ঢাকাMonday , 24 August 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

৫১ পাসপোর্টসহ গ্রেফতার ৫
সৌদিতে ৮০০০০ টাকা বেতনে ড্রাইভিং ভিসার লোভ দেখিয়ে দেন ট্যুরিস্ট ভিসা

Link Copied!

‘সৌদি আরবে মাসে ২ হাজার ৫০০ রিয়াল বেতনে ড্রাইভিংয়ের চাকরি’- অনলাইনে এমন লোভনীয় বিজ্ঞাপন দেখে বিদেশে পাড়ি দেওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন এক যুবক। পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতার আশায় দালালচক্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। কিন্তু চাকরির বদলে পান ট্যুরিস্ট ভিসা। এরই মধ্যে পরিশোধ করেন ২ লাখ ৬৬ হাজার টাকা।

শুধু ওই ব্যক্তি নন, একই কৌশলে আরও কয়েকজনের কাছ থেকে প্রায় ১৯ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি মানবপাচার ও অভিবাসন প্রতারণা চক্রের বিরুদ্ধে। চক্রটির পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন- মো. শামীম (৪০), মো. রুহুল আমিন (২৪), মো. হৃদয় হাসান (২৬), আবু রায়হান (২৯) ও মো. সানি মিয়া (২৫)। তারা সবাই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৫১টি বাংলাদেশি পাসপোর্ট, তিনটি স্মার্টফোন ও কয়েকটি রেজিস্টার। সিআইডির মানবপাচার শাখা (টিএইচবি) ইউনিট গতকাল রোববার বিকেলে রাজধানীর বনানীর সৈনিক ক্লাব এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান জানান, ভুক্তভোগী অনলাইনে একটি বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানতে পারেন সৌদি আরবে ড্রাইভিং ভিসায় মাসিক ২ হাজার ৫০০ রিয়াল (প্রায় ৮১ হাজার টাকা) বেতনে চাকরির শতভাগ নিশ্চয়তা দেওয়া হচ্ছে। বিজ্ঞাপনে দেওয়া মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করলে চক্রের এক সদস্য ভুক্তভোগীকে বনানীর সৈনিক ক্লাব এলাকায় অবস্থিত অফিসে যোগাযোগ করতে বলেন।

পরে ভুক্তভোগীকে সৌদি আরবে ড্রাইভিং ভিসায় একটি কোম্পানিতে চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে মোট ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকার চুক্তি করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী বিদেশ যাওয়ার আগেই সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধের কথা বলা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় চক্রটি বিভিন্ন সময়ে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ব্যাংক ও নগদে মোট ২ লাখ ৬৬ হাজার টাকা গ্রহণ করে।

তবে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ড্রাইভিং ভিসা না দিয়ে তাকে সৌদি আরবের ট্যুরিস্ট ভিসা প্রদান করা হয়। বিষয়টি বুঝতে পেরে ভুক্তভোগী বনানী থানায় মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা করেন।

সিআইডির প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, চক্রটি একইভাবে বিভিন্ন দেশে পাঠানোর কথা বলে আরও কয়েকজন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে আনুমানিক ১৯ লাখ টাকা প্রতারণার মাধ্যমে গ্রহণ করে আত্মসাৎ করে। এছাড়াও বিদেশে কর্মসংস্থানের আকর্ষণীয় প্রস্তাব ও অনলাইন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে প্রলুব্ধ করে তাদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তির পাসপোর্ট সংগ্রহ ও নিজেদের হেফাজতে রেখে আসামিরা মানবপাচার ও প্রতারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল।

বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান বলেন, বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে সিআইডির মানবপাচার শাখা। মামলাটির তদন্তে গ্রেফতারদের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তি, পলাতক আসামি এবং চক্রটির দেশি-বিদেশি সহযোগী ও সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করতে সিআইডির তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

বিদেশে কর্মসংস্থান, অভিবাসন বা ভ্রমণের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রলোভনে পড়ে যাচাই-বাছাই ছাড়া অর্থ বা পাসপোর্ট হস্তান্তর না করতে দেশের নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সিআইডির এই কর্মকর্তা বলেন, বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে শুধু সরকার অনুমোদিত ও বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বৈধতা যথাযথভাবে যাচাই করার জন্য সবাইকে অনুরোধ করা হচ্ছে।

এছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ভিসা পাইয়ে দেওয়ার নামে অস্বাভাবিক অঙ্কের অর্থ দাবি করলে, পাসপোর্ট জিম্মি করে রাখলে অথবা ভিসা জালিয়াতি, মানবপাচার কিংবা অবৈধ অভিবাসনের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহ হলে দ্রুত নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অথবা সিআইডিকে অবহিত করার জন্যও অনুরোধ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।