বাংলাদেশে সাংবাদিকতা একসময় ছিল সমাজের বিবেক, সত্য বলার শক্তিশালী অস্ত্র এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর অন্যতম সাহসী ক্ষেত্র। সাংবাদিকতা ছিল কেবল পেশা নয়- এটি ছিল এক ধরনের সামাজিক দায়বদ্ধতা, যেখানে সাংবাদিকরা ছিলেন রাষ্ট্র, সমাজ ও জনগণের বিবেক। তারা ছিলেন সত্য প্রকাশের অগ্রদূত, অবিচারের বিরুদ্ধে কলমের যোদ্ধা এবং গণমানুষের কণ্ঠস্বর। স্বাধীনতার পরও থেকে এই পেশার সঙ্গে জড়িত মানুষদের দেখা হতো সত্য, ন্যায় ও গণতান্ত্রিক আদর্শের ধারক হিসেবে। বিংশ শতকের শেষভাগ পর্যন্ত বাংলাদেশে মূলধারার সাংবাদিকরা সমাজে সম্মানিত শ্রেণি হিসেবে বিবেচিত হতেন। কিন্তু একবিংশ শতাব্দিতে এসে ২০২৫ সালের বাস্তবতায় সাংবাদিকতা এমন এক বহুমাত্রিক সংকটে নিমজ্জিত- যা শুধু সাংবাদিকদের জীবন ও নিরাপত্তার জন্য নয় বরং পুরো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্যও হুমকিস্বরূপ। এ পেশা এক গভীর ও বহুমাত্রিক সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে প্রযুক্তির অভূতপূর্ব বিস্তার, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সর্বব্যাপী উপস্থিতি ও যাচাইবিহীন তথ্যপ্রবাহ। অন্যদিকে রাজনৈতিক প্রভাব, অর্থনৈতিক চাপ, নিরাপত্তা ঝুঁঁকি এবং ভাষাগত অবক্ষয়- সব মিলিয়ে মূলধারার সাংবাদিকতা আজ এক কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি।
এক সময় সাংবাদিকের নাম শুনলেই মানুষের মনে ভেসে উঠত একজন সৎ, নির্ভীক এবং তথ্যনিষ্ঠ মানুষের প্রতিচ্ছবি। কিন্তু এখন হাতে একটি স্মার্টফোন, একটি ফেসবুক পেজ বা ইউটিউব চ্যানেল থাকলেই অনেকে নিজেকে ‘সাংবাদিক’ পরিচয় দিচ্ছেন। ফলে সংবাদ পরিবেশনে শুদ্ধ ভাষার অভাব, যাচাই-বাছাইহীন তথ্য ছড়ানো এবং জনমত গঠনে বিভ্রান্তির কারণে ‘সাংবাদিকতার’ সজ্ঞা পাল্টে যাচ্ছে! বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের ২০২৫ সালের জানুয়ারি রিপোর্ট অনুযায়ী- দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টালের সংখ্যা ৩,২০০-এর বেশি। অথচ এর মধ্যে কেবল ৩০% পোর্টাল নিয়মিত এবং নীতিমালা অনুসারে সংবাদ প্রকাশ করছে। বাকি বেশিরভাগই পরিচালিত হচ্ছে ব্যক্তিগত উদ্যোগে- যেখানে সম্পাদকীয় মানদ-, তথ্য যাচাই ও সংবাদ নীতির অভাব প্রকট থেকে প্রকটতর। এ প্রেক্ষাপটে ২০২৫ সালের সাংবাদিকতা বোঝার জন্য আমাদের ইতিহাস, প্রযুক্তিগত প্রভাব, রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং আন্তর্জাতিক তুলনা- সবকিছু একসাথে বিশ্লেষণ করার বিকল্প নেই।
বাংলাদেশের সাংবাদিকতার ইতিহাসকে আমরা তিনটি পর্যায়ে ভাগ করে দেখতে পারি- (ক) মুক্তিযুদ্ধ-পূর্ব ও মুক্তিযুদ্ধকালীন সাংবাদিকতা (খ) স্বাধীনতার পরের মূলধারার সাংবাদিকতা এবং (গ) ডিজিটাল যুগের সাংবাদিকতা। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় সাংবাদিকরা ছিলেন জাতির কণ্ঠস্বর। তৎকালীন দেশী-বিদেশি গণমাধ্যম যেমন- দৈনিক সংবাদ, ইত্তেফাক, দৈনিক বাংলা এবং বিবিসি, ভয়েস অব আমেরিকা- যুদ্ধের বাস্তব চিত্র বিশ্বে ছড়িয়ে দেয়। ওই সময় সাংবাদিকদের কাজ ছিল শুধু সংবাদ পরিবেশন নয় বরং স্বাধীনতার পক্ষে জনমত তৈরি করা। স্বাধীনতার পর থেকে নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত সাংবাদিকতা অনেকাংশে প্রিন্ট মিডিয়া কেন্দ্রিক ছিল। সাংবাদিকতা মানে তখন দৈনিক পত্রিকা, সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন, রেডিও