ঢাকাMonday , 15 September 2014
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পিনাক-৬ এর প্রতিবেদন প্রকাশের আগেই প্রশ্নবিদ্ধ!

Link Copied!

Pinak
নিজস্ব প্রতিবেদক :

যাত্রীবাহী লঞ্চ এমএল পিনাক-৬ দুর্ঘটনার এক মাস ১০ দিন পর প্রতিবেদন জমা দিয়েছে তদন্ত কমিটি। নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব নুর উর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত সাত সদস্যের কমিটি রোববার বিকেলে নৌ পরিবহনমন্ত্রী ও সচিবের কাছে এ প্রতিবেদন জমা দেন।

তবে, প্রতিবেদন তৈরির ক্ষেত্রে কমিটির একজন সদস্য বারবার অযাচিত প্রভাব বিস্তার এবং কারিগরি বিশেষজ্ঞের মতামত অগ্রাহ্য করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আর এ অভিযোগের তীর কমিটির সদস্য ও সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল হাসানের দিকে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে অতিরিক্ত যাত্রী বহন ও বৈরী আবহাওয়ার কথা উল্লেখ করে দায়িত্বে অবহেলার জন্য বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) মাওয়া নদীবন্দরের পরিবহন পরিদর্শক জাহাঙ্গীর ভূঁইয়াকে (বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত) দায়ী করা হলেও একই অভিযোগে অভিযুক্ত বিআইডব্লিউটিএ ও সমুদ্রপরিবহন অধিদপ্তরের অন্য তিন কর্মকর্তাদের দায়ী করা হয়নি।

এছাড়া প্রতিবেদনে অতিরিক্ত যাত্রী বহনের জন্য লঞ্চটির মালিক, মালিকের ছেলে, মাস্টার ও কাওড়াকান্দি ঘাটের ইজারাদারকে দায়ী করা হয়েছে।

বৈরী আবহাওয়ায় লঞ্চটি চলাচলের সুযোগ পাওয়ায় বন্দর ব্যবস্থাপনাকে দায়ী করা হলেও প্রতিবেদনে মাওয়া নদীবন্দর কর্মকর্তা মহিউদ্দিন আহমদকে দায়ী করেনি তদন্ত কমিটি।

প্রতিবেদনে ত্রুটিপূর্ণ নকশার ভিত্তিতে নৌযানটিকে নিবন্ধন দেয়া এবং বিধি লঙ্ঘন করে সর্বশেষ ফিটনেস (সার্ভে) দেয়ায় সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তাকে দায়ী করা হয়। নিবন্ধন প্রদানে অনিয়মের জন্য সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী (ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রকৌশলী ও জাহাজ জরিপকারী) এ কেএম ফখরুল ইসলাম এবং সাময়িক ফিটনেস সনদ (টোকেন) দেয়ায় অধিদপ্তরের প্রকৌশলী ও জাহাজ জরিপকারী মির্জা সাইফুর রহমানকে দায়ী করা হয়েছে।

তবে, একই নৌযানকে এর আগে ও পরে কয়েক দফা ফিটনেস প্রদানকারী কর্মকর্তা অধিদপ্তরের প্রকৌশলী ও জাহাজ জরিপকারী মুঈনউদ্দিন জুলফিকারকে দায়ী করেনি তদন্ত কমিটি।

এছাড়া মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হলেও অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের কারণে দুর্ঘটনা ও দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার জন্য এ কর্মকর্তাকে দায়ী করা হয়নি।

তদন্ত কমিটির এক সদস্য জানান, কমিটির সদস্য সাইফুল হাসান প্রতিবেদন তৈরির ক্ষেত্রে বারবার অযাচিত প্রভাব বিস্তার করেছেন। বিশেষ কাউকে রক্ষায় এবং বিশেষ কাউকে দায়ী করার মিশনে তৎপর ছিলেন তিনি। যে কারণে প্রতিবেদনটি প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা আছে। এছাড়া সাইফুল হাসানের তৎপরতার কারণে ভয়াবহ এ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী একাধিক সরকারি কর্মকর্তা পার পেয়ে যেতে পারেন।

