ঢাকাSaturday , 29 November 2025
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

এ দেশে বলে-কয়ে কিছু ঘটে না

Link Copied!

ষড় ঋতুর শে হিসেবে বহুল পরিচিত প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশ। এই বড়ই বিচিত্র। এই দেশে কখন কি ঘটে। আগাম বলা মুশকিল। বাস্তবতা হলো, আমাদের ভাবার আগেই অবিশ্বাস্যভাবে ঘটনা ঘটে যায়। ঘটনার পর আমরা অবাক হই। হই বিস্মিত। আমরা প্রায়ই নানা ধরনের অঘটনের মুখোমুখি হই।
স্বাধীনতার আগে রাজনীতিবিদরে ব্যর্থতায় স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেন একজন মেজর। ঘোষণা আগে যা কেউ ভাবতেও পারেননি। মাত্র ৯ মাসে শে স্বাধীন হবে, কেউ কি ভেবেছিলেন? উত্তর না। স্বাধীনতার পর অভিসংবাদিত নেতা হিসেবে বীরের বেশে দেশে ফিরেন শেখ মুজিবুর রহমান। কিন্তু কয়েক বছর পরই তিনি পরিবারসহ নির্মমভাবে প্রাণ হারান। ঘটনার আগে কেউ এমনটা হবে, বিন্দুমাত্র ভাবেননি।
কল্পনার বাইরে জেলখানায় ঘটে জাতীয় চার নেতার হত্যাকান্ড। কালক্রমে সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আসেন স্বাধীনতার ঘোষক মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান বীর উত্তম। শৃঙ্খলাসহ দেশটাকে তিনি স্বনির্ভরতার দ্বারপ্রান্তে নিয়ে আসেন। ফিরিয়ে দেন গণমাধ্যম ও গণতন্ত্র। কিন্তু তাকেও প্রাণ হারাতে হয় পঞ্চম বাহিনীর দোসরদের হাতে।
বিচারপতি সাত্তারের নির্বাচিত সরকারকে বন্দুকের নলের মুখে হটিয়ে ক্ষমতায় আসেন তৎকালীন সেনা প্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। রাজনৈতিক দল ভাঙ্গার অপনজিরের পাশাপাশি দেশ গঠনে তার কিছুটা অবদান ছিল বটে। নব্বইয়ের ছাত্র আন্দোলনে তিনি ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন। কৃতকর্মের ফলস্বরূপ তাকে যেতে হয় জেলে। দেশের একজন সাবেক সেনাপ্রধান ও প্রেসিডেন্টকে জেলে যেতে হবে, তা কখনো কেউ ভাবেননি।
গণতন্ত্রের উত্তরণে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে ক্ষমতায় আসেন বিএনপি চেয়ারপারসন আপোষসহীন দেশনেত্রী খ্যাত খালেদা জিয়া। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ঠুনকো দাবিতে রাজপথে নৈরাজ্য করে জামায়াত ও আওয়ামী লীগ। ফলে দ্রুততম সময়ে সংসদ নির্বাচন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিল পাস করে মাত্র ১৫ দিনের মাথায় কাকতালীয়ভাবে বিএনপি সরকার বিদায় নেয়।
এরপর আসে শেখ হাসিনার সরকার। তারপর আবার খালেদা জিয়া সরকার গঠন করেন। পরিকল্পিতভাবে চরম নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশপ্রেমিকদের দল বিএনপিকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয় গেরিলা কায়দায়। আসে সেনা শাসন। দুই নেত্রীকে দেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য করার অপচেষ্টা চলে। দেশনেত্রী খ্যাত খালেদা জিয়া তাতে সায় দেননি। ফলে কাকতালীয়ভাবে জেলে নেওয়া হয় দুই দলের শীর্ষ দুই নেত্রীকে! সবাইকে অবাক করে চলে বিরাজনীতিকরণের প্রক্রিয়া। এরই মধ্যে সাবেক সেনাপ্রধান ও প্রেসিডেন্ট এবং প্রধানমন্ত্রীর সন্তান তারেক রহমানকে র্নিদয় নির্যাতন করে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়।
সেনা শাসকের সঙ্গে আঁতাত করে ক্ষমতায় আসেন শেখ হাসিনা। আগাম ঘোষণা দেন সেনা শাসনকে বৈধতা দেওয়ার। ফলে বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। র্পদার অন্তরালে শুধু নয়, দেশ ছেড়ে পালান সেনা শাসক গং। এরপর থেকে চলে আওয়ামী লীগের দুঃশাসন। যা একটানা চলে দীর্ঘ ১৬ বছর। ছাত্র-গণআন্দোলনে দেশ ছেড়ে পালায় ক্ষমতার আসনে জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসা ফ্যাসিবাদের দোসর শেখ হাসিনা। একের পর এক অবিশ্বাস্য ও অবাক করা ঘটনা এভাবেই দেশের রাজনীতিতে বিস্ময়ের জন্ম দেয়।
মূলত আমারে দেশের মাটি খুবই উর্বর। যে মাটিতে সোনা ফলে। যে মাটি পানি পেলে কাঁদায় পরিণত হয়। আর রোদে ফেটে হয় চৌচির। এই দেশের মানুষ খুবই আবেগপ্রবণ। তারা কখনো কাউকে মাথায় তোলে। শুধু মাথায় তুলেই শান্ত থাকে না, ধেই ধেই করে নাচেও। আবার মাথা থেকে ফেলেদাতে দু’বার ভাবে না। এমনই বিচিত্র আমাদের দেশ ও দেশের মানুষ।
রাজনীতি ও ক্ষমতার অলি-গলি কতটা পিচ্ছিল,দেশের সৃষ্টি থেকে এ পর্যন্ত আপামর জনতা অবাক-বিস্ময়ে তা প্রত্যক্ষ করে আসছে। দেখছে এককালের প্রভাব ও প্রতাপশালীদের করুণ বিদায় ও দুঃখজনক পরিণতি। ক্ষমতা যে চিরস্থায়ী নয়, এর মধ্য দিয়ে সে সত্য প্রতিষ্ঠিত হলেও অনেকেই সেখান থেকে শিক্ষা নেন না। অথচ অতীত থেকে শিক্ষা নিলে বিব্রত হতে হতো না। ঘটত না করুণ পরিণতি। এখনো যে বা যারা নিজেদের সবকিছুর উর্ধ্বে মনে করছেন, তাদেরও মনে রাখা উচিত-সবকিছুর শেষ আছে। অতএব সাধু সাবধান।