ঢাকাTuesday , 16 September 2014
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সারদার টাকা এসেছে তৃণমূল নেতার ভাইয়ের সহায়তায়

Link Copied!

SARADHA
ডেস্ক রিপোর্ট :

সারদার টাকা বাংলাদেশে পাচারের ক্ষেত্রে সাহায্য করেছিলেন ভারতের উত্তর২৪পরগনার জেলার বসিরহাটের এক তৃণমূল পঞ্চায়েতের ভাই। বাংলাদেশে টাকা পাঠানোর তথ্য অনুসন্ধানে নেমে প্রাথমিকভাবে এমন তথ্যই পেয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই)। এক্ষেত্রে শাসক দলের মদত থাকায় সারদা গোষ্ঠীর কর্ণধার সুদীপ্ত সেনের পক্ষে টাকা পাঠানো সহজ হয়েছিল বলে মনে করছেন গোয়ন্দারা।

মঙ্গলবার কলকাতার দৈনিক বর্তমানের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সারদার অ্যাম্বুলেন্সে করে টাকা যাতে নিরাপদে বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারে, তার জন্য দুই দেশের সীমান্তরক্ষি বাহিনীর সদস্যদের ‘ম্যানেজ’ করার দায়িত্ব ছিল ওই পঞ্চায়েত সদস্যের ভাইয়ের। জলপথ নিরাপদ না হওয়ায় এই পথকে বেছে নেয়া হয়েছিল।

পাচার হওয়া এই টাকাই বাংলাদেশে সরকার বিরোধী আন্দোলনে ব্যহার করা হয়েছিল বলে সম্প্রতি অভিযোগ উঠেছে।

বিষয়টি সামনে আসার পরই গত শুক্রবার বাংলাদেশে সংসদেও আলোচনা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে তদন্তও করা হচ্ছে। আজ মঙ্গলবারও  সংসদে উঠবে প্রসঙ্গটি।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সিবিআই আরও জানতে পেরেছে, শুধু টাকা পাঠানোই নয়, বাংলাদেশে সরকার বিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত একদল মৌলবাদী নেতাকে চিকিৎসার জন্য সীমান্ত থেকে কলকাতার উপকণ্ঠে পৌঁছে দেয়া হয়েছিল সারদার অ্যাম্বুলেন্সেই। চিকিৎসার পর তারা আবার বাংলাদেশে ফিরে এসেছেন। তাদের ওই অ্যাম্বুলেন্সে করেই সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছে দেয়া হয়েছিল।

তদন্তে বিষয়গুলি জানার পরই এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের কোনো সতর্কবার্তা ছিল কিনা, সেই বিষয়েও খোঁজ নিতে শুরু করেছে সিবিআই। সূত্রের খবর, যাওয়া-আসার পুরো রাস্তায়ই সারদার আ্যাম্বুলেন্সের এসকর্ট থাকতো। এ কাজের দায়িত্ব ছিল বসিরহাটের ওই পঞ্চায়েত সদস্যের ভাইয়ের। এছাড়াও, ভারতে যাওয়া ওই মৌলবাদী নেতাদের সব ‘কাজ’ দেখভালের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল এক বড় মাপের নেতার।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, বসিরহাটের ওই পঞ্চায়েত সদস্যের ভাইকে শাসক দলের এক বিধায়কের সঙ্গে একাধিককবার বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মঞ্চে দেখা গেছে। তাকে ঢাল করেই সীমান্তে গরু, নিষিদ্ধ মাদক ও সোনা পাচারের ব্যবসা চালিয়ে আসছেন ওই পঞ্চায়েত সদস্যের ভাই। বাংলাদেশের গোয়েন্দা বিভাগের সূত্র বলছে, সীমান্তে ওই ব্যক্তির এতটাই দাপট যে, দুদেশের সীমান্তরক্ষি বাহিনীও পদক্ষেপ গ্রহণ করার সাহস পায়নি। তার এই বিশাল ক্ষমতার ক্ষেত্রে বিপুল অর্থের জোগান তাকে সর্বদাই সব বিপদ থেকে সরে থাকতে সহায়তা করেছে। বিষয়গুলো বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দিল্লিকে জানানো হয়েছে।

বর্তমান তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, শাসক দলের এক সংসদ সদস্যের মাধ্যমে সারদার কর্ণধারের সঙ্গে ওই চোরাকারবারির যোগাযোগ হয়েছিল। কিন্তু এদের মাঝে আরো কয়েকজনও রয়েছেন। তাদের একজন ওই অঞ্চলে বড় মাপের নেতা। বসিরহাটে সারদার রিয়েলটি ব্যবসায়ও সাহায্য করেছিলেন পঞ্চায়েত সদস্যের ভাই।

প্রসঙ্গত, এই ব্যক্তির নিজেরও রিয়েলটি ব্যবসা রয়েছে। এমনকি অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিরও ব্যবসাও রয়েছে   তার। টাকিতে সারদার রিসোর্ট এবং হোটেল ব্যবসার ক্ষেত্রেও সহযোগিতা করছিলেন তিনি। সিবিআই এখন

খোঁজ নিয়ে দেখছে, সারদা মানি-মার্কেটিং ব্যবসার ক্ষেত্রে ওই ব্যক্তি কতটা যুক্ত ছিলেন। একই সঙ্গে সারদার কোনো টাকা তার কোম্পানিতে বিনিয়োগ হয়েছে কি না, সেই বিষয়টিও খতিয়ে

দেখতে চাইছে কেন্দ্রীয় এই তদন্তকারী সংস্থা। তার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে।

একটি সূত্রের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি জানায়, এ বিষয়ে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (এনআইএ) এবং ডিরেক্টর অব রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্সেরও (ডিআরআই) সাহায্য নিচ্ছে সিবিআই। এমনকি এ বিষয়ে বাংলাদেশের গোয়েন্দা বিভাগ থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে যে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে, তাও খতিয়ে দেখা  হচ্ছে। তবে সিবিআই সূত্র জানায়, গোটা বিষয়ের শুধুমাত্র সারদার যোগাযোগের বিষয়টুকু নিয়ে তারা তদন্ত করবে। বাকি বিষয়ে যা তথ্য উঠে আসবে তা বিভিন্ন কেন্দ্রীয় এজেন্সির হাতে তুলে দেয়া হবে। বাংলাদেশের ওই মৌলবাদীদের সঙ্গে কলকাতার যোগাযোগের বিষয়টিও ওই সংস্থাগুলোই বিস্তারিত খতিয়ে দেখবে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এ বিষয়ে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির এক সদস্য দাবি করেন, ভারতের ওই অঞ্চলের পঞ্চায়েত সদস্যের ভাইয়ের জড়িত থাকার নিশ্চিত কিছু প্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে। এ বিষয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

সিবিআইয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা দৈনিক বর্তমানকে জানিয়েছেন, গোটা বিষয়টি তাদের কানে এসেছে। তা নিয়ে তারা খোঁজখবরও শুরু করেছেন। দিল্লিতে পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ বিভিন্ন এজেন্সির সঙ্গেও আলোচনা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, সারদা কেলেঙ্কারিতে এরকম একজন চোরাকারবারির জড়িয়ে পড়া, তাকে বিভিন্ন সময়ে শাসক দলের মঞ্চে দেখা যাওয়ার ঘটনা যথেষ্ট অস্বস্তি বাড়িয়েছে জেলা তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বে।

সিবিআই সূত্রের খবর, ওই ব্যক্তি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য ইতিমধ্যে রাজারহাট অঞ্চলে শাসক দল ঘনিষ্ট এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। অন্যদেরও শিগগিরই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।