ঢাকাSunday , 14 September 2014
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রাজধানীতে দফায় দফায় লোডশেডিং

Link Copied!

Load-shedding

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিদ্যুতের লোডশেডিং বাড়ছে। ধীরে ধীরে ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। বিদ্যুৎ সংকট মেটাতে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হলেও সারা দেশে বিদ্যুতের সংকট কাটছে না। বরং এ সংকট তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে।
গত কয়েক দিনে খোদ রাজধানীতেই দফায় দফায় লোডশেডিং করা হচ্ছে। লোডশেডিংয়ের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে মানুষ। ভাদুরে গরমে ইট-বালু ঘেরা রাজধানীতে টেকাই দায় হয়ে পড়েছে।
সংকট মেটাতে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। গত ৯ সেপ্টেম্বর সাড়ে ৫৫ কোটি টাকার তেল পোড়ানো হয়েছে।
গ্যাস সংকটই লোডশেডিংয়ের কারণ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। গ্যাসের অভাবে নতুন করে চট্টগ্রামের রাউজান ও শিকলবাহা এলাকায় ১৮০ মেগাওয়াট করে দুটি পাওয়ার প্ল্যান্ট এবং চাঁদপুরের দেড়শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রসহ মোট ৪১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।
গত ৭ সেপ্টেম্বর থেকে এই বিদ্যুত্ উৎপাদন কেন্দ্রগুলো বন্ধ করা হয়। তবে এ তিনটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র কবে নাগাদ চালু করা হবে তা জানা যায়নি।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সূত্র বলছে, মোট ১০টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র ফোর্সড সাট ডাউন করা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) কর্মকর্তারা বলছেন, দেশে প্রায় সব সার কারখানা চালু করার কারণে গ্যাসের প্রাপ্যতা কমে গেছে। গ্যাসের প্রাপ্যতার অভাবে দৈনিক এক হাজার মেগাওয়াটের ওপরে বিদ্যুৎ উত্পাদন কম হচ্ছে। এজন্য বিদ্যুতের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তবে এটা সাময়িক বলে তারা দাবি করেছেন। এছাড়া দেশে চলমান তাপমাত্রা বেশি থাকায়ও অন্যতম কারণ।
পিডিবি সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় ৬ হাজার ৪৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে। এর বিপরীতে দেশে বিদ্যুতের চাহিদার লক্ষ্যমাত্রা ছিল সাত হাজার মেগাওয়াট। এ হিসাবে ঘাটতি ৫৭০ মেগাওয়াট। কিন্তু দেশব্যাপী যেভাবে লোডশেডিং হচ্ছে, তা বিদ্যুতের উত্পাদন ও সরবরাহে কোথাও ত্রুটি হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
জানা গেছে, শহর থেকে গ্রামে সর্বত্রই এই লোডশেডিং। ঢাকার চেয়ে গ্রাম-গঞ্জে লোডশেডিং অনেক বেশি। দেশের কোথাও কোথাও ১৮ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় গ্রাহকদের। সন্ধ্যার পর বেশ কয়েকবার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করেছে। এভাবে বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করায় মেশিন-যন্ত্রপাতিতে সুষ্ঠুভাবে কোনো কাজ করা যাচ্ছে না। গ্রাম-গঞ্জে বিদ্যুতের অভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হওয়ার উপক্রম।
