গণতন্ত্র, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সাবেক সভাপতি মরহুম আবদুস শহিদ কখনো আপস করেননি বলে মন্তব্য করেছেন সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।
আবদুস শহিদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ডিইউজে কার্যালয়ে আয়োজিত এক স্মরণসভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। সভার শুরুতে প্রয়াত আবদুস শহিদ ও বর্ষীয়ান ফটোসাংবাদিক খালেদ হায়দারের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
বিএফইউজের সহসভাপতি এ কে এম মহসিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় বক্তব্য দেন বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, ডিইউজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহম্মদ বাকের হোসাইন, বিএফইউজের কোষাধ্যক্ষ শহীদুল ইসলাম, ডিইউজের যুগ্ম সম্পাদক দিদারুল আলম দিদার, সাংবাদিক নেতা সদরুল হাসান, বেলায়েত হোসেন, নিজাম উদ্দিন দরবেশ, আবদুল্লাহ মজুমদার, ফখরুল ইসলামসহ অন্যরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেন, আবদুস শহিদ ছিলেন একজন ভালো মানুষ, দক্ষ সাংবাদিক ও যোগ্য নেতা। তিনি যেকোনো সমস্যার সুন্দর সমাধান করতে পারতেন। তিনি আজ আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তার আদর্শ ও কর্ম সাংবাদিক সমাজে বেঁচে থাকবে।
তিনি বলেন, অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সৎ ও সাহসী সাংবাদিকতার অন্যতম পথিকৃৎ ছিলেন আবদুস শহিদ। সারাজীবন তিনি সাহসিকতার সঙ্গে সাংবাদিকতা করেছেন। দেশ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নেও তিনি কখনো আপস করেননি।
কাদের গনি চৌধুরী আরও বলেন, ওপার বাংলার ‘সাংসদ’, ‘প্রয়াত’, ‘সমাধি’সহ বিভিন্ন শব্দ ব্যবহারের প্রবণতা যখন শুরু হয়, তখন আবদুস শহিদ এর কঠোর বিরোধিতা করতেন। তরুণ সাংবাদিকদের উচিত তার আদর্শ ধারণ করে নীতিনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা করা।
ডিইউজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহম্মদ বাকের হোসাইন বলেন, দলীয় রাজনীতির প্রভাবে সাংবাদিক সমাজ আজ বিভক্ত। ফলে আবদুস শহিদের মতো সাংবাদিক নেতাদের যে ভূমিকা ছিল, তার ধারাবাহিকতা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এই বিভক্তির কারণে গণমাধ্যমের মান যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি সাংবাদিকরাও পেশাগতভাবে ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
বিএফইউজের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম বলেন, আবদুস শহিদ সত্য বলার ক্ষেত্রে কখনো ভয় পাননি। সত্য প্রকাশের কারণে তাকে কারাবরণ ও চাকরিচ্যুতির মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। তারপরও তিনি তার অবস্থান থেকে সরে যাননি। মত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্য তার আপসহীন ভূমিকা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সাংবাদিকদের অনুপ্রাণিত করবে।
তিনি আরও বলেন, আবদুস শহিদ শুধু নিজের পরিবার-পরিজনের ভালো জীবনের জন্য কাজ করেননি; সাধারণ মানুষের কল্যাণেও তিনি কাজ করেছেন। মানুষের স্বার্থে তিনি ব্যক্তিস্বার্থ ত্যাগ করতেও দ্বিধা করেননি। সততা, সাহসিকতা ও আপসহীনতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন তিনি।
ডিইউজের যুগ্ম সম্পাদক দিদারুল আলম দিদার বলেন, আবদুস শহিদ ছিলেন একজন সত্যিকারের জাতীয়তাবাদী, দায়িত্বশীল ও কর্মনিষ্ঠ সাংবাদিক। তিনি ছিলেন সৎ, সাহসী এবং চৌকস ফোরাম লিডার। অকপটে সত্য কথা বলার অসাধারণ ক্ষমতা ছিল তার।
স্মরণসভায় বক্তারা আবদুস শহিদের কর্মময় জীবন ও সাংবাদিকতায় তার অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার রক্ষায় তার ভূমিকা সাংবাদিক সমাজের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে। তার আদর্শ অনুসরণ করে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও নীতিনিষ্ঠ সাংবাদিকতা চর্চার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা।

