ঢাকাSaturday , 6 December 2025
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

এখনই পণ্য মূল্য কমানোর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি

Link Copied!

আসছে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি রোজা। রোজাকে সামনে রেখে আমাদের দেশে পণ্যমূল্য বাড়ায় একটি মহল। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে এমনটা চলে আসছে। একধরনের ব্যবসায়ী যেন এ জন্য মুখিয়ে থাকে। রোজার সময়ে অন্য দেশে যেখানে দ্রব্যমূল্য কমানো হয়, সেখানে আমাদের দেশে ঘটে উল্টো চিত্র।

রোজায় যে কয়েকটি পণ্য বেশি ব্যবহার হয়- এর মধ্যে খেজুর, ফল, লেবু, বুট, মুড়ি, ভূসি, ডাল, পিঁয়াজ, বেগুন, চিনি-গুড়, মাছ-গোশত অন্যতম। প্রতি বছর পাল্লা দিয়ে এই পণ্যগুলোর দাম বাড়ে। নির্দিষ্ট সময়ের আগে এগুলো আমদানী করা হলে অসৎ ব্যবসায়ীরা রোজাদারদের পকেট কাটার সুযোগ খুব একটা পায় না।

রমজান মাসে দীনদার মুসলমানদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। যারা এই সময়ে মজুদদারী করে, তাদের চিহ্নিত করে শক্ত হাতে সীমার মধ্যে থাকার উদ্যোগ নেওয়া দরকার। বরকতময় এই মাসে যেসব পণ্যের চাহিদা বেশি, সেসব পণ্যের আমদানি দ্রুত করতে হবে।

বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. গোলাম মাওলা বলেন, ভোজ্য তেলের মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়া কার্যত অকার্যকর হয়ে গেছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতি মাসে দাম পর্যালোচনা করার কথা। কিন্তু তা নিয়মিত করা হয় না। বিশ্ববাজারে দাম কমলেও আমদানিকারকরা কমাতে চান না, তবে দাম বাড়লে তারা বাড়ানোর চাপ দেন। মূলত দায়িত্বশীলদের অবহেলায় অসৎ ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেট বেপরোয়া।

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও ইতিপূর্বে ভোজ্যতেলের দাম একদফা বাড়ানো হয় কেজিতে ৯ টাকা। ৩ ডিসেম্বর আবার গণমাধ্যমে খবর এসেছে কেজিতে ১০ টাকা বাড়ানোর। যদিও বাণিজ্য উপদেষ্টা বলছেন সরকারের সঙ্গে আলোচনা না করে বাড়ানো হয়েছে। দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনটা বলা হলেও কোনো ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নজির নেই।

রমজান মাসে অনেক অমুসলিম দেশে খাদ্যপণ্যের দাম কমানো হয়। অথচ আমাদের ৮০ ভাগ মুসলমানের দেশে এক শ্রেণীর অসৎ ব্যবসায়ী ব্যবসার নামে ডাকাতি করে যেন। অবস্থা দেখে মনে হয়, তারা সারা বছর অপেক্ষায় থাকে রোজাদারদের পকেট অবাধে কাটার জন্য। রমজানে পিঁয়াজু বানাতে অতি ব্যবহার হয় যে পিঁয়াজ, নজরদারীর অভাবে সে পিঁয়াজ এখন ১৫০ টাকা কেজি। অথচ বাজারে নতুন পিঁয়াজ এসেছে। কোথাও ঘাটতি নেই। উৎপাদন হয়েছিল চাহিদার চেয়ে কয়েক লাখ টন বেশি।

রমজানের সময় অতি ব্যবহার হয়- এমন পণ্যের দাম সহনীয় রাখতে যার যার অবস্থান থেকে সতর্ক থাকা দরকার। যেসব ব্যবসায়ী পবিত্র এই মাসে অতি মুনাফায় ব্যস্ত থাকে, তাদের মধ্যে কম দামে বেশি বিক্রির সুফলের বার্তা পৌঁছে দিতে হবে। এতে ব্যবসায়ী ও খাদকরা সমান সুবিধা পাবেন।

রোজাদারদের খাবারের তালিকায় ইফতারে খেজুর, ফল, লেবু, বুট, মুড়ি, ভূসি, ডাল, ভ্যাসন, বেগুন, চিনি-গুড় বেশি ব্যবহার হয়। আর সেহরীতে একটু ভালো আয়োজনের জন্য মাছ-গোশতের চাহিদা বাড়ে। মাছ -গোশতের দাম খুবই চড়া। এগুলো অনেকটা নিম্ন আয়ের মানুষের নাগালে বাইরে।

এই সময়ে ব্রাজিল থেকে গরুর গোশত আমদানির সম্ভাবনা আছে। ব্রাজিলের পক্ষ থেকে আশ্বাস পাওয়া গেছে। এখন সে আশ্বাসকে কাজে লাগালে রোজাদারদের জন্য সোনায় সোহাগায় পরিণত হবে। আর ব্রাজিল থেকে গরুর গোশত আনলে কম দামের কারণে রোজাদারদের জন্য সুফল বয়ে আনবে।

রমজানের রোজকে সুন্দর, সুষ্ঠুভাবে পালন করতে গিয়ে পণ্যের অত্যধিক দামের কারণে রোজাদাররা যেন বিপাকে না পড়েন, দায়িত্বশীলদের সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া জরুরি। আর এই সময়ে পচা, বাসি ও ভেজাল খাবার থেকে রোজাদারদের পরিত্রাণ দিতে খাদ্য, বাণিজ্য ও ভোক্তা অধিকারের বাজার তদারকি অপরিহার্য।