অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ‘আয়কর প্রদান নিয়ে মানুষের মধ্যে এখনো ভীতি আছে। তাছাড়া আয়কর আদায়ে মানুষকে হয়রানিও করা হয়। এ ভীতি ও হয়রানি ব্যাপকভাবে কমানো চেষ্টা করা হচ্ছে।’
সোমবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে জাতীয় আয়কর দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সর্বোচ্চ ও দীর্ঘমেয়াদী করদাতাদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘রাজস্ব কর সরকার আদায় করে মানুষের সেবা প্রদানের জন্য। আপনারা যারা কর প্রদান করেন তাদের সামাজিক সেবামূলক কাজের দায়ভার আছে। এজন্যে বর্তমান সময়ে কর আদায় বৃদ্ধি পেয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে এ ৫ বছরে গত বারের তুলনায় ব্যাপকভাবে রাজস্ব আয় বাড়ানো।’
আয়কর আদায়ের উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আয়কর একটি ভালো আইন। এটি দেশের আর্থিক সক্ষমতার বিচার করে। আয়কর আদায়ের উদ্দেশ্য হচ্ছে রাষ্ট্র পরিচালনা করা। আর একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের রাজস্ব আদায়ের একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে আয়কর। দেশে সবচেয়ে বেশি আয় হচ্ছে এ খাত থেকে।’
মুহিত বলেন, ‘আগে শুল্ক আইন থেকে বেশি কর আয় হতো। এখন আর ওই খাত থেকে তেমন আয় হয় না। সারাবিশ্ব এখন ফ্রি ট্রেড মার্কেটের ওপর নির্ভরশীল। এজন্যে দেশের আয়ের প্রথম খাত হবে আয়কর ও দ্বিতীয় খাত হবে মূল্য সংযোজন কর (মূসক)।’
রাজস্ব আদায়ে বাংলাদেশ পিছিয়ে আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আয়কর আদায় বৃদ্ধি পেলেও মোট জাতীয় আয়ের তুলনায় এখনও আমরা বহির্বিশ্বের থেকে পিছিয়ে আছি। বিশেষ করে এশিয়ার দেশ নেপাল, ভারত এদের থেকেও আমরা আয়কর আদায়ে পিছিয়ে আছি।’
তিনি বলেন, ‘১৯৮০ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত মোট জাতীয় আয়ের শতকরা ৩ শতাংশ রাজস্ব আদায় করা হত।’
আয়করে বিশেষ অবদান রাখার জন্য সোমবার আয়কর দিবসে সারাদেশে ৪০২ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে আয়কর সম্মাননা দেয়া হয়।
এনবিআরের চেয়ারম্যান গোলাম হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের আরও উপস্থিত ছিলেন, এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য বশির উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।

