ঢাকাThursday , 16 April 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পারমাণবিক কর্মসূচি ইসরায়েলের ক্ষেত্রে নীরবতা, যত চাপ ইরানের ওপর

Link Copied!

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি কঠোর নজরদারি, নিষেধাজ্ঞা ও কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যে রয়েছে। তবে বিপরীতে, ইসরায়েলের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকার ব্যাপারে ব্যাপক ধারণা থাকা সত্ত্বেও দেশটি প্রায় কোনো আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়ে না—এমন অভিযোগ উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পার্থক্য আন্তর্জাতিক আইন ও বৈশ্বিক রাজনীতির দ্বৈত মানদণ্ডকে সামনে নিয়ে এসেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ হিসেবে ইসরায়েলকে ধরা হলেও দেশটি কখনোই তা স্বীকার বা অস্বীকার করেনি। ধারণা করা হয়, ১৯৫০-এর দশক থেকেই ইসরায়েল পারমাণবিক সক্ষমতা গড়ে তোলে এবং বর্তমানে তাদের কাছে ৮০ থেকে ২০০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড থাকতে পারে।

ইসরায়েল পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তিতে (এনপিটি) স্বাক্ষর না করায় আন্তর্জাতিক পরিদর্শনের আওতায় পড়ে না। ফলে তাদের কর্মসূচি নিয়ে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

অন্যদিকে, ইরান এনপিটিতে স্বাক্ষরকারী দেশ এবং তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার তত্ত্বাবধানে রয়েছে। ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে—যেমন বিদ্যুৎ উৎপাদন ও চিকিৎসা খাতে ব্যবহারের জন্য।

২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির আওতায় ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সীমিত রাখে এবং আন্তর্জাতিক পরিদর্শনের সুযোগ দেয়। তবে ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার পর পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কাছাকাছি অবস্থায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে কংগ্রেসে জানানো হয়, ইরান বর্তমানে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে—এমন কোনো প্রমাণ নেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইসরায়েলকে পশ্চিমা মিত্র হিসেবে দেখা হয়, আর ইরানকে প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়—যার ফলে দুই দেশের ক্ষেত্রে ভিন্ন আচরণ করা হচ্ছে।

সমালোচকদের ভাষ্য, আন্তর্জাতিক আইন ও নিয়মকানুন সব ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে না। ইসরায়েলের ক্ষেত্রে নীরবতা বজায় রাখা হলেও ইরানের ওপর কঠোর চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে।