যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ীতে কপোতাক্ষ তীরে অবস্থিত মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্মৃতি বিজড়িত প্রাচীন স্থাপত্য নিদর্শনগুলো দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় জৌলুস হারাচ্ছে মধুপল্লী আর সরকার হারাচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব। প্রায় ৪ একর ৩৩ শতক জমির ওপর অবসি’ত মধুকবির জমিদার বাড়ির বিভিন্ন স্থাপত্য ও নিদর্শন নিয়ে স্থাপিত মধুপল্লী নানাবিধ সংকটে নিজের জৌলুস হারাতে বসেছে। পর্যটকদের বিনোদনের খোরাক মেটাতে এখানকার ছোট-বড় একাধিক স্থাপনা, মন্দির ও পুকুর ঘাট সংস্কার করা জরুরী হয়ে পড়েছে। ১৮৬৫ সালে তৎকালিন সরকার কবি ভক্তদের থাকার জন্যে চার শয্যা বিশিষ্ট একটি রেস্টহাউজ নির্মাণ করে। এই রেস্ট হাউজের একটি রুমেই করা হয় পাঠাগার। ১৯৬৬ সালে কবির বাড়িটি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের কাছে সরকার ন্যাস্ত করে। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ জমিদার বাড়ি, পুকুর সংস্কারসহ পুরো এলাকাটি পাঁচিল দিয়ে ঘিরে ফেলে। ১৯৯৮ সালে এর পুঃনসংস্কার কাজ শুরু হয়ে ২০০১ সালে শেষ হয়। এরপর দীর্ঘ দিনে দত্তবাড়ি, মন্দিরসহ প্রাচীন নিদর্শনগুলো সংস্কার না হওয়ায় এর জানালা, দরজা ভেঙে যাচ্ছে। ছাদেও ফাটল ধরেছে। নষ্ট হয়ে যাচ্ছে সংরক্ষিত আসবাবপত্রগুলো। কবির প্রসূতিস্থান খ্যাত ঘরটি এখন তুলসি গাছের ঠিকানা। মধুপল্লীর উন্নয়নে ১০ জুন ২০১৮ সালে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিখিল রঞ্জন রায় স্বাক্ষরিত বিটিবি যশোর-পর্যটন/২০১৮(৬৪২)/১৯৮০ নং স্মারকে ১ কোটি টাকা অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু অজানা কারনে বরাদ্ধ বাস্তবায়ন হয়নি। ৬/৭ মাস আগে মধুমেলাকে সামনে রেখে নামে মাত্র ঘষামাজার কাজ হলেও সংশিস্নষ্টদের নজর নেই মুল স্থাপনায়। যার ফলে জরাজীর্ন এই স্থাপত্য শুধু সৌন্দয্যই হারাচ্ছে না সাথে সরকার হারাচ্ছে লক্ষ-লক্ষ টাকার রাজস্ব। তাই দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলের সরকারি রাজস্ব আয়ের একমাত্র পর্যটন কেন্দ্রটি অতি দ্রুত সংস্কারের দাবি এই অঞ্চলের লাখো মানুষের। মধুপল্লীর কাস্টডিয়ান হাসানানুজ্জামান বলেন, মধুমেলায় প্রতি বছর ৫ থেকে ৬ লাখ দর্শনার্থীর আগমন ঘটে থাকে। এছাড়া সারা বছরজুড়ে দেশী বিদেশী পর্যটকরা মধুপল্লী ভ্রমণ করে থাকে। নানা সমস্যার কারণে পর্যটকরা দিনের আলো থাকতেই ফিরে যেতে বাধ্য হয়। দর্শনার্থীদের বিনোদন মেটাতে ও সরকারি রাজস্ব বাড়াতে মধুপল্লীর উন্নয়ন খুব জরুরী। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের রিজিওনাল ডাইরেক্টর (আরডি) মহিদুল ইসলাম বলেন, যশোরের সাগরদাঁড়ি মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাড়ি প্রতি বছরেই জন্ম জয়ন্তীর আগে কিছু কাজ করা হয় তবে সাগরদাঁড়িতে যে ভবনগুলো রয়েছে ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরে সেগুলাতে সব ধরনের সংস্কার কাজ করা হবে, এছাড়া একটি মেঘা প্রকল্প গ্রহণের কাজ অব্যহত রয়েছে, আশা করি এই মেঘা প্রকল্পের মাধ্যমে এর ব্যপক উন্নয়ন করা সম্ভব হবে।

