দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা শত শত উন্নয়ন প্রকল্পের ফাইল আর প্রশাসনিক স্থবিরতার দায়ে শেষ পর্যন্ত শাস্তি পেতে হলো জামালপুর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সরকার আব্দুল্লাহ-আল-মামুনকে। তাকে তাৎক্ষণিকভাবে স্ট্যান্ড রিলিজ করে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এর পরিচালক পদে পদায়ন করা হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক জরুরি প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে তাকে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে; অন্যথায় ওই দিন বিকেল থেকেই তিনি বর্তমান পদ থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) বলে গণ্য হবেন।
স্থবিরতায় নাকাল উন্নয়ন, জমেছিল ৭০০ ফাইল
জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবছর থেকে শুরু করে বিভিন্ন অর্থবছরের প্রায় ৭০০টি উন্নয়ন প্রকল্পের ফাইল প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে বছরের পর বছর ধরে লাল ফিতার দৌরাত্ম্যে আটকে ছিল। ফলে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে পৌরসভা ও ইউনিয়নের সড়ক, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, কালভার্টসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত কাজ পুরোপুরি থমকে যায়।
উন্নয়ন থমকে যাওয়ায় প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল জেলার লাখো মানুষকে। ভুক্তভোগী ঠিকাদার, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা একাধিকবার এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ জানান। অভিযোগের প্রেক্ষিতে পরিচালিত তদন্ত ও প্রশাসনিক পর্যালোচনায় কর্মকর্তা সরকার আব্দুল্লাহ-আল-মামুনের অবহেলা ও অনিয়মের সত্যতা মেলে।
এই ঝটিকা বদলির খবরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন জেলার সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষ।
জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক নিজের প্রত্যাশার কথা ব্যক্ত করে বলেন, ”দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর ফাইল আটকে থাকায় কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হয়েছে। আশা করছি, নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দায়িত্ব গ্রহণ করলে কাজের গতি ফিরবে এবং জট লেগে থাকা ৭০০ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।” স্থবির হয়ে পড়া প্রকল্পগুলোর কাজ নতুন কর্মকর্তা যোগদানের পর দ্রুততম সময়ে শুরু হবে—এমনটাই এখন প্রত্যাশা পুরো জামালপুরবাসীর।

