রংপুর প্রতিবেদক : ‘ফিস্টুলা হোক নির্বাসিত, নারী হোক সন্মানিত’ এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রামেকে আন্তর্জাতিক প্রসবজনিত ফিস্টুলা নির্মূল দিবস পালিত হয়েছে।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল-ইউএনএফের আর্থিক সহযোগিতায় এ দিবস পালন করা হয়।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বাংলাদেশ উইমেন্স হেলথ কোয়ালিশনের সার্বিক সহায়তায় রংপুর মেডিকেল কলেজে ৩য় আন্তর্জাতিক প্রসবজনিত ফিস্টুলা নির্মূল দিবস যথাযথ গুরুত্ব সহকারে উৎযাপিত হয়।
২০০৩ সালের ৫মার্চ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাধাগ্রস্ত প্রসবজনিত ফিস্টুলা অবসানে আন্তর্জাতিকভাবে প্রতি বছরের ২৩ মে এ দিবস পালনের সিদ্ধান্ত হয় এবং ২০১৩ প্রথমবারের মতো সারা বিশ্বে প্রসবজনিত ফিস্টুলা নির্মূল দিবস পালিত হয়।
এ বছর তৃতীয়বারের মতো দিবসটি পালিত হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী ইউএনএফপিএর কর্মসূচি ‘ক্যাম্পেইন টু অ্যান্ড ফিস্টুলা’ এর আওতায় এ দিবস পালিত হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে দিবসটির তৎপর্যকে তুলে ধরা হয়।
এ বিষয়ে জনসচেতনা সৃষ্টির লক্ষ্যে রংপুর মেডিকেল কলেজের কনফারেন্স রুমে রংপুর মেডিকেলের পরিচালক বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মো. আব্দুল বাতেনের সভাপতিত্বে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে গাইনি, সার্জারি ও ইউরোলজিসহ বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসক, সেবিকা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের গাইনি বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান এবং প্রসবজনিত ফিস্টুলা বিষয়ের বিশেষজ্ঞ সার্জন অধ্যাপক ডা. ফেরদৌসী সুলতানা।
তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউএনএফপির বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশেসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রায় ২০ লাখ নারী প্রসবজনিত ফিস্টুলায় ভুগছেন। প্রতিবছর ৫০ হাজার থেকে এক লাখ নতুন রোগী এ সংখ্যার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতি এক হাজার বিবাহিত নারীর মধ্যে ১ দশমিক ৬৯ জন প্রসবজনিত ফিস্টুলায় আক্রান্ত। এজন্য তিনি বাংলাদেশের নারীদের আর্থসামাজিক অবস্থাকেই দায়ী করেন।
তিনি আরো উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের ১০টি সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইউএনএফপির আর্থিক সহায়তায় বিনামূল্য প্রসবজনিত ফিস্টুলার চিকিৎসা দেয়া হয়। তাদের পুর্নবাসনের জন্য ইউএনএফপির অর্থিক সহায়তায় এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বাংলাদেশ উইমেন্স হেলথ কোয়ালিশনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ঢাকা মেডিকেল কলেজের পাশেই বকশী বাজারে একটি পূর্নবাসন কেন্দ্র রয়েছে। যেখানের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে এ ধরনের রোগীদের চিকিৎসা পরবর্তী পুর্নবাসনের ব্যবস্থা করা হয়। পরবর্তীতে প্রসবজনিত ফিস্টুল রোগের কারণের সামাজিক প্রভাব এবং চিকিৎসা ও পুর্নবাসনের উপর একটি ভিডিওচিত্র অনুষ্ঠানে প্রর্দশন করা হয়।
পরবর্তীতে অলোচনা অনুষ্ঠানে রংপুর মেডিকেলের উপ-পরিচালক ডা. আব্দুল কাদের তার আলোচনায় প্রসবজনিত ফিস্টুলা নির্মূলে তৃর্ণমূল পর্যায়ে অসচেতন নারীদের আরো সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বআরোপ করেন। গর্ভকালীন সময়ে নারীদের প্রতি বিশেষ যত্ন নেয়ার প্রতি জোর দেন।
পরবর্তীতে সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক ডা. বিমল চন্দ্র রায় তার আলোচনায় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে যে সকল রোগী সচেতনতার অভাবে এই রোগের চিকিৎসা নিচ্ছে না তাদের স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনার জন্য সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের ওপর জোর দেন।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে ইউরোলজি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শহীদুল ইসলাম প্রসবজনিত ফিস্টুলা রোগীদের চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন বিভাগের জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকদের সমন্বয়ের উপর গুরুত্বআরোপ করেন। নবীন চিকিৎসকদের এই চিকিৎসা প্রদানে আরো দক্ষ হওয়ার পরামর্শ প্রদান করেন।
সেমিনারের সভাপতি তার সমাপনী বক্তব্যে প্রসবজনিত ফিস্টুলা রোগের বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের উদ্যেগ গ্রহণের জন্য অনুষ্ঠানে সার্বিক সহযোগিতা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ইউএনএফপিএ ও বাংলাদেশ উইমেন্স হেলথ কোয়ালিশনকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান। ভবিষ্যতেও এই ধরনের উদ্যেগ চলমান থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

