লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)’র চলমান মাদক ও চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযানে ভারতীয় মাদকদ্রব্য এবং আসামীসহ জ্বালানী তৈল জব্দ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)’র এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এমনটি জানিয়েছেন। লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় চলমান গোয়েন্দা তথ্য ভিত্তিক চোরাচালান বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে গংগারহাট বিওপি এবং কুলাঘাট বিশেষ ক্যাম্প কর্তৃক ২টি বিশেষ টহলদল পৃথক অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় মাদকদ্রব্য এবং অবৈধভাবে পাচারকালে ডিজেল তেল জব্দ করেছে। বিশ্বস্ত গোয়েন্দা সূত্রে বিজিবি জানতে পারে যে, চোরাকারবারীরা ভারতীয় মাদকদ্রব্য সীমান্ত দিয়ে পাচার করবে। উক্ত তথ্যের আলোকে বুধবার (৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টা ১৫মিনিটে গংগারহাট বিওপির আওতাধীন কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী থানার বিদ্যাবাগিস নামক স্থানে বিশেষ টহল পরিচালনার সময় কতিপয় সন্দেহজনক ব্যক্তিদের আসতে দেখে তাদের গতিবিধি লক্ষ্য করে ধাওয়া করলে চোরাকারবারীরা তাদের সাথে থাকা মালামাল ফেলে দৌড়ে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে চলে যায়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে তল্লাশী করে ভারতীয় ইস্কাফ সিরাপ ২১টি বোতল এবং ইয়াব ট্যাবলেট ৪শত ৫০পিছ জব্দ করা হয়। এছাড়াও মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাত ১১টা ৫০মিনিটে কুলাঘাট বিশেষ ক্যাম্পের আওতাধীন লালমনিরহাট জেলার লালমনিরহাট সদর থানার কুলাঘাট চেকপোষ্টে বিজিবি’র টহলদল সন্দেহজনক ব্যক্তিকে ইজিবাইক যোগে আসতে দেখে চ্যালেঞ্জ করে। পরবর্তীতে ইজিবাইকটি তল্লাশি করে ড্রামের মধ্যে থাকা ৫শত লিটার ডিজেল তেলসহ অভিযুক্ত ব্যক্তি মোঃ জামাল হোসেনকে আটক করতে সক্ষম হয়। সে কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী থানার নওয়াবাস গ্রামের মোঃ আব্দুল জলিলের ছেলে। লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর অধিনায়কের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জব্দকৃত ভারতীয় ইস্কাফ সিরাপ ২১টি বোতল, যার সিজার মূল্য ৮ হাজার ৪ শত টাকা এবং ইয়াবা ট্যাবলেট ৪ শত ৫০পিছ, যার সিজার মূল ১ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা এবং ডিজেল তেল ৫০০লিটার, যার সিজার মূল্য ৬০ হাজার টাকাসহ সর্বমোট সিজার ২ লক্ষ ৩ হাজার ৪শত টাকা। এছাড়াও উপরোক্ত ঘটনায় আটককৃত আসামীকে লালমনিরহাট সদর থানায় মামলা দায়েরপূর্বক হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও চোরাচালান চক্রের সংশ্লিষ্ঠ অন্যান্য চোরাকারবারীদের তথ্য সংগ্রহপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম পিএসসি বলেন, সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান দমন ও মানব পাচার প্রতিরোধে বিজিবি সব সময় আপসহীন। চোরাচালান মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে আমরা গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করেছি এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

