বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্যাশলেস লেনদেন উদ্যোগের অংশ হিসেবে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে ‘বাংলা কিউআর’ চালু করেছে ব্র্যাক ব্যাংক। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরুল বাড্ডা ক্যাম্পাসে টিউশন ফি, ক্যাফেটেরিয়া, রিটেইল শপসহ বিভিন্ন ধরনের অর্থ লেনদেন নগদ অর্থ ছাড়াই সম্পন্ন করা যাবে।
আজ বৃহস্পতিবার ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ফাইন্যান্স অ্যান্ড অ্যাকাউন্টিং ক্লাবের শিক্ষার্থীদের সহায়তায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এ সেবার উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৈয়দ ফরহাত আনোয়ার, বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট ডিপার্টমেন্ট-১-এর পরিচালক এ.এন.এম. মইনুল কবির, পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট-২-এর পরিচালক মো. শরাফাত উল্লাহ খান এবং ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তারেক রেফাত উল্লাহ খান উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আরশাদ মাহমুদ চৌধুরী, কোষাধ্যক্ষ আরিফুল ইসলাম এবং ব্র্যাক বিজনেস স্কুলের ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ মুজিবুল হকসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি বাংলা কিউআর, ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা এবং ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তুলতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের উত্তর দেন।
বাংলা কিউআর দেশের একটি সমন্বিত কিউআরভিত্তিক পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম। এর মাধ্যমে যেকোনো ব্যাংক বা মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের (এমএফএস) গ্রাহক একটি কিউআর কোড স্ক্যান করেই তাৎক্ষণিকভাবে অর্থ পরিশোধ করতে পারবে।
ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, কীভাবে প্রযুক্তি আমাদের দৈনন্দিন লেনদেনকে আরো সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ করতে পারে—এ উদ্যোগ তার-ই প্রমাণ। দেশের প্রথম ক্যাশলেস ক্যাম্পাস চালুর যাত্রায় ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির অংশীদার হতে পেরে আমরা আনন্দিত। উদ্ভাবনী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল পেমেন্ট সেবার মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ স্বপ্নপূরণে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. সৈয়দ ফরহাত আনোয়ার বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ ও অর্থনীতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বাংলা কিউআর একটি সাহসী পদক্ষেপ। তবে এমন অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ নিশ্চিত করতে হলে সাধারণ মানুষের ইন্টারনেট কানেক্টিভিটি এবং স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহারের সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে, যা সামগ্রিক ডিজিটাল ইকোসিস্টেমের অন্য দুটি প্রধান স্তম্ভ।