পিডিবি সূত্র জানায়, গ্যাসের অভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদানে এই সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। এই সমস্যা বেশি চট্টগ্রাম, সিদ্ধিরগঞ্জ, হরিপুর এলাকায়। সাঙ্গুর গ্যাস ক্ষেত্র বন্ধ থাকায় এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। চট্টগ্রামে গ্যাসের অভাবেই দৈনিক ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে না। যদিও এখানে ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা রয়েছে। সঙ্গে মেঘনা ঘাটে ৪৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বন্ধ থাকার কারণেও লোডশেডিং বাড়ছে বলে পিডিবির কর্মকর্তারা মনে করেন। তারা বলেন, দৈনিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য গ্যাসের চাহিদা প্রায় ১৩শ’ মিলিয়ন ঘনফুট। কিন্তু পেট্রোবাংলা দিতে সক্ষম মাত্র নয়শ মিলিয়ন ঘন ফুট গ্যাস। চট্টগ্রামের রাউজান ও শিকলবাহা এলাকায় ১৮০ মেগাওয়াট করে দুটি পাওয়ার প্লান্ট ও চাঁদপুরের দেড়শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রেসহ মোট ৪১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।
গত ৭ সেপ্টেম্বর থেকে এই বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলো বন্ধ রাখা হয়। এ তিনটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র কবে নাগাদ চালু করা হবে তা জানা যায়নি। চট্টগ্রামে ইউরিয়া সার কারখানায় সার উত্পাদন কাজে গ্যাস সরবরাহের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হোসেন মনসুর বলেন, এদেশ কৃষিনির্ভর দেশ। তাই কৃষককে বাঁচাতে হবে। সার কারখানায় গ্যাস দিতে হচ্ছে। তাই গ্যাসের সংকটে বিদ্যুৎ উত্পাদন একটু ব্যাহত হলে জনগণকে সেটা বুঝতে হবে। ১৫ মিনিট অতিরিক্ত লোডশেডিং সহ্য করতে হবে।
দেশে  ১০ হাজার ৩৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা রয়েছে। এর সঙ্গে ৫০০ মেগাওয়াট ভারত থেকে আমদানি করা। গ্যাসে উৎপাদনের ক্ষমতা রয়েছে ছয় হাজার ৭১৯ মেগাওয়াটের। অর্থাৎ  মোট উৎপাদন ক্ষমতার ৬৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ। বাকি বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় তেল, কয়লা, হাইড্রোলিকভাবে।
সূত্র জানায়, মেঘনা ঘাটের ৪৫০ মেগাওয়াট চলতি বছরের ২১ এপ্রিল, ঘোড়াশাল ৬  নম্বর ইউনিট ২০১০ সালের ১৮ জুলাই থেকে, আশুগঞ্জ এক  ও দুই নম্বর ইউনিট গত মাসের ২২ ও ২৩ তারিখ থেকে  বন্ধ থাকায় লোডশেডিং হচ্ছে। হরিপুর ৪১২ মেগাওয়াট বন্ধ রয়েছে ৬ সেপ্টেম্বর থেকে, ঘোড়াশাল ১০০ মেগাওয়াট কেন্দ্র এ মাসের ৮ সেপ্টেম্বর এবং বাঘাবাড়ি ৭১ মেগাওয়াট ৪ সেপ্টেম্বর থেকে।
লোডশেডিংয়ের বিষয়ে বিষয়ে পিডিবির চেয়ারম্যান মো. আব্দুহু রুহুল্লাহ বলেন, সার কারখানাগুলো চালু হওয়ায় গ্যাস প্রাপ্তিতে সংকট দেখা দিয়েছে। এজন্য পিক আওয়ারে  বিদ্যুতে ঘাটতি রয়েছে। তবে এটা সাময়িক বলে তিনি মনে করেন।
বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, দুটি কারণে এখন লোডশেডিং হচ্ছে। একটি হলো অসম্ভব গরম, অন্যটি হচ্ছে গ্যাসের প্রাপ্যতার অভাবে লোডশেডিং। সব সার কারখানা চালু হওয়ায় বিদ্যুতের জন্য গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। গ্যাসের অভাবে ১০০০ মেগাওয়াট ওপরে বিদ্যুৎ উত্পাদন কম হচ্ছে। তিনি জানান, পুরোপুরি গ্যাস সরবরাহের সময়ে ৪৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে। এখন সেখানে ৩৬৫৬ বা ৩৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়।