দেশের ২৬টি বিসিএস ক্যাডারে কর্মরত সরকারি কর্মকর্তাদের কাজের দক্ষতা ও চাকুরীর বয়সসীমা বৃদ্ধির সাথে পদোন্নতি প্রদান করা হয়। তবে পদোন্নতি যোগ্য কর্মকর্তার তুলনায় যদি পদোন্নতির পদ কম থাকে তবে বিভিন্ন ক্যাডারে সুপারনিউমারী পদ সৃজন করা হয় এবং এই সুপারনিউমারী পদের পদোন্নতি বিসিএস ব্যাচ ভিত্তিক হয়। স্বাস্থ্য ক্যাডার বরাবরের মত অধিকাংশ চিকিৎসক পদোন্নতি বঞ্চিত। লিস্ট এর পর লিস্ট হয় কিন্তু পদোন্নতির জন্য এলিজিবল হওয়ার পর ও মেডিকেল অফিসার হিসেবে কেটে যায় চাকুরী জীবন। দীর্ঘদিনের দাবীর প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবার সুপার নিউমারি পদোন্নতির উদ্যোগ গ্রহণ করে। উল্লেখ্য যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ২২/১০/২০২৪ইং তারিখের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসের ২৭ তারিখের মধ্যে সকল পদোন্নতি যোগ্য স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে যার কারণে অন্যায়ভাবে ৪৯২ জন চিকিৎসককে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এই ৪৯২ জন চিকিৎসক ৩৩তম বিসিএসের। একই বিসিএস ব্যাচের অধিকাংশকে সহকারী অধ্যাপক হওয়ার সুপারিশ করা হলেও এই ৪৯২ জনকে বৈষম্যের শিকার করা হচ্ছে। এই বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে ব্যাখ্যা জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে বলা হয় যে, উপজেলা ভিত্তিক হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট পোস্টের জন্য ৪৯২ জনকে সুপারিশ বঞ্চিত করা হয়েছে। এখানে উল্লেখ্য যে ৩৪ তম বিসিএস থেকে শুরু করে ৩৯ তম বিসিএস পর্যন্ত জুনিয়র কনসালটেন্ট হবার মত যথেষ্ট পদোন্নতি যোগ্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকার পরও ৩৩তম বিসিএসের অল্প কয়েকজনকে বঞ্চনার শিকার করা হচ্ছে। চাকুরির এগারো বছর পরেও ৩৩তম বিসিএসের অনেকেই এখনো পদোন্নতি বঞ্চিত। তাছাড়া এই ৪৯২ জনের অনেকেই দীর্ঘদিন যাবত জুনিয়র কনসালটেন্ট হিসেবে বিভিন্ন উপজেলায়় কর্মরত রয়েছেন।
এ ছাড়া এখানে স্বল্প মেয়াদি (২ বছর) উচ্চতর ডিগ্রি ধারী (ডিপ্লোমা/এম.সি.পি.এস ) ও দীর্ঘ মেয়াদী (৫ বছর) গবেষণা সম্পন্ন এম.এস/ এম.ডি/ এফ.সি.পি.এস ডিগ্রিধারী সবাইকে একই সাথে সহকারী অধ্যাপক পদের জন্য সুপারিশ করা হচ্ছে। যাতে দীর্ঘ মেয়াদি কোর্স করা চিকিৎসকগণ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গবেষণাসহ অধিক সময় ব্যায় করার পরও ফিট লিস্টে সিরিয়ালে পিছিয়ে পড়ছেন এবং বাদ পড়ার আশংকায় পড়ছেন। যেটাও এক ধরনের বৈষম্য। ডিপ্লোমা / এম. সি.পি.এস ধারী চিকিৎসকগণের সহকারী অধ্যাপক হতে নিয়মানুযায়ী বাধা না থাকলেও উনাদের অধীনে ট্রেইনী চিকিৎসকদের পোস্ট গ্রাজুয়েশন ট্রেনিং দেশে এবং দেশের বাইরে কোথাও গণ্য হয়না। স্বল্প মেয়াদি কোর্সের বিশেষজ্ঞদের অধীনে গবেষণা/ থিসিস করার ও সুযোগ থাকছেনা পোস্ট গ্রাজুয়েট ট্রেইনীদের। যা ভবিষ্যৎ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তৈরির পথে একটা বাধা হয়ে দাঁড়াবে। তাই প্রয়োজনে ডিপ্লোমা/এমসিপিএস চিকিৎসকদের জুনিয়র কনসালটেন্ট / সিনিয়র কনসালটেন্ট এরকম পদোন্নতি দিলে উপজেলা /জেলা লেভেলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ঘাটতি পুরন হওয়া সম্ভব। আর এমএস/ এমডি/এফ সিপিএস ধারী চিকিৎসকগণ একাডেমিক পোস্টে সহকারী অধ্যাপক / সহযোগী অধ্যাপক/অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পাবে। ফলে ভবিষ্যৎ বিশেষজ্ঞ প্রত্যাশী চিকিৎসকদের উচ্চ শিক্ষার দ্বার উন্মুক্ত থাকবে। তা না হলে সঠিক মূল্যায়নের অভাবে গবেষণাধর্মী দীর্ঘ মেয়াদী কোর্স করার আগ্রহ হারাবেন চিকিৎসকরা। তাছাড়া এতে চান্স পাওয়াও অনেকে বেশি কঠিন এবং শেষ করাও অনেক কষ্ট সাধ্য। সঠিক মূল্যায়ন না থাকলে এত শ্রম ও সময় ব্যয় করেও পদোন্নতিতে পিছিয়ে পড়ার গ্লানি তাদের আকড়ে ধরবে। পদোন্নতি বঞ্চিত এই ৪৯২ জন বিসিএস ক্যাডার (স্বাস্থ্য) প্রধান উপদেষ্টার পদক্ষেপ কামনা করেছেন।

