ঢাকাThursday , 2 July 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সিন্ডিকেটের স্বেচ্ছাচারিতায় চলছে ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি?
ঠিকাদার তালিকাভুক্তিতে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ, ক্ষোভ স্থানীয় ঠিকাদারদের

Link Copied!

বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের অধীন গ্রামীণ এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে (পবিস) মিনি ঠিকাদার তালিকাভুক্তি ও নবায়ন প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, গোপনীয়তা এবং আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ঠিকাদারদের অভিযোগ, যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাদ দিয়ে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে জেলার বাইরের নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। সূত্র থেকে জানা গেছে, স্বল্প দৈর্ঘ্যের লাইন নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও আপগ্রেডেশন কাজের জন্য গত বছরের মাঝামাঝি মিনি ঠিকাদারদের প্রাথমিক তালিকাভুক্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় মোট ১৭২টি আবেদন জমা পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন জেনারেল ম্যানেজার প্রথমে ৩১টি এবং পরে আরও ৮টিসহ মোট ৩৯টি প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত করেন, যাদের অধিকাংশই জেলার বাইরের। স্থানীয় ঠিকাদারদের দাবি, রংপুর জোনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবেদনকারী সব প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা যাচাই করে তালিকাভুক্তির নির্দেশনা দিলেও তা অনুসরণ করা হয়নি। বরং গোপনে ৩৯টি প্রতিষ্ঠানের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, রাজনৈতিক প্রভাব, তদবির এবং দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনকারী কয়েকজন কর্মকর্তার যোগসাজশে একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। তাদের দাবি, এই সিন্ডিকেটের কারণে যোগ্য স্থানীয় ঠিকাদাররা কাজ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং দুই জেলার বিদ্যুৎ উন্নয়ন কার্যক্রমও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ভুক্তভোগী হিসেবে দাবি করা আরাফাত এন্টারপ্রাইজ এর স্বত্বাধিকারী এনামুল হক বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ করে আসছেন এবং কাজের মান নিয়ে কখনো অভিযোগ ওঠেনি। এবারও সব নিয়ম মেনে আবেদন ও প্রয়োজনীয় ফি জমা দিলেও তাকে তালিকাভুক্ত করা হয়নি। তার অভিযোগ, সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম, ই অ্যান্ড সি) নাহিদ ইসলাম তাকে একটি বড় বিএনপি নেতার সুপারিশ আনার কথা বলেন, এরপর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে বলে জানান। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম, ই অ্যান্ড সি) নাহিদ ইসলাম অভিযোগের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো মন্তব্য করতে চাননি। ডিজিএম (কারিগরি) লুৎফুল হাসান সরকারের কাছে দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন এবং সিন্ডিকেটের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমার কাজের পারফরম্যান্সের কারণেই হয়তো কর্তৃপক্ষ আমাকে এখানে রেখেছে।” তবে ঠিকাদার নিয়োগে সিন্ডিকেটের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার আশরাফুল আলম খান বলেন, “মিনি ঠিকাদার নিয়োগের সার্কুলারটি আগেই শেষ হয়েছে। ১৭২টি আবেদনের বিপরীতে ৩৯টি প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত হয়েছে। অতীতে কীভাবে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছে, সে বিষয়ে আমার জানা নেই।” তবে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বা পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি নির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি। উল্লেখ্য, ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিরুদ্ধে অতীতেও ঘুষ বাণিজ্য, অতিরিক্ত ও তথাকথিত ‘ভূতুড়ে’ বিদ্যুৎ বিল, টেন্ডার অনিয়ম এবং সেবার মান নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনেও অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ঠিকাদার তালিকাভুক্তি প্রক্রিয়ায় পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ঠিকাদার ও সচেতন মহল।