ঢাকাTuesday , 19 May 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রেজিস্ট্রারের হস্তক্ষেপ কামনা
জয়েণ্ট স্টকের ঘুষখোর এক্সামিনার সিরাজ উদ্দিনের ক্ষমতার উৎস কোথায়?

Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক : বর্তমান সরকার দুর্নীতি বিরোধী অভিযান চালালেও সরকারের অনেক অধিদপ্তর কিংবা পরিদপ্তরে ঘাপটি মেরে থাকা কতিপয় ঘুষখোর ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা/কর্মচারীর কারণে সরকারের ভাবমূর্তি ম্লান হচ্ছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বার বার দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার কণ্ঠে আওয়াজ তুললেও দুর্নীতিবাজরা এতে কোন রকম কর্নপাত করছেন না। তারা সরকারকে বৃদ্ধাঙ্গুলী প্রদর্শন করে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন জনগণের কাছ থেকে। এদের সংখ্যা বেশী হওয়ায় প্রতিষ্ঠানের বড় কর্তাও অনেক সময় অসহায় হয়ে পড়ছেন। দৈনিক পাঞ্জেরী’র অনুসন্ধানে একটি পরিদপ্তরের কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার ব্যাপারে রোমহর্ষক তথ্য পাওয়া গেছে। সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ পরিদপ্তর জয়েন্ট স্টক কোম্পানীজ এ- ফার্মস। প্রতি বছর এখান থেকে সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব আয় করলেও ঘুষখোর দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের ব্যাপারে কার্যকরী কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয় না। এ কারণে দুর্নীতিবাজরা আরো বেসামাল হয়ে উঠছেন। এ রকম একজন কর্মকর্তার নাম সিরাজ উদ্দিন। তিনি ঐ দপ্তরের এক্সামিনার(পরীক্ষক)। পদে ছোট হলেও প্রতিদিন আয় তার লাখ টাকা। তিনি বহুদিন ধরে এখানে কর্মরত রয়েছেন। তার নাকি ক্ষমতার শিকড় অনেক গভীরে। দুর্নীতির বরপুত্র সিরাজ উদ্দিন কাউকে পরোয়া করেন না। প্রতিটি ফাইলে সর্বনিম্ন ৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয় তাকে । ফলে কোম্পানীর প্রতিনিধি ও আইনজীবিরা এক প্রকার জিম্মী হয়ে পড়েছেন। কিন্তু উপায় নেই। ঘুষ না দিলে শুরু হয় নানা টালবাহানা। শেষ পর্যন্ত টাকা দিয়েই ফাইল উপস্থাপন করা হয়।  সূত্র জানায়, কারো নামে নতুন শেয়ার বরাদ্দ, শেয়ার ট্রান্সফার ও বাৎসরিক রিটার্ণসহ নানা কাজ করতে আসা আইনজীবি এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিকে মোটা অংকের টাকা গুণতে হয় সিরাজ উদ্দিনের টেবিলে। ভুক্তভোগীরা জানান, এক্সামিনার সিরাজ উদ্দিন টাকা ছাড়া কিছুই বোঝেন না। মানবতা নামক শব্দটির সাথে তার কোন সম্পর্ক নেই বলেও ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন। শুধু চাই টাকা। বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী গতকাল দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, কাগজপত্র সঠিক থাকার পরও তাকে চাহিদামত টাকা দিতে হবে। না দিলে এ ঝামেলা ও ঝামেলা শুরু হয়ে যায়। ফাইলই উপস্থাপন করা হয় না। উপায়ন্ত না পেয়ে তারা সিরাজউদ্দিনের চাহিদা মাফিক টাকা দিয়ে ফাইলের কাজ করিয়ে নেয়। সূত্র জানায়, জয়েন্ট স্টক কোম্পানীজ এ- ফার্মস-এ কর্মরত একজন সহকারী পরিচালক তার মামা। তিনিই নাকি নাটোর গুরু। সিরাজ উদ্দিনের সকল অবৈধ কর্মকা-ের শেল্টার দাতাও তিনি। এছাড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে তার এক নিকটাত্মীয় রয়েছেন। তিনিও সিরাজ উদ্দিনকে সব কাজে সহায়তা করেন। এ কারণে ঘুষখোর সিরাজ উদ্দিন দুর্নীতি করেও পার পেয়ে যাচ্ছেন। ফলশ্রুতিতে প্রশ্ন উঠেছে, দুর্নীতির শিরোমনি সিরাজ উদ্দিনের ক্ষমতার উৎস কোথায়? তবে সিরাজ উদ্দিন একা নয়, এ রকম আরো কয়েকজন কর্মকর্তা রয়েছেন যারা ঘুষ দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। একটি সূত্র আরো জানায়, জয়েন্ট স্টক কোম্পানীজ এ- ফার্মস এর রেজিস্ট্রার (নিবন্ধক) বিজন কুমার বৈশ্য একজন ক্লিন ইমেজের মানুষ। দুর্নীতি বিরোধী মানসিকতা রয়েছে তার। দাপ্তরিক কাজেও বেশ স্বচ্ছতা পাওয়া যায়। রেজিস্ট্রারের নিষ্ঠা ও কর্তব্যপরায়নতা নিয়ে কারো কোন প্রশ্নও নেই। তবে ভুক্তভোগীরা বলছেন, রেজিস্ট্রারের একার পক্ষে দুর্নীতি দমন করা সম্ভব  নয়। এটি একটি টিম ওয়ার্ক। জয়েন্ট স্টক সূত্রে আরো জানা গেছে, হয়রানির ভয়ে কেউ সিরাজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন না। এ কারণে ভুক্তভোগীরা সিরাজ উদ্দিনের শাস্তি দাবী করেছেন এবং লোভনীয় নয় এমন স্থানে তাকে পোস্টিং দেওয়ারও আবেদন জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে জয়েন্ট স্টক কোম্পানীজ এ- ফার্মস এর রেজিস্ট্রার অতিরিক্ত সচিব বিজন কুমার বৈশ্য দৈনিক পাঞ্জেরীকে জানান, দুর্নীতি দমন করা একার পক্ষে সম্ভব নয়। আমি দুর্নীতির উর্ধ্বে উঠে কাজ করার চেষ্টা করি। তবে এটা একটি রোগে পরিনত হয়েছে। কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযুক্ত হলে ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। এদিকে গতকাল রাতে এক্সামিনার সিরাজ উদ্দিনের মোবাইল ফোনে তার বক্তব্য জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘুষ নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন।