সিলেট জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. নিয়াজুর রহমান এবং তাঁর স্ত্রী, সদর মেডিকেল অফিসার ডা. সুবর্ণা রায় তুলিকে নিয়ে গণমাধ্যমে টানা কয়েকটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর অবশেষে তাঁকে বদলি করা হয়েছে। রোববার (১৬ আগস্ট) পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের প্রশাসন পরিচালকের স্বাক্ষরে জারি করা এক আদেশে জানানো হয়, ডা. সুবর্ণা রায় তুলিকে সিলেট সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় থেকে সরিয়ে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় পাঠানো হচ্ছে। নতুন কর্মস্থলে তিনি মেডিকেল অফিসার (এমসিএইচ-এফপি) পদে দায়িত্ব পালন করবেন। আদেশে বলা হয়েছে, আগামী ১৮ আগস্টের মধ্যে তাঁকে বর্তমান কর্মস্থলের দায়িত্ব ছেড়ে দিতে হবে। এই সময়সীমা পার হয়ে গেলে ওই দিন বিকেলের পরই তাঁকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অবমুক্ত (Stand Released) ধরে নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, এর আগে ডা. তুলির কর্মস্থলে অনুপস্থিতি, প্রশাসনিক প্রভাব খাটানো, বদলি-পদায়ন বাণিজ্য এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধার অপব্যবহার নিয়ে একাধিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। এসব প্রতিবেদনে অনিয়মিত অফিস করা, অধস্তন কর্মচারীদের ওপর দাপট দেখানো, বদলি বাণিজ্যে জড়িত থাকা, সরকারি গাড়ি-জ্বালানির অপব্যবহার, প্রশিক্ষণে স্বজনপ্রীতি এবং অস্বাভাবিক সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ উঠে এসেছিল। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর তদন্তের উদ্যোগ নেয় এবং সরেজমিনে খতিয়ে দেখে প্রতিবেদন জমা দিতে একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ঠিক এই তদন্ত চলাকালীনই তাঁর বদলির আদেশ এলো। যদিও অফিস আদেশে বদলির কারণ হিসেবে কেবল “প্রশাসনিক কারণ”-এর কথা বলা হয়েছে, তবে অভিযোগ ওঠা ও তদন্ত শুরুর ঠিক পরপরই এই বদলি নিয়ে মহলে নতুন আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষত, তদন্তাধীন অভিযোগগুলোর ভবিষ্যৎ কী দাঁড়াবে—এই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বেশি ঘুরপাক খাচ্ছে সংশ্লিষ্ট মহলে।
নির্দেশ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তর করে জগন্নাথপুরে যোগদান সম্পন্ন করতে হবে ডা. সুবর্ণা রায় তুলিকে।

