ঢাকাMonday , 10 February 2025
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ছোট বোনের লালসার শিকার বড় দুই বোন, প্রাণনাশের হুমকি।

Link Copied!

মায়ের জমির প্রতি লালসা থেকে মাকে জিম্মি করে দুই বোনকে ঠকিয়ে মায়ের জমি হাতিয়ে নিয়েছেন রানু বেগম(৫৫)। এমনকি মায়ের খেদমত আদর ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হয়েছে বড় মেয়ে রহিমা বেগম(৬১) ও মেজো মেয়ে মনোয়ারা বেগম(৫৯)।

ঢাকার রামপুরার পূর্ব হাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা মাফিয়া খাতুনের বড় মেয়ের নাম রহিমা খাতুন, মেজো মেয়ের নাম মনোয়ারা বেগম, ছোট মেয়ের নাম রানু বেগম। তিনি দীর্ঘদিন তার মেজো মেয়ে মনোয়ারা বেগমের কাছে থাকতেন, কিন্তু করোনা মহামারীর সময়ে চিকিৎসা সংক্রান্ত জটিলতা দেখা দিলে সেবা ও সুষ্ঠু পরিবেশের কথা বিবেচনায় সকলের সম্মতিতে ছোট মেয়ে রানু বেগমের কাছে চলে যান। তিনি ছোট মেয়ে রানু বেগমের বাসায় যাওয়ার পর হসপিটালে আনা-নেওয়া থেকে শুরু করে সকল সেবায় নিয়োজিত ছিলেন মেজো মেয়ে মনোয়ারা বেগম। বড় মেয়েও তাঁর খেদমত করতেন কিন্তু মেজো মেয়ে মায়ের সাথে ছোট মেয়ের বাসায় থাকতেন।

মেজো মেয়ে মনোয়ারা বেগম জানান, তিনি তাঁর ছোট বোনের বাসায় মায়ের কাছে থাকাকালীন সময়ে হঠাৎ জ্বরে আক্রান্ত হলে করোনা সন্দেহে তাঁকে তার নিজ বাসায় ফিরে যেতে বলেন ছোট বোন রানু বেগম। পরবর্তীতে ছোট বোনের কথায় মাকে রেখে মনোয়ারা বেগম নিজ বাসায় ফিরে আসেন।

সুস্থতা ফিরলে মনোয়ারা বেগম পূনরায় মাকে সেবা করবার উদ্দেশ্যে ছোট বোনের বাসায় যান, কিন্তু ছোট বোন রানু বেগম মনোয়ারা বেগমকে পুরোপুরি সুস্থ হননি বলে আখ্যা দিয়ে পূনরায় মনোয়ারাকে তার নিজ বাসায় ফিরে যেতে বলেন, মনোয়ারা আবার তার বাসায় ফিরে আসেন।

এভাবে বেশকিছু দিন পর মনোয়ারা তাঁর মায়ের সাথে যোগাযোগ করতে ছোট বোন রানুর সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে বাধে বিপত্তি।

সে সময় ছোট বোন রানু বেগম তাঁর মেজো বোন মনোয়ারার সাথে মোবাইলে বাজে ব্যবহার করে এবং মায়ের কাছে যেতে গেলে বাসার নিচ থেকে বাধা সৃষ্টি করে। মাকে দেখবার ও কথা বলবার আকুতিও শোনেননি ছোট বোন রানু বেগম, যতবারই রহিমা বেগম ও মনোয়ারা বেগম মায়ের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেন ততবারই ব্যর্থ হয়েছেন।

এভাবে দীর্ঘদিন পর একপর্যায়ে গিয়ে শুরু হয় নানা হুমকি ধামকি পরবর্তীতে বেড়িয়ে আসে আসল রহস্য, রহিমা বেগম ও মনোয়ারা বেগম জানতে পারেন তাঁর মায়ের সম্পত্তি গোপনে লিখে নিয়ে মায়ের জায়গায় বহুতল ভবন নির্মাণ করে তাঁদেরকে মায়ের থেকে আলাদা করা হচ্ছে।

এমনকি প্রতিনিয়ত হত্যার হুমকি ধামকি দেওয়া হচ্ছে, রানুর মেয়ে জামাই দবির(৪৫) সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সাহারা খাতুনের আত্মীয় হওয়ায় পুলিশি হুমকি ধামকির শিকার হন দুই বোন।

একপর্যায় মাকে দেখবার আশা ছেড়ে দেন দুই বোন রহিমা বেগম এবং মনোয়ারা বেগম। দীর্ঘদিন পর থানায় সাধারণ ডায়েরি করে গত ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ তারিখে মনোয়ারা পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে মাকে দেখবার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

অবশেষে পুলিশি সহোযোগিতায় মাতা মাফিয়া বেগমের জায়গায় নির্মিত নতুন ভবনের সামনে গেলেই পুলিশ সহ সকলের সাথে খারাপ ব্যবহার করেন রানু বেগম ও তাঁর পরিবার, একপর্যায়ে মনোয়ারা বেগম কে মারতে আসেন রানু বেগম। অবশেষে পুলিশ বাঁধা অতিক্রম করে ভেতরে প্রবেশ করলে দেখতে পান, বৃদ্ধ মাফিয়া বেগম কে বাহির থেকে ছিটকিনি দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে রানু বেগম ও তাঁর পরিবারের কাছ থেকে পুলিশ কোন সদুত্তর পায়নি বলে জানা যায়।

এখনও খ্যান্ত হননি রানুর পরিবার, গত ৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার আনুমানিক বিকাল ৪ টা ৫০ মিনিটের পর পাঁচ জন ডিবি পরিচয়ে মনোয়ারার বাসার সমস্ত জায়গায় তল্লাশি চালায় । রানুর জামাই মান্নান (৬০) পূর্বেও একাধিক বার ডিবি এনে ভয়ভীতি দেখিয়েছিলেন। মনোয়ারা বেগমের নিকটবর্তী স্বজনরা জনান জমির কারণে ঝুঁকিতে রয়েছে দুই বোনের জীবন।