ঢাকাMonday , 15 September 2014
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জামায়াতকে সারদার টাকা
মোদির হাতে ‘অস্ত্র’, ‘গুলি’ দেবেন হাসিনা

দৈনিক পাঞ্জেরী
September 15, 2014 12:06 pm
Link Copied!

Modi-hasinaপাঞ্জেরী ডেস্ক

ভারতের অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠান সারদার টাকায় বাংলাদেশে সরকারবিরোধী আন্দোলন সংগঠিত হওয়ার বিষয়ে মোদি সরকারের পক্ষ থেকে কড়া পদক্ষেপ চাইছে শেখ হাসিনার সরকার। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের ওপর চাপ বাড়াতে চাইছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এজন্য তিনি ওই টাকা কীভাবে বাংলাদেশে ব্যবহৃত হয়েছিল, সেই বিষয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তথ্য দেবেন। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের বৈঠকের পর মোদির কাছে এ তথ্য তুলে দেয়া হবে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত রূপরেখাও তৈরি করে ফেলেছে সরকার।
সোমবার কলকাতার শীর্ষস্থানীয় বাংলা দৈনিক ‘বর্তমান’ পত্রিকায় এ সংক্রান্ত একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।
সংবাদে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে সহিংস আন্দোলনে সারদার টাকা বিনিয়োগের বিষয়টি ইতিমধ্যেই মোদি সরকারের হাতে ‘অস্ত্র’ তুলে দিয়েছে। এবার শেখ হাসিনা তথ্য-প্রমাণ দিয়ে মোদির হাতে সেই অস্ত্রের ‘গুলি’ তুলে দেবেন।
বর্তমান তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ভারতের একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল কীভাবে বাংলাদেশে সরকারবিরোধীদের আন্দোলনে সাহায্য করেছে, তা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মোদিকে জানানো হবে।
তিস্তা চুক্তি ও সীমান্তে অনুপ্রবেশের পাশাপাশি এই বিষয়টিকে (সারদার অর্থায়ন) অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে হাসিনা সরকার। একই সঙ্গে সারদার টাকা এদেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ব্যাংকে বিনিয়োগের বিষয়ে যে তথ্য বাংলাদেশের গোয়েন্দারা পেয়েছে তাও নরেন্দ্র মোদির হাতে তুলে দেয়া হবে।
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এরই মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের একটি দলের ওপর চাপ বাড়াতে চাইছে বাংলাদেশ। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে দু’দেশের আলোচনা নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। এ রাজ্যে ২০১১ এর বিধানসভা নির্বাচনে বাংলাদেশের একটি মৌলবাদী গোষ্ঠী পশ্চিমবঙ্গে গিয়ে একটি নির্দিষ্ট দলের হয়ে প্রচারে অংশ নিয়েছিল। সেই তথ্য এরইমধ্যে দিল্লিকে দিয়েছে বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থা। মোদির হাতে সেই তথ্য প্রমাণ এলে সিবিআইকে তিনি আরো জোরেসোরে তদন্তের কথা বলবেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সারদা কেলেঙ্কারির তদন্তে প্রথম থেকেই অত্যন্ত কড়া নরেন্দ্র মোদি। এ ঘটনায় যে সব রাজনৈতিক নেতা-মন্ত্রী জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে তথ্যপ্রমাণ জোগাড় করতে বলা হয়েছে, যাতে তাদের ফাঁদে ফেলা যায়। এ অবস্থায় পশ্চিমবঙ্গে রাজ্যের শাসক দলের এক এমপির মাধ্যমে সারদার টাকা বাংলাদেশের সরকারবিরোধী আন্দোলনে ব্যবহারের জন্য সেই দেশের একটি ‘মৌলবাদী’ সংগঠনের হাতে পাঠানোর বিষয়টি দিল্লির হাতে নতুন অস্ত্র তুলে দিয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইতোমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছেন।