এবং নব্বইয়ের দশকে আসা টেলিভিশন নিউজ। পেশায় প্রবেশ করতে হলে অভিজ্ঞ সিনিয়রের অধীনে প্রশিক্ষণ নিতে হত। সংবাদ যাচাই প্রক্রিয়া ছিল কঠোর আর প্রমিত ভাষার প্রতি ছিল বিশেষ যতœ। ২০০৮ সালের পর থেকে দেশে ইন্টারনেট ও স্মার্টফোনের প্রসার সাংবাদিকতার চরিত্র আমূল বদলে দেয়। ফেসবুক, ইউটিউব, অনলাইন নিউজ পোর্টাল সাংবাদিকতার নতুন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করলেও এর সাথে যুক্ত হয় যাচাইহীন তথ্যপ্রবাহ এবং তাড়াহুড়া করে ‘প্রথম হওয়ার’ প্রতিযোগিতা। আজ ২০২৫ সালে এসে এটি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে- যেখানে মূলধারার সাংবাদিকরা পাঠক-দর্শক-শ্রোতা ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন। ডিজিটাল যুগের ধাক্কায় মূলধারার সাংবাদিকতা খাবি খাচ্ছে। এ সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের দ্বিমুখী প্রভাব লক্ষ করা যাচ্ছে। ২০২৫ সালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম শুধু তথ্য প্রচারের মাধ্যম নয় বরং সংবাদ তৈরিরও একটি উৎস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে এ প্রক্রিয়ায় কিছু ইতিবাচক দিক থাকলেও নেতিবাচক প্রভাব ভয়াবহভাবে বাড়ছে। ইতিবাচক দিক বিবেচনায় দুর্ঘটনা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা বড় কোনো ঘটনার ছবি ও ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়া যায়। নাগরিক সাংবাদিকতার মাধ্যমে গ্রামের এক প্রান্তের ঘটনা মুহূর্তেই শহরের মানুষ জানতে পারছে। আগে যেখানে কেবল কয়েকটি পত্রিকা বা চ্যানেল খবর নিয়ন্ত্রণ করত, এখন নানা মত ও অভিমত সামনে আসছে। একই সঙ্গে এর নেতিবাচক দিকও রয়েছে। ডিজিটাল সিকিউরিটি এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী- ২০২৪ সালে বাংলাদেশে ফেসবুক ও ইউটিউব ভিত্তিক ভুয়া সংবাদ বা যাচাইহীন তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে ৪৮৭টি পেজ ও চ্যানেল বন্ধ করা হয়। অনেকে ব্যক্তিগত মতামতকে সংবাদ হিসেবে পরিবেশন করছেন। ভুল বানান, অশুদ্ধ বাক্য ও আঞ্চলিক ভাষার অনুপ্রবেশের আধিক্যে প্রমিত ভাষার সংকট প্রকট থেকে প্রকটতর হয়েছে। বাংলা ভাষা শুধু একটি যোগাযোগ মাধ্যম নয় বরং আমাদের সংস্কৃতি ও জাতিসত্তার অন্যতম প্রধান পরিচয়। অথচ বর্তমানের গণমাধ্যমগুলোতে ভাষাগত অবক্ষয় ও প্রমিত বাংলার সংকট চলছে। সাংবাদিকতায় প্রমিত ভাষার ব্যবহার অপরিহার্য। কারণ সংবাদ কেবল তথ্য নয়, এটি ইতিহাসের দলিলও হয়ে থাকে। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেখা যাচ্ছে, অনলাইন সাংবাদিকতার দ্রুত বিস্তার প্রমিত বাংলার প্রতি যতœ কমিয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশ ভাষা পরিষদের ২০২৪ সালের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে- দেশের ৫০০টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও ইউটিউব চ্যানেলের ৭২% সংবাদে প্রমিত বানান রীতি ভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে আঞ্চলিক উচ্চারণ ও শব্দের অতিরিক্ত ব্যবহার, ইংরেজি ও হিন্দি শব্দের অনধিকার প্রবেশ এবং বাক্য গঠনে অসংগতি এখন নিয়মিত ঘটনা। এর কারণ চিহ্নিত করতে গেলে দেখা যায়- অনেকেই সাংবাদিকতার প্রশিক্ষণ ছাড়াই সংবাদ পরিবেশন করছেন। