ঢাকাTuesday , 26 May 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

গা বাঁচাতে পাচারকারীরা এখন তাবলীগে

Link Copied!

manকক্সবাজার প্রতিনিধি : জলে-স্থলে সবখানে অনিরাপদ বোধ করায় তাবলীগে ঠাঁই নিয়েছে উখিয়া-টেকনাফের শীর্ষ বেশ কয়েকজন মানবপাচারকারী। দাঁড়ি রেখে পুরোদস্তুর ধর্মপ্রাণ মুসল্লি বনে গেছে তারা। প্রশাসনের কঠোর নজরদারির মুখে আত্মগোপনের চেষ্টায় তারা মিশে গেছে তাবলীগে। স্থানীয় পর্যায়ে অনুসন্ধান চালিয়ে বিস্ময়কর এ তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি গোয়েন্দা সংস্থার নজরেও এসেছে।
গোয়েন্দা পুলিশের সূত্রমতে, কয়েক মাস আগে থেকেই শীর্ষ মানব পাচারকারীরা তাবলীগে যোগ দিয়ে আত্মগোপন করার চেষ্টা করে। এ তথ্য হাতে আসার পরে বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখে ডিবিসহ গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। শেষ অবধি তথ্যের সত্যতা খুঁজে পায় গোয়েন্দারা।
মাঠ পর্যায়ে অনুসন্ধান করে জানা গেছে, থাইল্যান্ডে অভিবাসীদের গণকবরের সন্ধান পাওয়ার পর বাংলাদেশে প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিলে ভড়কে যায় মানবপাচারকারীরা। এর মধ্যে পাচারকারীদের ধরতে পুলিশ সশস্ত্র অভিযান শুরু করলে তারা সটকে পড়ে। ইতিমধ্যে কয়েকজন ক্রসফায়ারের শিকার হয়েছে, কাউকে আটক করেছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।
সম্প্রতি মানবপাচারের বিষয়টি ‘টক অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ হলে দেশজুড়ে প্রশাসনের তৎপরতা জোরদার হয়। এ পরিস্থিতিতে জলে-স্থলে দেশের কোনো জায়গায় আত্মগোপন করার ক্ষেত্রে আস্থা না পাওয়ায় নিরূপায় হয়ে তাবলীগ জামাতকে নিরাপদ আশ্রয়স্থান হিসেবে বেছে নিয়েছে অবৈধ আদম ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয় সূত্রমতে, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়ায় গণকবর এবং সাগরে অসংখ্য লোকের ভাসমান থাকার বিষয় নিয়ে ‘টেনশনে’ ছিল মালয়েশিয়ায় মানবপাচারের শীর্ষ দালালরা। অভিবাসীদের গণকবর ও অথৈ জীবন-মরণের সন্ধিক্ষণে নিরূপায় ভাসমান মানুষদের খবরে পুরো বিশ্বে যে তোলপাড় চলছে তা বিগত তিন মাস আগ থেকেই আঁচ করতে পেরেছিল তারা। এতে নিজেদের অস্তিত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়ে। সে কারণে অভিযান শুরু হলে দেশের জলে-স্থলে কোথাও নিরাপদ বোধ করেনি তারা। শেষ আশ্রয় হিসেবে তাবলীগ জামাতকে বেছে নিয়েছে।
অনুসন্ধানে তাবলীগে যোগ দিয়ে আত্মগোপন করা শীর্ষ দালালদের মধ্যে কয়েকজনের পরিচয় জানা গেছে। এরা হলেন- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত উখিয়ার শীর্ষ মানব পাচারকারী রুস্তম আলী, মো. ছৈয়দ প্রকাশ ছৈইয়্যা, ফয়েজ, নূরুল কাদের, শামসুল আলম সোহাগ, জালাল উদ্দীন ও হোসেন। এ তালিকায় টেকনাফেরও কয়েকজন শীর্ষ মানবপাচারকারী রয়েছে।
সূত্র বলছে, দাঁড়ি-গোফ রেখে চেহারা পাল্টিয়ে তাবলীগে যোগ দিয়েছে এসব মানব পাচারকারীরা। দরবেশী বেশ ধারণ করে ‘বকধার্মিক’ সেজেছে তারা। দীর্ঘ চিল্লায় ঢাকার আশেপাশের এলাকা, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, বরিশালসহ উত্তরাঞ্চলের মসজিদে মসজিদে তাবলীগ জামাতের সঙ্গী হয়ে অবস্থান করছে।
উল্লেখ্য, এর আগে এখানকার ইয়াবা ব্যবসায়ীরাও তাবলীগে যোগ দিয়ে আত্মগোপন করেছিল।
ইতোমধ্যে আটক মানবপাচারকারী ও দালালরাও এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে। এমনকি আত্মগোপন করা মানব পাচারকারীরা কোন কোন এলাকায় অবস্থান করছে সে ব্যাপারেও তথ্য বের হয়ে আসছে।
এ প্রসঙ্গে কক্সবাজারের অতিরিক্তি পুলিশ সুপার তোফায়েল আহমদ বলেন, ‘তাবলীগ জামাতের প্রতি সরকারের নজরদারি না থাকার সুযোগে গ্রেপ্তার এড়াতে মানব পাচারকারীরা তাবলীগে যোগ দিয়ে আত্মগোপন করেছে। এরকম তথ্য বের হয়ে আসার পর পুলিশের পক্ষ থেকে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।’
এদিকে সর্বশেষ গতকাল রোববার থাইল্যান্ডের সীমান্ত সংলগ্ন পার্লিস প্রদেশের পাদাং বেসার এলাকায় অভিবাসীপ্রত্যাশীদের ১৩৯টি গণকবর এবং ২৮টি শিবিরের সন্ধান মিলেছে। এসব কবরে ভাগ্যহত রোহিঙ্গা এবং বাংলাদেশিদের শত শত লাশ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়া গত সপ্তাহে মিয়ানমারের জলসীমায় ২০৮ জন অভিবাসন প্রত্যাশীকে বহরকারী একটি ট্রলার জব্দ করে সেদেশের কোস্টগার্ড। এখানেও যাদের পাওয়া গেছে তাদের বেশিরভাগই বাংলাদেশি।
মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া উপকূলে সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করে আশ্রয় শিবিরে রাখা হয়েছে। এরকম আরো কয়েক হাজার মানুষ সাগরে আটকরা পড়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মালয়েশিয়া নৌবাহিনী ইতিমধ্যে তাদের অনুসন্ধানে তৎপরতা শুরু করেছে। তাছাড়া মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে এখনো বাংলাদেশিদের গণকবরের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে অবৈধভাবে সাগরপথে বিদেশে পাড়ি দেয়ার বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। মিয়ানমারের সরকারের বৈষম্য ও নিপীড়নমূলক আচরণের কারণে রোহিঙ্গারা বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাগর পথে অন্য দেশে যাওয়ার বিষয়টি যৌক্তিক মনে করা হলেও বাংলাদেশের মানুষ কেন এই বিপজ্জনক পথ বেছে নিচ্ছে তার কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না।
অবশ্য গত কয়েক বছরের মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমশক্তি রপ্তানি প্রায় বন্ধ থাকা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে কর্মসংস্থান কমে যাওয়াকে অনেকে এই বিপজ্জনক অভিবাসনের কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন।