন অনেক কিছু ভুলে যান যখন তখন। বয়সের গণ্ডি ৪৫ পার হলেই বিশাল অংশের একদল লোকের স্মরণ শক্তি কমে যেতে শুরু করে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে সব কিছু ভুলে যাওবার প্রবণতা। এই ধরণের সমস্যাকে বলা হয় আলঝেইমার’স রোগ।
এ রোগের সঠিক কারণ এখন পর্যন্ত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। সাম্প্রতিক গবেষণা গুলো দাবি করছে- যে সব উপাদান বা নিউরোট্রান্সমিটার এর আদান প্রদান এর মাধ্যমে মস্তিষ্কে কাজ করে তাদের সমস্যার কারণেই এই রোগটি হয়ে থাকে। পরিসংখান অনুযায়ী শতকরা ১৫ ভাগ রোগী এ রোগে আক্রান্ত হন পারিবারিক উত্তরাধিকার সূত্রে। এ রোগ হলে মস্তিষ্কের পরিমান ছোট হয়ে আসতে থাকে। বিশেষ করে সেরিব্রাল কর্টেক্স এবং হিপোক্যাম্পাস উল্লেখযোগ্য ভাবে আকারে কমতে থাকে।
রোগী সাম্প্রতিক এবং অতীত দুই ধরণের স্মৃতিই হারিয়ে ফেলেন। যদিও সাম্প্রতিক ঘটনা গুলো ভুলে যাওয়ার হারই বেশি থাকে। এছাড়া এসব রোগীর মাঝে দ্বিধা, খিটখিটে স্বভাব, উদ্ধত ভাব, বিষণ্ণতা-অবসাদ, বাকশক্তিহীনতা বা অন্যের কথা বোঝার ক্ষমতা কমে যাওয়াসহ নানাবিধ সমস্যা দেখা দেয়। এই সমস্যায় ব্যক্তি তার সমস্যা গুলো বুঝতে পারেন না। এমন কি তিনি বিশ্বাস করেন- তার কোনো সমস্যাই নেই। এর ফলে ব্যক্তির পারিবারিক ভুলবোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়।
এমন রোগ হলে পরিবারের প্রবীণ সদস্যটিকে একজন নিউরোবিশেষজ্ঞের নিকট নিয়ে যাওয়া উচিৎ। সাধারণত চিকিৎসক সাহেব রোগীর ইতিহাস জেনে এবং তার আত্মীয়দের সঙ্গে কথা বলেই রোগটি নিশ্চিত করতে পারেন। তবে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় সিটি স্ক্যান, এম-আর-আই, স্পেক্ট, পেট স্ক্যান গুলো করে সমস্যা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হয়।
আলঝেইমার রোগের এখনো সঠিক কোন চিকিৎসা আবিষ্কার করা সম্ভব হয়ে উঠেনি। তবে পরিবারের সদস্যরা সহানুভুতিশীল হলে ভুক্তভুগী ব্যক্তিটিকে একটি সঠিক স্নেহময় পরিবেশ পারেন। এতে সে একটি অর্থবহ জীবন যাপন করতে পারে। যারা লেখালেখি, বইপড়া, যন্ত্রসংগীত বাজানো, বিভিন্ন সামাজিক গঠন/সেবামূলক কাজ ইত্যাদিতে ব্যস্ত থাকেন এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খান তাদের মাঝে এ রোগ হওয়ার প্রবণতা কম। অন্যদিকে যারা অনিয়ন্ত্রিত কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ রোগে ভোগেন বা ধুমপায়ী তাদের মধ্যে এ রোগ হবার প্রবণতা অপেক্ষাকৃত ভাবে বেশি।
তবে উৎসাহের কথা হলো- সম্প্রতি আলঝেইমার রোগের উপশমে কিছু অসুধ আবিস্কৃত হয়েছে। এদের কার্যকারীতা শতভাগ না হলেও অনেক ক্ষেত্রেই এরা রোগ উপশমে আশানুরূপ প্রমাণ রেখেছে।