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তাৎক্ষণিক প্রকাশের তাড়ায় বানান যাচাই করা হয় না। আঞ্চলিক ভাষা কখনো সাংস্কৃতিক সম্পদ হলেও সংবাদ পরিবেশনে এটির প্রভাব বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। ভাষার শুদ্ধতা নষ্ট হলে সংবাদপত্রের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুন্ন হয়। প্রমিত ভাষা হারিয়ে গেলে তা শুধু সাংবাদিকতার মান কমায় না বরং জাতির ভাষাগত ঐতিহ্যকেও দুর্বল করে। বাংলাদেশের গণমাধ্যম দীর্ঘদিন ধরে রাজধানী ও বড় শহরকেন্দ্রিক ছিল। তবে গত এক দশকে আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যমের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এতে স্থানীয় সমস্যার দ্রুত প্রচার পাচ্ছে, সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর তুলে ধরা যাচ্ছে এবং জাতীয় গণমাধ্যমের অগোচরে থাকা বিষয়গুলোকে আলোচনায় আনা যাচ্ছে। পক্ষান্তরে পেশাগত প্রশিক্ষণের অভাব স্পষ্ট হচ্ছে, পক্ষপাতদুষ্ট সংবাদ পরিবেশন করা হচ্ছে এবং অতিরঞ্জিত শিরোনাম ও তথ্য বিকৃতির হার বাড়ছে। মোবাইল ফোন, সস্তা ইন্টারনেট এবং লাইভ স্ট্রিমিং ফিচারের কারণে এখন অনেকেই নিজেদের ‘সাংবাদিক’ পরিচয় দিচ্ছেন- কিন্তু তাদের বড় অংশই সাংবাদিকতার মৌলিক নীতি, নৈতিকতা ও পেশাগত মানদ- সম্পর্কে অজ্ঞ। এর ফলে তৈরি হচ্ছে ‘গণমাধ্যমকর্মী’ নামের এক নতুন শ্রেণি- যারা আসলে বিনোদন, ব্যক্তিগত মতামত বা একতরফা প্রচারকেই ‘সংবাদ’ হিসেবে উপস্থাপন করার প্রয়াস পাচ্ছে। বাংলাদেশের সাংবাদিকতা আজ এক ক্রান্তিকালে দাঁড়িয়ে। প্রযুক্তি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক চাপের এই যুগে মূলধারার সাংবাদিকদের মর্যাদা, পেশাগত মান এবং স্বাধীনতা হুমকির মুখে। পক্ষে খবর দিলে পাওয়া যায় রাষ্ট্রীয় সুবিধা আর সমালোচনামূলক প্রতিবেদন করলে মামলা, হয়রানি বা চাকরিচ্যুতি, শারীরিক নির্যাতন এমনকি হত্যার ঘটনাও ঘটছে। দেশের সাংবাদিকরা চাঁদাবাজিসহ সন্ত্রাসী কর্মকা-ের পাশাপাশি প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দুর্নীতি উন্মোচন করতে গিয়ে চরম বিপদের মুখোমুখি হচ্ছেন। সত্য তুলে ধরার ক্ষেত্রে পদে পদে বাধা দেওয়া হচ্ছে। কথায় কথায় সন্ত্রাসীরা প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। এমনকি পুলিশ সদস্য বা অন্য সরকারি কর্মচারীদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশ পেলে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের ওপর সহিংসতা বাড়ছে। সন্ত্রাসীদের কথা না মানলে অনেক ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের নৃশংসভাবে হত্যাও করা হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার(৭ আগস্ট) রাতে গাজীপুরে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে উপর্যুপরি কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যার ঘটনায় দেশের বিভিন্ন মহলে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ সমাবেশ হচ্ছে।
ধানমন্ডিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের(টিআইবি) কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ‘কর্তৃত্ববাদী সরকার পতন-পরবর্তী এক বছর : প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের জুলাইয়ের মধ্যে দেশে ৪৯৬ জন সাংবাদিক হয়রানির শিকার হয়েছেন। অন্যদিকে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত সাত মাসে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে বাধা ও হামলায় আহত হয়েছেন ২৭৪ জন সাংবাদিক। টিআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনজন সাংবাদিক দায়িত্ব পালনকালে হামলায় নিহত হয়েছেন। তবে, এরই মধ্যে গাজীপুরে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। টিআইবি বলেছে, অন্তর্র্বর্তী সরকারের আমলেও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়নি। