ঢাকাSaturday , 13 December 2025
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চাই মাদকমুক্ত সুস্থ সমাজ

Link Copied!

হাত বাড়ালেই দেশের যত্রতত্র সহজেই মিলছে মাদকদ্রব্য! সহজলভ্য মাদক সহজেই গিলছে খাদকরা। মাদকাসক্তরা পরিবার থেকে শুরু করে জনজীবনকে বিষিয়ে তুলছে। মাদকের নেশায় যুবসমাজ গোল্লায় যাচ্ছে। সর্বনাশা এই নেশায় আক্রান্ত হয়ে শিক্ষার্থীরো ভবিষ্যৎকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। যত্রতত্র হাতের নাগালে মাদক পাওয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা গাণিতিক হারে বাড়ছে।

সীমান্তের ওপার থেকে আসছে মাদকদ্রব্য। দেশের আর্থসামাজিক কাঠামোকে না নাড়িয়ে দিচ্ছে এটির কুফল। শহর-গ্রাম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান- কোথাও তরুণরা নিরাপদ নয়। হাতের নাগালে থাকা মাদক আজকাল এত সহজ হয়েছে যে, তরুণরা নিজের জীবন, আদর্শ ও মেধা, নৈতিকতা এবং ভবিষ্যৎকে নিকাষ কালো অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

মাদক কেবল একটি অপরাধ নয়; এটি আজকের বাংলাদেশের জন্য একটি গভীর রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক সংকট। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে এই তরুণ প্রজন্মের উপর। কিন্তু আশঙ্কার ব্যাপার হলো, মাদক, অপরাধ এবং সামাজিক অস্থিরতা তরুণ প্রজন্মকে ক্রমেই বিপন্ন করে তুলছে।

বাংলাদেশে মাদকের সবচেয়ে বড় উৎস হলো পাশের দেশ ভারত ও মিয়ানমার। ইয়াবা, আইস (ক্রিস্টাল মেথ), হেরোইন, ফেনসিডিলসহ অন্য মাদকদ্রব্য পরিকল্পিতভাবে সীমান্ত দিয়ে জোয়ারের পানির মতো বাংলাদেশে ঢুকছে। দীর্ঘদিন যাবৎ একটি চক্র মাদক আনছে। এর মধ্য দিয়ে পরিকল্পিতভাবে যুবসমাজকে ধ্বংস করা হচ্ছে।

ভারত সীমান্ত জুড়ে ফেনসিডিলের কারখানা রয়েছে। আর মিয়ানমার থেকে ইয়াবা, আইস (ক্রিস্টাল মেথ), হেরোইনসহ নানা ধরনের মাদকদ্রব্য। সীমান্ত দিয়ে এগুলো নিয়মিত আসছে। আসে নৌপথেও। সীমান্ত দিয়ে যা আসে, ধরা পড়ে এর সিকি ভাগ মাত্র।

বাংলাদেশে ইয়াবার সবচেয়ে বড় প্রবেশদ্বার টেকনাফ ও কক্সবাজার। এখানে ট্রলার, নৌকা, পাহাড়ি পথ এবং রাতের অন্ধকারে সাঁতরে মাদক আনা হয়। মাদক কারবারীরা অত্যন্ত চতুর। এরা স্থানীয় এজেন্টের মাধ্যমে এগুলো লোকালয়ে পৌঁছে দেয়। যাদের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে রাজধানী থেকে শুরু করে সারা দেশ।

মাদক উৎপাদন, পরিবহন, বিতরণ, সংরক্ষণ- সবকিছুই শাস্তিযোগ্য অপরাধ। মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুসারে-নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি ইয়াবা, হেরোইন, কোকেন, আইস বহন বা বেচাকেনা করলে মৃত্যুদন্ড বা যাবজ্জীবন পর্যন্ত সাজা হতে পারে। কিন্তু সাক্ষীর অভাবে অনেক ক্ষেত্রে তারা পার পেয়ে যায়।

রাজধানী ঢাকাসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলে মাদকের ছড়াছড়ি। চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার ৯ নং কড়িয়া ইউনিয়নের পরানপুর গ্রামে প্রতিটি বাড়িতে রাতে মদের আসর বসে। একই জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার বেলগর গ্রামে একজন ইউপি মেম্বারের নেতৃত্বে তার ভাই ও স্বজনরা মাদক ব্যবসায় যুক্ত। স্থানীয় প্রশাসন জেনেও না জানান ভান করছে। কেউ প্রতিবাদ করলে তাদের নানাভাবে হেনস্থা করা হয়। মামলা করেও প্রতিকার মিলছে না। আসামিরা বুক ফুলিয়ে অবাধে মাদক বিক্রি ও আসর জমাচ্ছে।

রাজধানীর মিরপুরের দারুস সালাম রোডের পার্ক ভিউ বারে সীমাহীন নৈরাজ্য বিরাজ করছে। মাদক গ্রহণে এখানে নিয়ম-নীতি মানা হচ্ছে না। বারটির আশপাশে সেবনকারীদের অবাধ হইচই, চিৎকার-চেঁচামেচি এবং নাচানাচির কারণে এখানের সামাজিক শৃঙ্খলা বিনষ্ট হচ্ছে। এ ব্যাপারে এলাকাবাসী যারপরনাই ত্যক্ত-বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ। কিন্তু এটি নিত্য ঘটনায় পরিণত হলেও দায়িত্বশীলদের টনক নড়ছে না।

সর্ষের মধ্যে ভূত থাকায় নাকি মাদক নির্মূলে কাক্সিক্ষত ফল আসছে না। সীমান্ত থেকে শুরু করে রাজধানী ঢাকার অলি-গলিতে সহজেই মাদক মিলছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মাদকের আধিক্যে সচেতন মানুষ হতাশ। সঠিক ও সুষ্ঠুভাবে তদারকি ও অভিযান পরিচালনা না হওয়ায় মাদক ভাইরাসের মতো সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছে। এতে নতুন প্রজন্ম আসক্ত হয়ে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই সর্বনাশা পথ থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করতে হবে।

দেশের যুুবসমাজকে মাদক মুক্ত রেখে দেশকে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। পাশাপাশি কাজ করতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। অভিজ্ঞ মহলের মতে, দায়িত্বপ্রাপ্ত অনেকেই নাকি এসব অনৈতিক ব্যবসার ছায়াসঙ্গী। নীতি-আদর্শহীন অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত। ফলে সুফল মিলছে না। মূলত সর্র্ষে ভূত থাকায় দেশ ও জাতিকে মাদক মুক্ত করা যাচ্ছে না। অথচ মাদক মুক্ত সমাজ কার না কাম্য। এই ব্যাপারে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্মোহ ও কার্যকর সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা জরুরি।