ঢাকাSunday , 4 October 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চিকিৎসক-জনবল ও শয্যা সংকটে পঞ্চগড়ের স্বাস্থ্যসেবা

Link Copied!

উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা পঞ্চগড়ের মানুষের চিকিৎসাসেবার প্রধান ভরসা পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতাল। দীর্ঘদিনের পুরোনো এই হাসপাতালটি ১৯৬২ সালে হাসপাতাল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে ১৯৮৪ সালে এটি জেলা সদর হাসপাতাল হিসেবে উন্নীত করা হয়। সর্বশেষ ২০০৫ সালে হাসপাতালটির শয্যাসংখ্যা ১০০-তে উন্নীত করা হয়। তবে জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও চিকিৎসাসেবার চাহিদা বাড়লেও হাসপাতালের অবকাঠামো, চিকিৎসক ও জনবল সেই অনুপাতে বাড়েনি। ফলে প্রতিদিনই চিকিৎসাসেবা নিতে এসে ভোগান্তিতে পড়ছেন জেলার প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, অনুমোদিত ৬৩ জন চিকিৎসকের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১৮ জন। ফলে চিকিৎসকের ঘাটতি রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকায় অনেক সময় রোগীদের সেবা দিতে ফার্মাসিস্টদেরও ভূমিকা রাখতে হচ্ছে । এতে রোগীদের কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। শুধু চিকিৎসক নয়, হাসপাতালের অন্যান্য জনবল সংকটও রয়েছে। পাশাপাশি ১০০ শয্যার এই হাসপাতালে রোগীর চাপ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় শয্যা সংকটও নিয়মিত সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জরুরি ও জটিল রোগীদের অনেক সময় উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরসহ পার্শ্ববর্তী জেলায় পাঠাতে হয়। এতে রোগীদের চিকিৎসা ব্যয়ের পাশাপাশি যাতায়াত ও থাকা-খাওয়ার অতিরিক্ত খরচও বহন করতে হয়।

নতুন ভবন নির্মাণ হলেও সেবা চালু নিয়ে অনিশ্চয়তা
রোগীর চাপ কমাতে হাসপাতালটিতে নতুন একটি ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে অতিরিক্ত শয্যা ও চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ভবনটির কাজ শেষ হওয়ার পরও সেটি পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হয়নি।
অন্তর্বর্তী সরকার আমলে নতুন ভবনটি দ্রুত চালুর দাবিতে পঞ্চগড়ের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উদ্যোগ নেন। এ জন্য ফান্ড গঠন করে অর্থ সংগ্রহ এবং ভবনটি চালুর জন্য সহযোগিতার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়। কিন্তু এখনো নতুন ভবনটি চালু না থাকায় সরকারি হাসপাতালের ওপরই নির্ভর করতে হয় অধিকাংশ মানুষকে। ফলে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক, শয্যা কিংবা জনবল সংকট দেখা দিলে এর সরাসরি প্রভাব পড়ে সাধারণ রোগীদের ওপর। স্থানীয়দের অভিযোগ, চিকিৎসক সংকটের কারণে পঞ্চগড়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়মিত সেবা পাওয়াও কঠিন। ফলে সামান্য জটিলতা দেখা দিলেও অনেক রোগীকে জেলার বাইরে যেতে হয়।

অসুস্থ হওয়ার আগেই সচেতন হওয়ার আহ্বান
স্বাস্থ্য খাতের এই সংকটের পাশাপাশি মানুষের খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনেও পরিবর্তন আনার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন পঞ্চগড়ের সমাজকর্মী নয়ন তানভীরুল বারী।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাতে সুস্থতা আনতে বাড়িতে বাড়িতে দেশি জাতের ফলমূল ও শাকসবজি উৎপাদন বাড়াতে হবে। খাদ্যকে পুষ্টি তথা পথ্য হিসেবে নিতে হবে। আমাদের খাদ্যাভ্যাস ও জীবনাচরণে পরিমিতিবোধ ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় আনতে হবে। তিনি আরও বলেন। নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে আনা জরুরি। অসুস্থতা যেন আমাদের কাছে আসতে না পারে, সে জন্য অসুস্থ হওয়ার আগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। নয়ন তানভীরুল বারীর মতে, চিকিৎসক ও জনবল সংকটের পাশাপাশি হাসপাতালের শয্যা সংকটও দ্রুত সমাধান করা জরুরি। কারণ পঞ্চগড়ে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধা না থাকায় কোনো রোগীকে বাইরে যেতে হলে পরিবারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ পড়ে। বিশেষজ্ঞ ও সচেতন মহলের মতে, পঞ্চগড়ের স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে শুধু নতুন ভবন নির্মাণ করলেই হবে না; সেই ভবনে পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ান ও অন্যান্য জনবল নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে নতুন ভবন দ্রুত চালু করে শয্যাসংখ্যা বাড়ানো, জরুরি বিভাগ শক্তিশালী করা, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা বাড়ানো এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়মিত সেবা নিশ্চিত করা দরকার। এর পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতেও চিকিৎসক ও জনবল পূরণ করা জরুরি। এতে জেলা সদর হাসপাতালে রোগীর অতিরিক্ত চাপ কিছুটা কমবে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসার পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে। নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, পরিমিত খাবার, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের মতো অসংক্রামক রোগের নিয়মিত পরীক্ষা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ না খাওয়ার বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে হবে। পঞ্চগড়বাসীর প্রত্যাশা— হাসপাতাল নতুন ভবন দ্রুত চালু হবে, চিকিৎসক ও জনবল সংকট দূর হবে এবং জেলার মানুষকে চিকিৎসার জন্য বারবার অন্য জেলায় ছুটতে হবে না। সীমান্তবর্তী এই জেলার স্বাস্থ্যসেবাকে মানুষের মৌলিক অধিকার ও প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আরও শক্তিশালী করার এখনই সময়।