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) ও অধিকার এবং বিভিন্ন সংস্থার তথ্য বলছে- চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে দেশে ২৭৪টি হামলার ঘটনায় ১২৬ জন সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার হয়ে আহত হয়েছেন। এছাড়া গত বছরের ৯ আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৬৫টি ঘটনায় ৯৫ জন সাংবাদিক হামলায় আহত হন। এর বাইরে গত মার্চে রাজধানীতে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক নারী সাংবাদিক। মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট থেকে গত জুন পর্যন্ত ১৬৫ জন সাংবাদিক হামলা ও নাজেহালের শিকার হয়েছেন। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের(আসক) প্রতিবেদন অনুযায়ী- গত জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশে সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন, নিপীড়ন, মামলা ও হামলার ঘটনা ঘটেছে ১৯৬টি।
এহেন পরিস্থিতি বিবেচনায়, নিউজ পেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। নোয়াবের মতে টিআইবির সর্বশেষ প্রতিবেদনে গণমাধ্যম ও তথ্য প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে যে চিত্র ফুটে উঠেছে- তা দুঃখজনক। গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দুর্ভাগ্যজনকভাবে গত এক বছরে পূরণ হয়নি। সংবাদপত্র কিংবা গণমাধ্যমে ‘মব’ সৃষ্টি করে মালিকপক্ষকে হুমকি, ভয়ভীতি দেখানোর সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। গণমাধ্যমের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা সম্ভব হলে তা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ভিত আরো মজবুত করবে। অবস্থাদৃষ্টে ‘সাংবাদিক সুরক্ষা আইন’ এখন সময়ের দাবিতে পরিনত হয়েছে। একই সঙ্গে সাংবাদিক নির্যাতন বা হত্যার মতো ঘটনায় ট্রাইব্যুনাল গঠন করে বিচার নিশ্চিত করার দাবিও উঠছে।
বাংলাদেশে সাংবাদিকতা এক কঠিন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। প্রযুক্তির সুযোগ যেমন নতুন সম্ভাবনা এনেছে, তেমনি অপব্যবহার পেশার মর্যাদা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষুন্ন করছে। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, অর্থনৈতিক টানাপোড়েন, ভাষার অবক্ষয় এবং শারীরিক-আইনি হুমকি মিলিয়ে সাংবাদিকতা আজ এক ক্রান্তিকালে দাঁড়িয়ে আছে। তবুও যারা সত্যের পক্ষে কলম ধরেছেন, তাদের দায়িত্ব আরও বেড়েছে। রাষ্ট্র, গণমাধ্যম মালিক, সাংবাদিক সংগঠন ও সচেতন নাগরিক- সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে, যাতে সাংবাদিকতা আবার তার সেই গৌরবময় অবস্থানে ফিরে যেতে পারে। মূলধারার সাংবাদিকদের এখন কেবল তথ্য পরিবেশন নয় বরং সমাজকে বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা করাও দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ জন্য প্রয়োজন সঠিক প্রশিক্ষণ, নিরাপত্তা, ভাষার মানোন্নয়ন এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত স্বাধীন পরিবেশ।

