এক দশক আগেও বাংলাদেশের ব্যাংকিং কাঠামো ছিল ম্যানুয়াল। শাখায় এসে অ্যাকাউন্ট খোলা, চেকবইয়ের জন্য অনুরোধপত্রে স্বাক্ষর করা, সপ্তাহ দুয়েক অপেক্ষার পর চেকবই হাতে পেয়ে টাকা তোলার জন্য ব্যাংকে গিয়ে লাইনে দাঁড়ানো, এক কাউন্টার থেকে আরেক কাউন্টার যাচাই-বাছাই শেষে ক্যাশ কাউন্টার থেকে টাকা হাতে পাওয়া। অন্য অ্যাকাউন্টে, অন্য ব্যাংকের টাকা পাঠানো, ঋণ পাওয়াসহ অন্যান্য ব্যাংকিং সেবা পাওয়াও ছিল সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সেবাপ্রাপ্তির জটিলতার জাল ছিন্ন হয়েছে। ব্যাংকিং সেবা প্রাপ্তিকে সহজ করতে বাংলাদেশ ব্যাংক বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে। ই-কেওয়াইসির মাধ্যমে ঘরে বসেই অ্যাকাউন্ট খোলা যায়। টাকা উত্তোলনে চেকবইয়ের পরিবর্তে এখন ব্যবহৃত হচ্ছে এটিএম কার্ড ও মোবাইল অ্যাপ। যে কোনো সেবা মিলছে যে কোনো মুহূর্তে নিমিষেই। তবে প্রযুক্তির গতির জন্য দাড়ি, কমা নেই। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি জগতের অভাবনীয় অগ্রগতি এনেছে। ব্যাংকিং খাতের এআই ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে বিদ্যমান সময়সীমা ও জটিলতা আরও কমিয়ে আনা সম্ভব।
ব্যাংকিং খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক সেবা সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ করতে ব্যাংকিং খাতে বিভিন্ন ডিজিটাল উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছে। এখানে কয়েকটি সেবা সম্পর্কে আলোকপাত করা হলো-
বাংলা কিউআর : ‘বাংলা কিউআর’ এর মাধ্যমে গ্রাহকরা যে কোনো ব্যাংকের অ্যাপ বা এমএফএস ব্যবহার করে একটি কিউআর কোড স্ক্যান করেই পেমেন্ট করতে পারেন। এখানে লেনদেন করার জন্য চেকবই বা এটিএম বুথের প্রয়োজন পড়ে না।
ইন্টার অপারেবল প্ল্যাটফর্ম : বিভিন্ন ব্যাংক, এমএফএস এবং পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারদের মধ্যে আন্তঃলেনদেন সহজ করতে ‘বিনিময়’ প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়েছে। এর ফলে এক এমএফএস থেকে অন্য এমএফএসে বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পাঠানো সম্ভব।
এনপিএসবি : এনপিএসবি পদ্ধতির আওতায় বর্তমানে আন্তঃব্যাংক অটোমেটেড টেলার মেশিন (এটিএম), পয়েন্ট অব সেলস (পিওএস), ইন্টারনেট ব্যাংকিং ফান্ড ট্রান্সফার (আইবিএফটি) লেনদেন প্রক্রিয়া করছে। রাত-দিন ২৪ ঘণ্টা রিয়েল টাইমে অর্থ লেনদেন করা যায় এনপিএসবিতে।
বিইএফটিএন : বিইএফটিএন-এর মাধ্যমে একজন গ্রাহক তার নিকটাবর্তী যে কোনো একটি ব্যাংকের শাখা থেকে থেকে অতি অল্প সময় ও কম খরচে অন্য আরেকটি ব্যাংকের যে কোনো শাখায় টাকা পাঠাতে পারবেন। এটির মাধ্যমে ক্রেডিট ও ডেবিট দুই ধরনেরই লেনদেন করা যায়।
আরটিজিএস : এনপিএসবি ও বিইএফটিএন ছাড়াও আরেকটি পেমেন্ট সিস্টেম রয়েছে আরটিজিএস বা রিয়েল টাইম গ্রোস সেটেলমেন্ট সিস্টেম। এ পেমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের তাৎক্ষণিকভাবে গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো যায়। মূলত উচ্চমূল্যের চেক লেনদেন করতে আরটিজিএস ব্যবহার করা হয়।
মো. হারুন-অর-রশিদ, হেড অব পাবলিক অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড রিলেশন ডিপার্টমেন্ট, এনআরবিসি ব্যাংক পিএলসি”

