পাঞ্জেরী ডেস্ক
ভারতের রাজ্যসভার তৃণমূলদলীয় সদস্য ও দৈনিক কলম পত্রিকার কার্যনির্বাহী সম্পাদক আহমদ হাসান ইমরানের ভিসা ‘ব্লক’ করেছে বাংলাদেশ সরকার। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বাংলা দৈনিক ‘বর্তমান‘ এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “সাধারণত কোনো বিদেশি নাগরিক যদি সংশ্লিষ্ট দেশে অবাঞ্ছিত ব্যক্তি হিসেবে গণ্য হন, তখনই তা ভিসা ‘ব্লক’ করা হয়ে থাকে। এর অর্থ আহমদ হাসান ইমরান বাংলাদেশে ঢুকতে পারবেন না। এদিকে এই ভিসা ব্লকের বিষয়ে সংসদ সদস্য ইমরানের বক্তব্য, সাড়ে তিন বছর আগে তিনি শেষ বাংলাদেশে গিয়েছিলেন। নতুন করে ভিসার জন্য সম্প্রতি কোনো আবেদন তিনি করেননি।” তার ভিসা ব্লকের বিষয়টি জানা নেই বলে বর্তমান পত্রিকাকে ইমরান জানান।
এর আগে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামীকে অর্থ যোগান দেয়ার খবর প্রকাশের পরে দুই দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। উভয় দেশের প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায় থেকে বলা হয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করা হবে।
প্রসঙ্গত, ভারতের তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামীর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও অর্থ যোগান নিয়ে গত শুক্রবার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে আনন্দবাজার পত্রিকা। বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থাকে উদ্ধৃত করে পত্রিকাটির খবরে বলা হয়, বাংলাদেশে অস্থিরতা তৈরির প্রেক্ষাপটে কাজ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলটির একজন সংসদ সদস্যের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা পৌঁছানো হয় জামায়াতের হাতে। প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে তৃণমূল সংসদ সদস্য আহমদ হাসান ইমরানের নাম উঠে এসেছে দুই দলের মধ্যে যোগাযোগের সেতুবন্ধনকারী হিসেবে। যদিও ইমরান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, জামায়াতের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। মিথ্যা ও মনগড়া অভিযোগ তোলায় বিজেপির সর্বভারতীয় নেতা সিদ্ধার্থ নাথ সিংয়ের বিরুদ্ধে একটি এফআইআরও দায়ের করেছেন ইমরান।
কোলকাতার বেনিয়াপুকুর থানায় দায়ের করা এফআইআরে তিনি বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং মনগড়া অভিযোগ এনেছেন বিজেপি নেতা সিদ্ধার্থ নাথ সিং। তিনি শুধু বাংলাদেশ কেন ভারতের জামায়াতের সঙ্গেও জড়িত নন। অথচ বিজেপি নেতা কোনো প্রমাণ ছাড়াই তাকে সন্ত্রাসবাদী, মৌলবাদী বলে অভিহিত করেছেন।’ তার এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর ইমেজে কালিমালিপ্ত করতেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই এমন মিথ্যাচার করা হয়েছে বলে ইমরান দাবি করেন।

