ঢাকাSaturday , 22 August 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে দলগুলোর নীতি পরিবর্তন জরুরি: শামা ওবায়েদ

Link Copied!

রাজনৈতিক দলগুলোর মানসিকতা ও নীতিতে পরিবর্তন এনে তৃণমূল পর্যায়ে নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

তিনি বলেন, দেশের ৫০ শতাংশ নারীকে পিছিয়ে রেখে উন্নয়ন সম্ভব নয়। তৃণমূলের নারীদের ক্ষমতায়ন ও সরাসরি রাজনৈতিক অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়াতে হবে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে জাতীয় নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত হতে পারবেন তারা।

শনিবার (২২ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে রাজনৈতিক নেতৃত্বে তরুণ নারীদের ক্ষমতায়ন’ শীর্ষক সমাপনী সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। জার্মানভিত্তিক রাজনৈতিক ফাউন্ডেশন ফ্রেডরিখ এবার্ট স্টিফটুংয়ের (এফইএস) সহযোগিতায় সংলাপটি আয়োজন করা হয়।

সংলাপে শামা ওবায়েদ বলেন, শিক্ষা নারীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বাড়ায়। তবে রাজনীতি ও সমাজে অনলাইন হয়রানিসহ নানা বাধা এখনো রয়েছে। এসব মোকাবিলায় রাষ্ট্র ও সরকারকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। নারীদের সহায়তা করা একটি নীতিগত বিষয় হওয়া উচিত। তিনি বলেন, এই পথ কখনোই সহজ নয়। যত বাধাই থাকুক, নারীদের মেধা ও আত্মসম্মান নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাজনীতির জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সিজিএসের প্রেসিডেন্ট ও সংলাপের সঞ্চালক জিল্লুর রহমান বলেন, বিভিন্ন দল ও মতের নারীরা একসঙ্গে কাজ করেছেন- এটাই এ আয়োজনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। প্রকৃত অন্তর্ভুক্তির জন্য শুধু অংশগ্রহণ নয়, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সম্পদ ব্যবহারে নারীদের কার্যকর ক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, নারীরা যেন সমাজের সব ক্ষেত্রে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে কাজ করতে পারেন, সে জন্য মানুষের মানসিকতারও পরিবর্তন প্রয়োজন।

সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য জলি তালুকদার বলেন, সংরক্ষিত আসনে সরাসরি ভোটের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। অর্থ ও পেশিশক্তিনির্ভর রাজনীতি নারীদের এগিয়ে আসার পথে বড় বাধা। রাজনৈতিক নেতৃত্বের অনীহা, দলীয় কাঠামো এবং পরিবারে সম্পত্তিসহ সামাজিক বৈষম্য দূর করা না গেলে এর প্রভাব রাজনীতিতেও থেকে যাবে।

এবি পার্টির আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসরিন সুলতানা মিলি বলেন, নারী নেতৃত্ব হলো একটি দেশ ও সমাজ কতদূর এগিয়েছে তার গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড। রাজনৈতিক দলগুলোকে নারীদের জন্য কার্যকর সুযোগ তৈরি করতে হবে। নেতৃত্ব শুধু সংখ্যায় নয়, গুণগত ও অর্থবহ হতে হবে।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন বলেন, ছাত্ররাজনীতি থেকে জাতীয় রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। বড় রাজনৈতিক দলগুলো এখনো পরিবারতন্ত্রে আবদ্ধ এবং নতুন নারী নেতৃত্ব তুলে আনতে অনীহা দেখায়। সাইবার বুলিং প্রতিরোধেও রাজনৈতিক দলগুলোর আন্তরিকতা ও সক্রিয় ভূমিকা জরুরি।

সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসী বলেন, আদর্শগত পার্থক্য নির্বিশেষে নারীদের শক্তিশালী করাই এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। নারীর অধিকার কোনো দয়া নয়, এটি সামাজিক ন্যায়বিচারের অংশ। পরিবর্তিত ভূরাজনীতি, অর্থনীতি ও সামাজিক বাস্তবতায় বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।