কয়েকদিন আগেই বাংলাদেশের গোয়েন্দা বিভাগের পক্ষ থেকে একটি রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে। কীভাবে ওই রাজ্যের সীমান্তে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ বেড়েছে, কারা এর পেছনে রয়েছে- এসব থেকে শুরু করে বিভিন্ন তথ্য ওই রিপোর্টে রয়েছে। এ রিপোর্টটি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে দিল্লি।
সারদার টাকা বাংলাদেশে কীভাবে পৌঁছেছে এবং এই টাকা কোথায় কোথায় ব্যবহার হচ্ছে, তা নিয়ে সরকার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেছে বলেও উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনটিতে।
এতে আরো বলা হয়, বাংলাদেশ জঙ্গি কার্যকলাপে যেভাবে এ রাজ্য (পশ্চিমবঙ্গ) থেকে টাকা গেছে তাতে রীতিমতো উদ্বিগ্ন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি। তাদের পক্ষ থেকে সারদার বিষয়টি সংসদেও তোলা হয়।
পত্রিকাটি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সম্মেলনে অংশ নেবেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী। সম্মেলন শেষে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে একটি বৈঠক হওয়ার কথা। এরইমধ্যে কূটনৈতিক স্তরে এ আলোচনার বিষয়ে তৎপরতা শুরু হয়েছে।
সূত্র জানায়, সারদার কত টাকা বাংলাদেশে সরকারবিরোধী কাজে ব্যবহার করা হয়েছে, তার পুরো তথ্য দেবে বাংলাদেশ। এমনকি কয়েকজনের নামও দেয়া হচ্ছে। তারা প্রত্যেকেই ভারতের রাজনৈতিক নেতা। তারা কীভাবে মৌলবাদী সংগঠনকে টাকা পাঠিয়ে তাদের কার্যকলাপে মদদ দিয়েছেন, তার পুরো র্ব্ণনা থাকবে বাংলাদেশের রিপোর্টে। এই তথ্য হাতে এলে রাজ্যের অনেক রাঘববোয়াল কোপের মুখে পড়তে পারেন বলে মনে করছেন কূটনীতিবিদরা।
‘বর্তমান’ তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, বাংলাদেশের গোয়েন্দা বিভাগের দাবি- সারদার টাকা বাংলাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে বিনিয়োগ করা হয়েছে। ভারতের এক ব্যবসায়ীর মাধ্যমেই এখানে ওই টাকা এসেছে। এখন পর্যন্ত ১০টি হাসপাতালে এ টাকা বিনিয়োগের খবর রয়েছে। হাসপাতালগুলোর সঙ্গে ‘মৌলবাদী’ নেতাদের যোগাযোগ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সিবিআইও তদন্তে নেমে একই তথ্য পেয়েছে। পাশাপাশি এখানকার আমদানি-রপ্তানি ব্যবসার একটি অংশেও সারদারই টাকা ব্যবহার হচ্ছে। ঘুরপথে এই টাকা দেশের বাইরে বের করে নিয়ে আসা হয়েছে। এছাড়া বেশ কয়েকটি ব্যাংকেও সারদার টাকা গচ্ছিত রয়েছে বলে বাংলাদেশের গোয়েন্দা বিভাগের দাবি। ওই টাকা বিভিন্ন ব্যবসায়ীর নামে রাখা হয়েছে। এ সংক্রান্ত তথ্য বাংলাদেশ সরকার ভারতকে দিলে, সারদা তদন্ত নতুন মাত্রা পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই টাকা উদ্ধারের জন্য যাতে বাংলাদেশ পুলিশের সাহায্য মেলে সেই বিষয়ে ইন্টারপোলের সাহায্য চাইবে সিবিআই।
এদিকে তৃণমূলের রাজ্যসভার সদস্য হাসান ইমরানকে পশ্চিমবঙ্গের জামায়াতে ইসলামী হিন্দ-এর আমির-এ হালকা বলে উল্লেখ করায় প্রতিবাদ জানিয়েছে ওই সংগঠন। তাদের দাবি, ওই এমপি কোনো দিন সংগঠনের আমির-এ হালকা বা রাজ্য সভাপতি ছিলেন না। এমনকি তিনি কোনোদিন সংগঠনের প্রাথমিক সদস্যও ছিলেন না। পাশাপাশি বাংলাদেশে সারদার টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে জামায়াতের ওই রাজ্যের কোনো সদস্য জাড়িত নন বলে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন সংগঠনের রাজ্য সভাপতি মুহাম্মদ নূরুদ্দীন।
তিনি জানান, সারদার টাকা আত্মসাতের ক্ষেত্রেও তাদের কোনো সদস্যের যোগাযোগ নেই। চিটফান্ড সংস্থার বিরুদ্ধে সংগঠন আন্দোলন চালিয়েছে। গোটা বিষয়ের পেছনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে সংগঠনের রাজ্য সভাপতি দাবি করেছেন।