পাঞ্জেরী ডেস্ক
ভারত মহাসাগরে তলদেশে ৫৮টি শক্ত বস্তুর সন্ধান পেয়েছে অনুসন্ধানী দল। আর এই বস্তুগুলোর মাঝেই থাকতে পারে প্রায় ছয় মাস আগে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া মালয়েশিয় ফ্লাইট এমএইচ৩৭০ বিমানটি বলে জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার অনুসন্ধানী দল।
মালয়েশিয়ার পরিবহন মন্ত্রী লিও তিয়ং জানান, ‘সাগরের তলদেশে আমরা ৫৮টি শক্ত বস্তুর সন্ধান পেয়েছি। কিন্তু এখনও আমরা নিশ্চিত নই যে ওই বস্তুগুলো নিখোঁজ বিমানের কিংবা বিমানটিই সেখানে আছে। আমাদেরকে পুরো বিষয়টি নিশ্চিত হতে হবে। অনুসন্ধানী দলকে সাহায্য করার জন্য আমাদের ‘গো ফিনিক্স’ জলযানটি পাঠানো হবে।’
চলতি মাসের শুরুর দিকেই অস্ট্রেলিয়ার অনুসন্ধানী দলটি ভারত মহাসাগরের দক্ষিনাংশের তলদেশে শক্ত বস্তুর সন্ধান পেয়েছে বলে জানায়। কিন্তু তারা এও জানায় যে, ওই বস্তুগুলো প্রাকৃতিক শিলা কিংবা বড়সড় কোনো পাথর খণ্ডও হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বিমানটি খোঁজার জন্য সর্বাধুনিক ‘সোনার’ প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে সাগরের তলদেশে এতোদিন খনিজ পদার্থের সন্ধান করা হতো।
গতমাসে অস্ট্রেলিয়ার উপ প্রধানমন্ত্রী ওয়ারেন ত্রুস জানিয়েছিলেন যে, তাদের অনুসন্ধানী দল ভারত মহাসাগরে অনুসন্ধান কার্যক্রমে ব্যাপক উন্নতি সাধন করছে। এসময় দুই হাজার মিটার দীর্ঘ একটি আগ্নেয়গিরির সন্ধানও তারা পায়।
উল্লেখ্য, কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (কেএলআইএ) এশিয়ার একটি অন্যতম ব্যস্ত বিমানবন্দর। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান পরিবহন সংস্থা মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের বেইজিংগামী ফ্লাইট নম্বর এমএইচ৩৭০ বিমানটি গত ৮ মার্চ রহস্যজনকভাবে ২৩৯ জন যাত্রী ও ক্রু নিয়ে রহস্যজনকভাবে হারিয়ে যায়। ৮ মার্চ মালয়েশিয় সময় সকাল ৭টা ২৪ মিনিটে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ জাহাজটির হারিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। এ শতাব্দীতে যখন সামরিক স্যাটেলাইটের মাধ্যমে মাটিতে পড়ে থাকা একটি ফুটবলকে চিহ্নিত করা যায়, সব দেশ সামরিক রাডারের সাহায্যে অচেনা-অজানা এয়ারক্রাফট ডিটেক্ট করতে বদ্ধপরিকর, তখন এতো বড় একটি এয়ারক্রাফট হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা বিস্ময়কর ও অবিশ্বাস্য হলেও এখন পর্যন্ত ছয় মাসেরও বেশি সময় পরেও বিমানটির কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি।

