আন্তর্জাতিক ডেস্ক
নাইজেরিয়ায় সেনাবাহিনীর ১২ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা হয়েছে। ‘দলনেতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ’ ও ‘হত্যাচেষ্টার’ কারণে আবুজায় এক কোর্ট মার্শালে এ মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। সেনারা এ রায় প্রত্যাখ্যান করেছে।
নাইজেরিয়াভিত্তিক সশস্ত্র ইসলামি সংগঠন বোকো হারাম এ ঘটনার সঙ্গে পরোক্ষভাবে জড়িত।
চলতি বছরের মে মাসে উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ বর্নোর রাজধানী মাইদুগুরিতে বোকো হারামের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষের পর নাইজেরীয় সেনাদলের একটি অংশ দলনেতাকে উদ্দেশ্য করে পাথর ও গুলি ছোড়ে বলে অভিযোগ ওঠে।
বোকো হারামকে নিয়ন্ত্রণে আনার জন্যে নাইজেরীয় সরকারের ওপর কূটনৈতিক চাপ অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। মে মাসে দলটির বিরুদ্ধে পরিচালিত এক অভিযানে জেনারেল আমাদু মোহাম্মাদের নেতৃত্বে ঐ সেনাদলটি অগ্রসর হচ্ছিল। পথিমধ্যে যে স্থানে জেনারেল সেনাদের অ্যামবুশ করতে নির্দেশ দেন, সে স্থান হতে বোকো হারামের অত্যন্ত সহজ শিকারে পরিণত হয় দলটি।
এ ঘটনায় অত্যন্ত ক্ষিপ্ত হন সেনারা। তখন জেনারেল আমাদুকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়েন তারা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায় গুলি ছোড়া হলেও তা আমাদুকে লক্ষ্য করে নয়, বরং ফাঁকা স্থানে ছোড়া হয়েছিল। আমাদু গাড়িতে উঠে গিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আত্মরক্ষা করেন। জেনারেল আমাদু মোহাম্মাদ নাইজেরীয় সেনাবাহিনীর সপ্তম ডিভিশনের নেতৃত্বশীল কর্মকর্তা।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নয় সদস্যবিশিষ্ট একটি কোর্ট মার্শাল আদালত গঠিত হয় যার নেতৃত্ব দেন চুকবোয়েমেকা ওকোনকো। তিনি পুরো ঘটনা শুনে সর্বসম্মতিক্রমে আসামীদের স্পষ্টত দোষী বলে রায় দেন এবং এমন বিদ্রোহকে জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি হুমকি বিবেচনা করে ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন।
বিশেষ বিবেচনায় কোন শর্তছাড়া মুক্তি পায় ৫ সেনা। অপর এক সেনাকে অন্য ইস্যুতে দণ্ডিত করা হয়।

