রাজধানীর গুলিস্তানের মতিউর রহমান পার্ক (ওসমানী উদ্যান) এলাকায় যুবদলের তিন নেতার ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে পল্টন থানা যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি জাফর খান মনা গুরুতর আহত হয়ে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়াও হামলায় মতিঝিল থানা যুবদল নেতা ফারুক মাহমুদ এবং ওয়ারী থানা যুবদল নেতা আবদুল্লাহ জায়েদ ডেভিড আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেল চারটার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিষয়টি জানা গেছে।
হামলায় আহতদের অভিযোগ, কাপ্তান বাজারের মুরগিপট্টি ও গুলিস্তান বাসস্ট্যান্ড এলাকায় চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতরা এই হামলা করেছে। এজন্য ৩৯নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও গুলিস্তান বাস টার্মিনাল পরিবহন শ্রমিক সমিতির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এমদাদ পাটোয়ারী ও তার সহযোগীদের দায়ি করছেন আহতরা। যদিও এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এমদাদ পাটোয়ারী।
আহত যুবদল নেতা আবদুল্লাহ জায়েদ ডেভিড বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এমদাদ পাটোয়ারী ও তার লোকজন কাপ্তান বাজার, গুলিস্তান বাসস্ট্যান্ড এবং জয়কালী মন্দির থেকে যাত্রাবাড়ী রুটে চলাচলকারী লেগুনা থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করে আসছে। মঙ্গলবার বিকেলে গুলিস্তানের মতিউর রহমান পার্কে গেলে আমরা চাঁদাবাজিতে বাধা দিতে এসেছেন এমন সন্দেহে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে শতাধিক লোক অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় জাফর খান মনা আক্রমণ প্রতিহত করতে গেলে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জাফর খান মনা জানান, আমরা পার্কের ভেতরে বসে ছিলাম। হঠাৎ শতাধিক লোক আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় আমার পা ভেঙে গেছে। গুলিস্তান এলাকায় আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। আমাদের কারণে তাদের চাঁদাবাজিতে সমস্যা হতে পারে এমন চিন্তায় এমদাদ পাটোয়ারীর লোকজন এই হামলা চালিয়েছে।
এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।
তবে চাঁদাবাজি ও হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও গুলিস্তান টার্মিনাল শ্রমিক সমিতির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এমদাদ পাটোয়ারী। তিনি দাবি করেন, ঘটনার সময় আমি সেখানে ছিলাম না। সিসিটিভি ফুটেজ দেখলেই সত্যতা পাওয়া যাবে। মূল ঘটনা হলো-বিআরটিসির একটি কাউন্টার দখলকে কেন্দ্র করে আবদুল্লাহ জায়েদ ডেভিডের সঙ্গে সাধারণ শ্রমিকদের সংঘর্ষ হয়েছে। শ্রমিকরা বাধা দিলে ঝামেলা তৈরি হয়। আমাকে পরে ফোন করা হলে আমি সেখানে যাই।’
এমদাদ পাটোয়ারী বলেন, বঙ্গভবনের পাশের এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে। চারিদিকে সিসিটিভি ক্যামেরা আছে। ফুজেট চেক করলে সব সত্য বের হয়ে আসবে। আপনারা সাংবাদিকরাও তদন্ত করে দেখতে পারেন। এই ঘটনায় আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

