ঢাকাWednesday , 20 May 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রাষ্ট্রীয় আদেশ অমান্য করে গনপূর্তের প্রধান প্রকৌশলীর নিয়োগ বাণিজ্য

Link Copied!

mohpw_bannerবিশেষ প্রতিনিধি : গনপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী কবির আহম্মেদ ভূঁইয়ার অনিয়ম দুর্নীতির মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলছে। তার বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ দায়েরের পর তিনি আরো বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলে ভুক্তভোগীরা। তিনি ধরাকে সরা জ্ঞান করে অধিদপ্তরে দুর্নীতির রামরাজত্ব কায়েম করে চলেছেন। রাষ্ট্রীয় আদেশ নিষেধাজ্ঞা করে তিনি বৃদ্ধাঙ্গলী দেখিয়ে চলেছেন।

দুর্নীতির বরপুত্র কবির আহম্মেদ ভূঁইয়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ের আদেশ অমান্য করে এবার গনপূর্ত অধিদপ্তরের ২১১৮জন বিভিন্ন পদে কর্মরত ওয়ার্কচার্জড কর্মচারিদের বঞ্চিত করে বাইরের প্রার্থী দ্বারা পদ পূরণের অসৎ উদ্দেশ্যে লিপ্ত হয়েছেন। প্রধান প্রকৌশলীর এই স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্তের কারণে ২০/৩০ বছর  চাকরি করেও স্থায়ী হতে পারছেন না ওয়ার্কচার্জড কর্মচারিরা। এক অজানা আতঙ্ক নিয়ে তাদের চাকরি করতে হচ্ছে। সংস্থাপন মন্ত্রনালয়ের বিধি শাখা-৩ অফিস স্বারক নং সম(বিধি-৩)কন্টি:-৩/৮৮-৪০ তারিখ ৪/৭/১৯৮৮ মোতাবেক ১০ বছর চাকরির পর ওয়ার্কচার্জড কর্মচারিদের নিয়মিত সংস্থাপন প্রতিষ্ঠানে আনয়নে আওতাভুক্ত বলে বিবেচিত হবে। একই মন্ত্রনালয়ের কল্যান শাখা-২ অফিস স্বারক নং এমই/এস ডব্লিউ-২/আর-৫/৮৭-১৭১(৬০) তারিখ ৭/৫/১৯৮৭ সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে বিদ্যমান ওয়ার্কচার্জড কর্মচারিকে শূণ্যপদের বিপরীতে নিয়োগ দেয়ার প্রাধিকার দিয়ে পূরণ করতে হবে। শূণ্যপদসমূহ ওয়ার্কচার্জড কর্মচারি ব্যতিরেকে বাইরের প্রার্থী দ্বারা পূরণ করা যাবে না। করলে সরকারি বিধি ও সিদ্ধান্তের পরিপন্থী বলে বিবেচিত হবে। অথচ প্রধান প্রকৌশলী কবির আহম্মেদ ভূঁইয়া ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতে এবং আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে ওয়ার্কচার্জড কর্মচারিদের বঞ্চিত করে বাইরের প্রার্থী দ্বারা পদ পূরণের পাঁয়তারা করছেন। এ লক্ষে গত ১২ মে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। চতুর্থ শ্রেণীর ১৭৬টি পদে নিয়োগের লক্ষে লিখিত পরীক্ষা ১৫/৫/২০১৫ তারিখে সম্পন্ন করেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (সামরিক সচিবের শাখা) স্বারক নং ০৮.৩৯.১৬.০১.০০.২২.২০১৩/২৪ তারিখ ৩০ জুন ২০১৩ প্রধানমন্ত্রীর সহকারি সামরিক সচিব লে. কর্নেল মোহাম্মদ মাহবুবুর রশিদ স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গনভবনে কর্মরত কার্যভিত্তিক ৪৮ জন কর্মচারিকে চাকরি স্থায়ীকরণের ব্যাপারে গনপূর্তের প্রধান প্রকৌশলীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, গনভবনে নিয়োজিত কর্মচারিরা পেশাগত দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও বিশ্বস্ততার সাথে তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করা সত্বেও চাকরি স্থায়ী না হওয়ায় পরিবারসহ তাদের ভবিষ্যৎ জীবন অনিশ্চিত। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিঠির পরও এ সমস্ত কর্মচারির চাকরি স্থায়ী হয়নি। চাকরি স্থায়ী  না হওয়ার পেছনে প্রধান প্রকৌশলীর নিয়োগ বানিজ্য রয়েছে বলে জানা গেছে।

সংস্থাপন মন্ত্রনালয়ের আদেশের পরিপেক্ষিতে গৃহায়ন ও গনপূর্ত অধিদপ্তরের স্বারক নং শা-১/৩ডি-৩/৮৪/৮০১ প্র.তারিখ২৪/০৭/১৯৯৪ইং। এ্কই মন্ত্রনালয়ের অপর এক স্বারক নং শা-২/২এম-১৪/২০০২/৫২৯ তারিখ ৪/১১/২০০৭। মোতাবেক এ যাবৎকালে ওয়ার্কচার্জড কর্মচারিদের মধ্য হতেই শূণ্য পদ পূরণ করা হয়। কিন্তু বর্তমান প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তর স্বারক নং ২৫.৩৬.০০০০.২১১.১৫.৪০৬.১৫-৮৬ তারিখ ১৫/০২/২০১৫ইং পত্রে রাজস্ব খাতে অস্থায়ীভাবে সৃজনকৃত ৩৪৯টি পদের বিপরীতে বর্তমান ওয়ার্কচার্জড হিসেবে কর্মরত ১৩১জন কার্যসহকারি কর্মচারিকে শূণ্যপদে নিয়োগ দানের জন্য প্রস্তাব গৃহায়ন ও গনপূর্ত মন্ত্রনালয়ের সচিব বরাবর সুপারিশসহ অনুরোধ করেন। অপরদিকে ১৭৬ জন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারিকে বাইরের প্রার্থী দ্বারা শূণ্যপদ পূরণের জন্য বলা হয়, যা স্ববিরোধী ও সাংঘর্ষিক। একদিকে শূণ্যপদে নিয়োগ দিতে বলেছেন ওয়ার্কচার্জড কর্মচারিদের। আরেকদিকে বাইরের প্রার্থীকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে নিয়োগের পাঁয়তারা চলছে। একই মন্ত্রনালয়ের স্বারক নং শা-৯/৫/৫/৮৪-১৪২ তারিখ ৪/৬/১৯৯২ ইং ও অপর এক স্বারক ৯/৫-এ-৫/৮৮/১৪২ এ প্রধান প্রকৌশলীর পত্রে উল্লেখ করেন, ১৩১জন ওয়ার্কচার্জড/মাস্টাররোল কর্মচারিদের শূণ্যপদে নিয়োগ প্রদান করলে বেতন ভাতাদি বাবদ সরকারের অতিরিক্ত অর্থ প্রয়োজন হবে না। ১৭৬ জন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারি বাইরের প্রার্থী দ্বারা শূণ্যপদে নিয়োগ দিলে সরকারের প্রতিবছর ২০ কোটি টাকা অতিরিক্ত অপচয় হবে। বিদ্যমান ওয়ার্কচার্জড কর্মচারিদের মধ্য হতে শূণ্যপদ পূরণ করলে সরকারের একটি টাকাও অপচয় হবে না।