তদন্ত কমিটির অপর এক সদস্য জানান, প্রতিবেদন তৈরিতে একজন সদস্য যেভাবে তৎপর ছিলেন তাতে মনে হয়েছে এর পেছনে তার বিশেষ কোনো স্বার্থ জড়িত আছে। সেটি আর্থিক হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

কমিটির এ সদস্য আরো বলেন, ‘গত ৩ মে পটুয়াখালীর গলাচিপায় যাত্রীবাহী লঞ্চ এমভি শাতিল-১ দুর্ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনেও মূল অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে দায়ী করা হয়নি। অথচ সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের বরিশাল কার্যালয়ের প্রাক্তন সার্ভেয়ার মুঈনউদ্দিন জুলফিকার তথ্য জালিয়াতি করে মারাত্মক ত্রুটিপূর্ণ লঞ্চটির নিবন্ধন ও ফিটনেস দিয়েছিলেন।’

অধিদপ্তরের পরীক্ষক ড. এএসএম নাজমুল হকের নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিটির সদস্য ও অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল হাসান প্রভাব বিস্তার করে পক্ষপাতদুষ্ট প্রতিবেদন তৈরি করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত ৪ মে বেলা ১১টায় মাদারীপুরের কাওড়াকান্দি ঘাট থেকে মাওয়ার উদ্দেশে ছেড়ে আসা এমএল পিনাক-৬ মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং থানাধীন মাওয়াঘাটের কাছে পদ্মা নদীতে নিমজ্জিত হয়। মাত্র ৮৫ জন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন লঞ্চটিতে আনুমানিক আড়াই শ’ যাত্রী বোঝাই করে বৈরী আবহাওয়ায় চলাচল করায় মাত্র ৫২ সেকেন্ডে লঞ্চটি তলিয়ে যাওয়ার দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করা হলে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে এর ভিডিও ফুটেজ প্রচার করা হতে দেখা যায়। ওই দুর্ঘটনায় ৪৯ জনের লাশ উদ্ধার করা হলেও সরকারি হিসেবেই নিখোঁজের সংখ্যা ছিল ৬০ জন। তবে, লঞ্চ যাত্রীদের স্বজনেরা দাবি করেন, এখনো অন্তত ১২৫ জন নিখোঁজ আছে।

এছাড়া সাত দিন চেষ্টা চালিয়েও নদীর তলদেশে লঞ্চটির অবস্থান শনাক্ত করতে না পেরে উদ্ধার অভিযান পরিত্যক্ত ঘোষণা করে বিআইডব্লিউটিএ ও মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসন।

দুর্ঘটনার পরপরই নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব নুর-উর রহমানের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে নৌ মন্ত্রণালয়। একই দিন অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল অধ্যাদেশ (আইএসও)-১৯৭৬ অনুযায়ী, সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের পরীক্ষক ড. এএসএম নাজমুল হকের নেতৃত্বে চার সদস্য বিশিষ্ট পৃথক একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে অধিদপ্তর। তবে, চারদিন পর অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ কমিটি বিলুপ্ত করেন।

মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের চিফ নটিক্যাল সার্ভেয়ার ক্যাপ্টেন কেএম জসিমউদ্দীন সরকার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল হাসান, বিআইডব্লিউটিএর সদস্য (প্রকৌশল) ফিরোজ আহমেদ, বিআইডব্লিউটিসির প্রধান প্রকৌশলী আব্দুর রহিম, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নৌযান ও নৌযন্ত্র কৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক গৌতম কুমার সাহা এবং মুন্সিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট।

কমিটিকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেয়ার কথা বলা হলেও তিন দফা সময় বাড়িয়ে রোববার নৌ মন্ত্রণালয়ে এ প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়। তবে এদিন প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি মন্ত্রণালয়।