আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভারতে স্ত্রী এবং ছয় বছর বয়সী শিশু কন্যাকে গলা কেটে খুন করার পর সোমবার পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন ৩৫ বছরের এক দর্জি। ব্যাঙ্গালোর শহরের রাজাজিনগরে এই অভিনব ঘটনাটি ঘটেছে বলে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে।
পত্রিকাটি জানায়, সোমবার স্থানীয় সময় বিকাল চারটার দিকে রক্তমাখা চাকু হাতে রাজাজিনগর থানায় প্রবেশ করেন কুমার নায়েক নামের ওই দর্জি। তিনি পুলিশকে বলেন,‘আমি আমার স্ত্রী এবং শিশু কন্যাকে হত্যা করেছি আমাকে গ্রেপ্তার করুন।’
এ কথা শুনে পুলিশের চোখ তো ছানাবড়া! তারা কুমারকে নিয়ে তার বাড়ি রাজাজিনগরের চতুর্থ ব্লকে গিয়ে দেখতে পায় ঘটনা সত্যি। রক্তের নদীতে ভাসছে মঞ্জুলা(২৬) এবং হার্ষিতার(৬) নিথর দেহ দুটি। রান্নাঘরের ছুরি দিয়ে তাদেরকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। স্ত্রীর চরিত্র নিয়ে সন্দেহ থাকার কারণে এ খুনের পরিকল্পনা করেন বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন কুমার। তবে অবুঝ মেয়েকে হত্যার কারণ বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন,‘পোলিওতে মেয়ের এক পা অচল হয়ে গিয়েছিল। স্ত্রী হত্যার দায়ে আমি জেলে গেলে এই পঙ্গু মেয়েকে কে দেখাশোনা করবে, এই ভেবে আমি ওকেও খুন করেছি।’
পুলিশ বলছে, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। স্ত্রী ও মেয়েকে খুন করার আগে সোমবার সকালে কুমার তার তিন বছরের ছেলে চন্দনকে এক নিকটাত্মীয়ের বাসায় রেখে আসেন।
মঞ্জুলাকে দশ বছর আগে বিয়ে করেছিলেন কুমার। কিন্তু স্ত্রীকে তিনি বিশ্বাস করতেন না। বিয়ের পর থেকেই তার সন্দেহ ছিল, মঞ্জুলার অন্য কারো সঙ্গে সম্পর্ক আছে। এ নিয়ে দুজনার মধ্যে সবসময় দাম্পত্য কলহ লেগেই থাকত। এ জন্য গত পাঁচ বছর আগে মাগাদি টালুকের হুনাসকোপ্পা এলাকায় নিজের বাড়ি ছেড়ে রাজাজিনগরে ভাড়াবাড়িতে এসে উঠেন কুমার। এখানে এসে নতুন করে টেইলার্সের দোকান খোলেন।
কিন্তু নতুন এলাকায় এসেও তাদের সম্পর্কের কোনো উন্নতি হয়নি।কুমার তার স্ত্রীকে আগের মতই সন্দেহ করতে থাকেন এবং একসময় তাকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেন।
এদিকে মৃদুভাষী ও সদালাপী এই দর্জির পক্ষে কাউকে খুন করা সম্ভব, এ কথা বিশ্বাস করতে পারছেনা তার আত্মীয় এবং প্রতিবেশীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নারী প্রতিবেশী টাইমস অব ইন্ডিয়াকে জানান,‘ ওরা দুজনই খুব ভালো মানুষ। কিন্তু তারা প্রায়ই ঝগড়া করতেন। কুমারের মত এরকম নরম স্বভাবের একজন পুরুষ বৌ-বাচ্চাকে খুন করেছেন এ কথা আমি বিশ্বাস করতে পারছি না।’

