ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ এলাকায় ঢাকামুখী লেনে গত শনিবার সৃষ্ট তীব্র যানজট ও জনদুর্ভোগ নিয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে জুম প্ল্যাটফর্মে মতবিনিময় করেছেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান।
রোববার (৩০ আগস্ট) অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় চাঁদপুর, কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরকারি কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন।
সভায় জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, কুমিল্লা; পুলিশ সুপার, হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা রিজিয়ন; নির্বাহী প্রকৌশলী, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, কুমিল্লা এবং সহকারী পরিচালক, বিআরটিএ, কুমিল্লাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।
মতবিনিময় সভায় জানানো হয়, গতকাল শনিবার (২৯ আগস্ট) ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ এলাকার আষাঢ়িয়ারচর সেতুতে জরুরি সংস্কারকাজ চলার কারণে ঢাকামুখী লেনে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে মহাসড়কে দীর্ঘ যানবাহনের সারি তৈরি হয়ে চরম জনদুর্ভোগ দেখা দেয়।
সভায় যানজটের কয়েকটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—সেতুর ঢাকামুখী লেনে বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় এক লেন বন্ধ রেখে জরুরি মেরামতকাজ পরিচালনা, দুই লেনের পরিবর্তে মাত্র এক লেনে যানবাহন চলাচল, ব্যস্ততম মহাসড়কে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে পর্যাপ্ত সমন্বয়ের ঘাটতি।
এ ছাড়া সংস্কারকাজের আগে জনসাধারণকে পর্যাপ্তভাবে অবহিত না করা এবং বিকল্প পথ সম্পর্কে প্রচারণার ঘাটতিকেও যানজট বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সভায় বলা হয়, গুরুত্বপূর্ণ টেলিভিশন চ্যানেলে স্ক্রল প্রচার, মহাসড়কের প্রবেশমুখে বিলবোর্ড স্থাপন এবং বিকল্প সড়কের তথ্য জানানো হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
দীর্ঘ যানজটে জরুরি সেবা নিশ্চিত করার বিষয়েও সভায় গুরুত্ব দেওয়া হয়। ট্রাফিক পুলিশের নিয়ন্ত্রণে পার্শ্ববর্তী সড়ক ব্যবহার করে অ্যাম্বুলেন্স, বিদেশগামী যাত্রীসহ জরুরি যানবাহনগুলোকে নিয়ন্ত্রিতভাবে পারাপারের ব্যবস্থা করার ওপর জোর দেওয়া হয়।
হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, যানজট ও জনদুর্ভোগ এড়াতে সংশ্লিষ্ট সব সরকারি দপ্তর ও সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় থাকতে হবে। সড়ক ও সেতু সংস্কারের আগে সম্ভাব্য যানজটের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পর্যাপ্ত পূর্বপ্রস্তুতি এবং বিকল্প পথের ব্যবস্থা রাখার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম পরিকল্পনা গ্রহণের তাগিদ দেন।

