শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি : গাজীপুর জেলাধীন শ্রীপুর উপজেলার প্রাণকেন্দ্র মুলাইদ গ্রামে অবস্থিত এএসএম কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজের বর্জ্যে শ্রীপুরের পরিবেশ বিষাক্ত হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় কয়েকটি কৃষক পরিবার এ প্রতিবেদককে জানান, কেমিক্যাল কারখানার দূষিত বর্জ্যে তাদের ক্ষেতের ফসলসহ গাছপালা মরে যাচ্ছে। কারখানা স্থাপনের পর থেকেই এলাকার পরিবেশ মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। এ বিষয়ে স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেও অদ্যাবধি আশানুরূপ কোনো ফল পাওয়া যায়নি। স্থানীয় কৃষক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রশিদ ফকির বলেন, আমাদের এখন বাড়িঘর ছেড়ে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এ কারখানার বর্জ্যে শ্রীপুরের বেশ কয়েকটি নদী, খাল-বিলের পানি দূষিত হয়ে কালো রূপ ধারণ করেছে। গাছপালা, পশুপাখি মরে যাচ্ছে। প্রকৃতির উপর বিরূপ প্রভাব পড়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আর কয়েক বছর পর শ্রীপুরের কারখানা এলাকা বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়বে। এ বিষয়ে প্রতিবেদক কারখানার কর্তব্যরত জিএম এর সাথে দেখা করতে গেলে নিরাপত্তা কর্মকর্তা কামালউদ্দিন বলেন, স্যার কারো সাথে দেখা করে না। তিনি আরো বলেন, কারখানার বিষয়ে কথা বলতে হলে উপজেলা চেয়ারম্যানের ভাই খলিলের সাথে কথা বলতে হবে। উল্লেখ্য যে, কারখানা আইনে জনবহুল এলাকায় কেমিক্যাল ফ্যাক্টরি করার বিধিনিষেধ থাকার পরও জনবহুল এলাকায় পরিবেশ অধিদপ্তরের লোকজনকে ম্যানেজ করে দীর্ঘদিন যাবৎ চালিয়ে যাচ্ছেন আজিজ গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এএসএম কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিঃ। উল্লেখ্য, দূষিত পানি নির্গমনের ব্যবস্থাপনা থাকার পরও সরকারি রাস্তা কেটে ড্রেন নির্মাণ করেছেন কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে এলাকার সচেতন মহল স্থানীয় এমপিকে একটি স্মারকলিপি দেওয়ার পরও উপজেলা চেয়ারম্যানের যোগসাজশে রাস্তা কেটে ড্রেন নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে উক্ত রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যাওয়ায় এলাকাবাসীর ভোগান্তি চরমে উঠেছে।
নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, জনবহুল স্থানে গড়ে উঠা কারখানাটিতে কোন কারণে বিস্ফোরণ ঘটলে আশপাশের কয়েক হাজার লোকের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। তাই এলাকাবাসীর জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় দ্রুত অন্য কোনো নির্জন স্থানে কারখানাটি সরানোর দাবি জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মহল।
এ ব্যাপারে গতকাল মঙ্গলবার গাজীপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের দায়িত্বে থাকা উপ-পরিচালক সোনিয়া সুলতানা দৈনিক পাঞ্জেরী’কে বলেন, আমারে টিম গত ডিসেম্বরে ঐ ফ্যাক্টরি ভিজিট করেছে। তখন কোনো সমস্যা পায়নি। বর্তমানে যদি কোনো সমস্যার সৃষ্টি হয়ে থাকে আমরা ব্যবস্থা নিব। তবে গোপন সূত্রে জানা গেছে, পরিবেশ অধিদপ্তরের কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের মোটা অঙ্কের মাসোহারা প্রদান করা হয় ঐ ফ্যাক্টরি থেকে।

